হায়াতুল মুসলিমীন

হযরত বলেন, আমি হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির খাদেম ছিলাম তের বছর। হযরতের কাছে হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ‘হায়াতুল মুসলিমীন’ কিতাবের কথা বহুবার শুনেছি। হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির মৃত্যুর পর হরদুঈ হযরত আবরারুল হক সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে গেলাম। সেখানেও দেখলাম নিয়মিত এই কিতাবের তালীম হচ্ছে। কিতাবটা আপনাদের সবার বাড়িতে রাখবেন। একথা বলবেন না যে, পড়েছি বা পড়ে রেখে দিয়েছি। বরং বারবার দেখেন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

এ সপ্তাহের মাহফিল

এ সপ্তাহে হযরতের মাহফিলের সময়সূচিঃ

সোমবার, ৯ই সেপ্টেম্বর – উত্তরা (বাড়ী-৫৪, রোড-১৮, সেক্টর-৩)

বুধবার, ১১ই সেপ্টেম্বর – শ্যমলী (বাড়ী-৪৯/ক, পিসিকালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যমলী)

বৃহস্পতিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর – বাড়ি ১/খ, নীচ তলা,  রাস্তা ৭/এ, ঝিগাতলা ধানমন্ডি ঢাকা, ধানমন্ডি কে এফ সির বিপরীত একটু ভিতরে বাইতুত তাওয়াব আবাসিক এলাকা।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিকতর সুন্দর হতে পারে, যে কিনা আল্লাহর দিকে ডাকে।

এক মজলিসে হযরত বলেন, ‘এখন দ্বীনের কিছু কথা আলোচনা হবে। এটা অত্যন্ত দামী কাজ। বাহ্যিক কোনো আমল করা হচ্ছে না। কথা বলা হচ্ছে এবং শোনা হচ্ছে। এসময় কোনো নফল ইবাদত, নফল তিলাওয়াত এই আমলের চেয়ে বড় না। আমাদের আমলসমূহ কেমন করে ভাল হবে? এজন্য এই আলোচনাগুলো অত্যন্ত দামী। এটা দিলের খোরাক।

এখানে কথা বলা ও শোনাই আসল। পয়সা খরচের জায়গা এটা না। এটাই মূল। কুরআন মজিদের বিখ্যাত আয়াত,

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا

وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ৪১:৩৩

‘ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিকতর সুন্দর হতে পারে, যে কিনা আল্লাহর দিকে ডাকে।’

অর্থাৎ কুরআন মাজীদে আল্লাহ্‌র দিকে ডাকার জন্য যে কথা বলা হয়, সেকথা মুখের সবচাইতে বড় কথা, সবচাইতে বড় কাজ বলে অভিহিত করেছেন। কথা বিভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে। যেমন আযান। হযরত যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি, যিনি এই জামানায় অনেক বড় আলেম, আল্লাহ্‌র ওলী ছিলেন। তিনি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহর দিকে ডাকে মুয়াযযিন। একই কথা প্রতিদিন। মূল কথা حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ – নামাযের জন্য আস। আগে পরে অনেক ভুমিকা আছে। মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর কোনো শরীক নেই। মনে করিয়ে দেয়, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। তারপর বলে, حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ। এরপর উপসংহার, সত্যিকারের কামিয়াবী চাইলে মসজিদে আস। নামায হচ্ছে সবচেয়ে বড় কামিয়াবীর কাজ। উভয় জাহানের কামিয়াবী। সর্বাঙ্গীন সফলতা। কোনো নতুনত্ব নেই। প্রতিদিন একই কথা।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

শায়খে কাবীর

হযরত বলেন, মক্কা শরীফে হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি এশরাকের নামাযের পরও দেড়-দুই ঘণ্টা নফল নামায পড়তেন। সালাম ফিরিয়ে বলতেন, ‘আমার পিয়াস লাগছে।’ হযরত পিপাসা শব্দটি জানতেন না। আমি পেছনে বসে থাকতাম। ফল, সেভেনআপ এগিয়ে দিতাম। একবার চিন্তা করলাম, হযরতের এক রুকুই যখন পনেরো মিনিট;এর মধ্যে ফল কিনে ফিরে আসা যাবে। ফল কিনে যখন মসজিদে ঢুকতে গেলাম, দারওয়ান বাধা দিল। আমি বললাম, هَذَا لِشَيْخٍ كَبِيْرٍ جِدًا। দারোয়ান বলে উঠলো, رُحْৃ. اللهُ كَبِيْرٌ। অর্থাৎ, তুমি একজন শায়েখকে কাবীর (كَبِيْرٌ, বড়) বলছো কেন? আল্লাহ সবচেয়ে বড়। দেখেন! শিরকের বিষয়ে আরবরা কত আপোষহীন। এই লোকের জানা ছিল না যে, মানুষের সাথে কাবীর শব্দটি ব্যবহার করা যায়। কুরআনে এর ব্যবহার রয়েছে।

قَالُوا يَا أَيُّهَا الْعَزِيزُ إِنَّ لَهُ أَبًا شَيْخًا كَبِيرًا

‘তারা বলতে লাগল, হে আযীয, তার পিতা আছেন, যিনি খুবই বৃদ্ধ বয়স্ক।’

১২:৭৭

Facebooktwitterpinterestmailby feather

সন্তানের দ্বীনি শিক্ষা

এক কলেজের প্রিন্সিপাল হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতল্লাহি আলাইহির কাছে বাইআত ছিলেন। প্রিন্সিপাল গাহেবর ছেলে এবং ছেলের বউ দু’জনই চাকুরী করতেন। ছেলের বউ লন্ডনে দেড় বছরের একটি স্কলারশীপ পেলে তিনি আমাকে বললেন, ‘আমার পুত্রবধূ মাহরাম সাথে না নিয়ে একাকী লন্ডনে থাকবে, এটা আমি কখনোই মেনে নেব না। তাকে আমি হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে নিয়ে গেলাম। হযরত জিজ্ঞেস করলেন, ‘নাতি-নাতনী ক’জন?’ বলা হল, দুই ছেলে এক মেয়ে। হযরত বললেন, ‘সবর করেন। ছেলেকে দ্বীনি শিক্ষা দেন নাই কেন? এখন ভোগেন।’ আমার শোনা হযরতের মুখে এটাই সবচেয়ে কঠিন কথা। হযরত বললেন, ‘নাতি নাতনীদের দ্বীনি শিক্ষা দেন।’ আলহামদুলিল্লাহ পরবর্তী পর্যায়ে সেই ছেলের বউ দ্বীনদার হয়েছে। একই কথা আমি তাকে বলেছিলাম কিন্তু ফল হয় নাই। বড়দের মুখের কথার তাছীর আলাদা।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুুর আর আবরারুল হক হুজুরের নসিহত

হযরত বলেন, হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বারবার এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন,

وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ

مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ২:২৮১

‘ঐ দিনকে ভয় কর যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোনরূপ অবিচার করা হবে না।’ আখেরাতের অর্জন হচ্ছে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি কাজ যেভাবে করেছেন, হুবহু সেটা অনুসরণ করা।

হরদুঈ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই আয়াতটি বেশি বেশি পড়তেন,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ ৫১:৫৫

‘আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারকে উপকার করবে।’ আল্লাহ তা’আলা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেন, মনে করিয়ে দিলে বান্দার উপকার হবেই। কি মনে করিয়ে দিবে? হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তরীকার কথা মনে করিয়ে দিন। পুরোনো কথাই আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিন।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির বিনয়

হযরত বলেন, হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির বিনয় ছিল অকল্পনীয়। খুব কম কথা বলতেন। বেশিরভাগ সময় হয় নামায, তিলাওয়াত অথবা যিকির করতেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছে হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির খাদেম হয়ে তার জুতা নিয়ে ঘোরার। একটু সময় পেলেই হযরত নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নামায পড়তে চাইলে বলতেন, ‘জায়নামাযটা আছে নি?’ খাদেমের কাছে জায়নামায সবসময়ই থাকত। তবুও এটা বলতেন না ‘জায়নামাযটা দেন!’ কখনোই সরাসরি নির্দেশ দিতেন না। তাবলীগের ভাইয়েরা যেমন বলেন, যার যার ডাইনে চলি ভাই। কথাটা সরাসরি না বলে একটু ঘুরিয়ে বলেন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মুহাম্মাদিয়া মাখযানুল উলুম মাদরাসা

হযরত বলেন, ‘আমরা বুয়েট মসজিদে একটি নূরানী প্রাইমারী মক্তব করলাম। উস্তাদ ছিলেন একজন হাফেজ সাহেব। একদিন তিনি বললেন, ‘ছাত্র পেলে হাফেজী পড়াব কিনা?’ এভাবে হিফজখানা চালু হল। একদিন হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি-কে নিয়ে আসলাম। তিনি নাম দিলেন, ‘মাখযানুল উলুম মাদরাসা।’ খিলগাঁতে এই নামে একটি বড় মাদরাসা আছে। এজন্য আমরা কয়েকজন মিলে নামের আগে ‘মুহাম্মাদিয়া’ যোগ করলাম। তারপর আমরা হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুলল্লাহি আলাইহির কাছে গিয়ে বললাম যে, এটার নাম দিতে চাই ‘মুহাম্মাদিয়া মাখযানুল উলুম মাদরাসা’। তিনি চুপ রইলেন। নীরবতা সম্মতির লক্ষণ। এভাবে এই মাদরাসার নামকরণ হল।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

a site based on Islamic lectures of Hazrat Professor Muhammad Hamidur Rahman (DB)

প্রফেসর হযরত

FREE
VIEW