ইসলাম এবং সাইন্স, টেকনোলজি

হযরত বলেন, ‘আজ সাইন্স, টেকনোলজির নাম দিয়ে আমাদের ধোঁকা দেওয়া হয় বেশি। এখন সাইন্স এর যুগ, টেকনোলজির যুগ, আপনাদের এসব পুরাতন কথা চলবে না ইত্যাদি। অথচ আল্লাহর নেক বান্দারা আমাদের দেখাচ্ছেন যে, সাইন্স-টেকনোলজি একদিকে মানুষের আরামকে বাড়িয়েছে; আপনি এখানে বসে আছেন, মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে, আমাদের আরাম বাড়িয়েছে। অন্যদিকে অনেক বিষয়ে জ্ঞান বাড়িয়েছে। আল্লাহপাকই তার বান্দাদের এসব করার তাওফীক দিয়েছেন। তারা সাইন্স এবং টেকনোলজির মাধ্যমে আল্লাহর কুদরত আরও সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করছেন। কুরআন শরীফের সূরা আয-যারিয়াতে একটা ছোট আয়াত,

وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوْعَدُوْنَ

আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক, আর যা তোমাদের ওয়াদা করা হয়েছে।

যমীনের মধ্যে এই ছোট দানা থেকে পাতাটা কে বের করে? তোমাদের কোনো সাধ্য নেই পাতা বের করার। এখন বিজ্ঞানীরা বলে, আল্লাহপাক বলেছেন আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক। একটা তো সূর্যের প্রয়োজনীয়তা।

            আলো সূর্য থেকে আসে।

            তাপ সূর্য থেকে আসে।

            পানিও আকাশ থেকে আসে।

            বাতাস, এটাও আকাশে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, গাছের প্রতিটি পাতা একটি ফ্যাক্টরি। রাতে এই ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকে। সুবহান্নাল্লাহ। আমরা জানতাম, সূর্য আমাদের আলো দেয়, তাপ দেয়। কিন্তু আমাদের খাদ্যকণা তৈরীর জন্য যে সূর্যের অবদান কত বড়—আগে মানুষ এটা জানত না। এখন জানে। বাতাসের মধ্যে আছে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস। পরিমাণে একদম কম। মাত্র ০.০৩২%।

পাতার ক্লোরোফিল বাতাস থেকে এই কার্বন ডাই অক্সাইড নেয়। আর এর সঙ্গে সূর্যের আলো নেয়, যমীন থেকে পানি নেয়। এবারে গ্লুকোজ তৈরী করে। বিজ্ঞানীরা বলেন, সারা পৃথিবীর প্রতিটি পাতা, প্রতিটি খাদ্যকণা, প্রতিটি ঘাস, প্রতিটি গমের মধ্যে কার্বন আছে। কার্বন কোথা থেকে এল?

যমীনে কার্বন নেই। বলে যে, ঐ বাতাসের ০.০৩২% থেকে আসে। সারা দুনিয়ায় কত কার্বন আছে? আমেরিকান এনসাইক্লোপেডিয়া -এ আছে, সারা দুনিয়ায় দশ হাজার কোটি টন কার্বন আছে। কত সুবহান্নাল্লাহ বলবেন?

أَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنشِئُوْنَ

তোমরাই কি এর (লাকড়ির) গাছ উৎপাদন কর, না আমি করি?

তুমি চাষ কর, না আমরা চাষ করি? আমরা জানতাম যে, যমীন ফেঁটে গাছের পাতা বের করে। কিন্তু প্রতিটি পাতা যে একটা ফ্যাক্টরি, এটা জানতাম না।

বরগে দরখতানে সাবজ দার নাজরে হুঁশিয়ার

হারওরাক দফতাস্ত মারেফাত কিরদেখার

শেখ সাদীর কবিতা। আটশত বছর আগের কবিতা। প্রতিটি গাছের পাতা আল্লাহপাকের কুদরতের কারখানা। যদি কেউ নসিহত নিতে চায়, তবে তা নসিহতের জিনিস। আল্লাহপাক এখান থেকে নসিহত নেওয়ার তাওফীক দেন। আধুনিক মানুষ এর ধারে কাছে আসে না। তারা ধোঁকা দেয় এখন সাইন্স-টেকনোলজির যুগ, এখন কুরআন হাদীসের যুগ না। আহাম্মক!

Facebooktwitterpinterestmailby feather