যিকির-২

হযরত বলেন, হাদীসে আছে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটি। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার। আপনি এখন রাস্তার মধ্যে পড়ছেন সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ। কত লোক যাচ্ছে-আসছে, আপনি তাকান না। রাস্তার মধ্যে লোকদের দিকে তাকিয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বললে সওয়াব বেশি হবে, নাকি ‘সুবহানাল্লাহ’ পড়লে বেশি সওয়াব হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটা। এই দুটোর মধ্যে মিল করার জন্য উলামায়ে কেরামের ব্যাখ্যার কাছে যেতে হবে।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমন বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটা, তেমনি মদিনা শরীফে তার প্রথম ওয়াযের কথা,

اَفْشُوْ السَّلَامَ وَأَطْعِمُوْا الطَّعَامَ وَصَلُّوْا بِالَّلْيلِ وَالنَّاسُ نِيَامُ تَدْخُلُوْا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ

‘মানুষকে বেশি বেশি সালাম দাও, মানুষকে বেশি বেশি খানা খাওয়াও এবং রাতের বেলায় নামায পড়, যখন সব মানুষ ঘুমিয়ে আছে। তাহলে বেহেশতে সালামের সাথে প্রবেশ করবে।’  মানুষকে খুব সালাম দাও। এটা বেহেশতি সম্ভাষণ। বেহেশতে সবাই সালামের সাথে প্রবেশ করবে। শুরুতেও সালাম, শেষেও সালাম। আপনাকে এখন বের করতে হবে, কোনটা আগে?

বাস যাচ্ছে, আযান হচ্ছে। হেলপার আযানের জবাব দিচ্ছে। সে বলল না, আজিমপুর, আজিমপুর। বহু প্যসেঞ্জার নামল না। কোনটা তার জন্য বেশি দরকার? অপনি বলবেন যে, আজিমপুর, আজিমপুর বললে তো নেকী হল না। আযানের জবাব দিলে নেকী হবে। আপনার এ কথাটাই ভুল। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ঐ ব্যক্তি যে শহরের অলিতে গলিতে চিৎকার করে বেড়াচ্ছে, ‘আছে কাগজ, পুরানো পাতিল।’ সে সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বললে লোকে বুঝবে কেমন করে যে সে কাগজ কিনবে? সে যদি হালাল রিযিকের নিয়তে কাগজ বলে, এটা সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ বলার সমান। তার ছেলে-মেয়ের জন্য হালাল রিযিকের জন্য কাগজ কাগজ  বলে, আজিমপুর আজিমপুর বলে। এটাতেই সে সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলার নেকী পাবে। আমাদের কাছে আসলে বলব, সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলাই নেকী হবে। আজিমপুর, আজিমপুর বললে নেকী হতে পারে না। এটার জন্য আপনাকে উলামাদের কাছে যেতে হবে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather