মালফুযাত সংকলন-১

১) হযরত নিজের কথা বলতে গিয়ে বলেন, একদিন হযরত মুমিনুল্লাহ সাহেব দামাত বারাকাতুহুম আমাকে বললেন, ‘আজ আপনি হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহির জুতা উঠাবেন।’ আমি জুতা উঠাতেই হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি মুমিনুল্লাহ সাহেবকে  বলে উঠলেন, ‘উনি আমার জুতা ধরলেন কেন?’ হযরত  মুমিনুল্লাহ  সাহেব দামাত বারাকাতুহুম বললেন ‘হুযুুর, উনি আপনাকে খুব মহব্বত করেন। দয়া করে খেদমতের অনুমতি দিন।’ এভাবেই হযরত মুমিনুল্লাহ  সাহেব দামাত বারাকাতুহুম আমাকে হযরত হাফেজ্জী হুযুুর  রহমাতুল্লাহি  আলাইহির সাথে জুড়ে দিলেন।

২) একজন ইংরেজি শিক্ষিত ভদ্রলোক ইমাম গাযালী রহমাতুল্লাহি  আলাইহির কিতাবাদি পড়ে দ্বীনের পথে অগ্রসর হয়েছেন। তিনি হযরতকে বিষয়টি জানালেন। হযরত বললেন, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বলতেন, দ্বীনের তলব সৃষ্টি করা এবং দ্বীন সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য ইমাম গায্যালী রহমাতুল্লাহি  আলাইহি এর কিতাব পড়া ঠিক আছে। কিন্তু তা দেখে আমল করা যাবে না। আমল করতে হবে একজন সমসাময়িক আল্লাহওয়ালাকে দেখে, তার পরামর্শ অনুযায়ী।’

৩)  হযরতকে জিজ্ঞেস কর হলো, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি কোন দরূদ শরীফ পড়তেন?’ হযরত বললেন, ‘বড় দরূদের মধ্যে দরূদে ইবরাহীম পড়তেন। ছোট দরূদের মধ্যে পড়তেন,

اللهم صَلِّ عَلي سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَ عَلَي اَلِ سَيِّدِ نَا مُحَمَّدٍ وَ بَارِكْ وَ سَلِّمْ

৪) হযরত বলেন, মাওলানা ফজলুল হক আমিনী রহমাতুল্লাহি  আলাইহি ছিলেন হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহির এক হাত। শাইখুল হাদীস মাওলানা আবদুল আজিজুল হক সাহেব ছিলেন হযরতের অন্য হাত। একবার এ দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে গেল। শাইখুল হাদীস রহমাতুল্লাহি আলাইহি লালবাগ থেকে চলে আসলেন। মোহাম্মদপুর এসে মুহাম্মাদিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করলেন। হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, ‘শয়তান বেশি সুবিধা করতে পারে নাই। আরেকটা মাদরাসা হয়ে গেল।’

৫) হযরতকে কেউ একজন জিজ্ঞেস করল, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি   আলাইহি তার অবিরাম যিকিরের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি কী যিকির করতেন?’ হযরত বললেন, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বেশিরভাগ সময় কুরআন পড়তেন।’

৬) হযরত বলেন, বিদআত থেকে বাঁচার একটিই উপায় হক্কানী উলামায়ে কেরামের সাথে সম্পর্ক রেখে চলা। এটা সব রোগের ঔষধ। হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি এবং হরদুঈ রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বারবার একই কথা বলতেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

৯:১১৯

‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সাদেকীনদের সাথে থাক।’ এই সাদেকীন কারা?  আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে যারা গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন, তারাই সাদেকীন। আমাদের সৌভাগ্যের প্রবেশ দ্বার খাঁটি আলেমের সাথে সম্পর্ক রেখে চলা। যে আজাদীর সাথে চলতে চাইবে, অপরিপক্ক জ্ঞান নিয়ে সে বিপদে পড়বে।

*’আত্মশুদ্ধির পাথেয়’ – বইটি থেকে সংকলিত

Facebooktwitterpinterestmailby feather