না বুঝে কুরআন পড়ে লাভ কি

হযরত বলেন, ‘আমার আম্মা কুরআনে পাকের এমন আশেকা ছিলেন, বসে বসে কুরআন পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেলে দাঁড়িয়ে কুরআন পড়তেন। বারবার প্রশ্ন করা হয়, না বুঝে কুরআন পড়ে লাভ কি? হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির একটা ওয়াযই আছে এই বিষয়ের উপর। এই প্রশ্নটাকে নিয়ে ওয়ায করেছেন। বাংলায় প্রায় পঁচাশি পৃষ্ঠা। ওয়াযের নাম, ‘আলফাজুল কুরআন’।

আমি আমার নিজের গল্প বলি। আব্বাজান কুরআন শরীফ সুন্দর পড়তেন। ১৯৫৪ সালে ক্লাস টেন এ পড়ি। এ সময় তিনি খুব কুরআন পড়তেন। ফজরের আগে কুরআন পড়তেন। অফিসে থেকে সাধারণত আসরের পর বাসায় আসতেন। তখন কুরআন পড়তেন। মাগরিবের পর কুরআন পড়তেন। ইশার পর কুরআন পড়তেন। আমার এক শিক্ষকের কথায় আমি ডায়েরী লিখতাম। একদিন লিখেছি, ‘আব্বা এত কুরআন পড়ে!’

১৯৫৪ সালের প্রথম দিকে আমি কুরআনের তরজমা পাই। সূরা ইয়াসীনের আয়াত,

وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ৩৬:২২

‘আমার কি হল? আমি কেন তার ইবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন?’ এ আয়াতের তরজমা পড়ে খুব মজা পেলাম। তারপর থেকে তরজমা পড়া শুরু হল।

এমনিতে রোজ সকালে কুরআন পড়া আমার ডিউটি। কয়েকদিন পড়ি নাই। তরজমা পড়ি। আব্বা একদিন বললেন, ‘হামীদ! কুরআন শরীফ পড়স না?’ আমি বলে উঠলাম, ‘না বুঝে কুরআন পড়ে লাভ কি?’ এ কথা আমি আমার বাবাকে বলেছি। আমার আব্বাজান কিছুই বলেননি। আমাকে বকা, ধমক কিচ্ছু দেননি। আজকে সেই আমি এত বদলে গেলাম কিভাবে? এখানে উত্তরার বাড়িতে হিফযখানা করেছি হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল−াহি আলাইহির দু’আর বরকতে। এই বিল্ডিং এর একতলায় থাকতাম। দোতলায় অন্য ভাড়াটিয়া। দোতলা খালি হল। আমার মন চাইলো একটা মকতব করি। হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি এত মকতব মকতব করতেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথায় তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন,

خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ القران وَ عَلَّمَهُ

‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather