রমযান মাস কুরআনের মাস

হযরত বলেন, ‘কুরআনের আলোচনা সবচেয়ে দামি। সামনে আসছে রমযান। রমযান সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْ أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيْضًا أَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيْدُ اللهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيْدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلٰى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ

রমযান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা‘আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।

রমযান মাস, এ মাসেই নাযিল হয়েছে কুরআন। রমযান মাসের এত দাম কেন? কত দাম? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান শরীফ আসার দুমাস আগে থেকেই দু‘আ করতেন। রজব মাসের আগমন হলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটা দু‘আ পড়তেন,

اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْ رَجَبَ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ

হে আল্লাহ, আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসের বরকত দান করুন। আমাদেরকে রমযান মাসে পৌঁছে দিন।

অর্থাৎ রমযান মাস পর্যন্ত আমি যেন হায়াত পাই, আমি যেন সুস্থ থাকি। রোযাগুলো আমি যেন রাখতে পারি। এজন্য দুমাস আগে থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু‘আ করছেন। উম্মতকে শিক্ষা দিচ্ছেন। কত দামি মাস রমযান। সেই মাস সম্পর্কে কুরআনের ভিতর কি উক্তি,

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ

হে ঈমানদারেরা, তোমাদের জন্য রোযাকে ফরয করা হলো, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের উপর। যাতে তোমরা খোদাভীতি অর্জন করতে পার।

রমযান মাস সম্পর্কে কুরআনের আয়াত شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْ أُنزِلَ − ‘রমযান মাস, এ মাসেই নাযিল হয়েছে কুরআন।’ এটুকু বলেই কুরআনের তিনটি বিশেষণ বলেছেন আগে। তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পায়, সে যেন রোযা রাখে। রমযান অতি বড় নেকীর মাস। এই মাসে একটা আমলের দরজা সত্তর গুন বাড়ে। হাজার নফল, কোটি নফলও একটা ফরযের সমান না। আপনি ফজরের নামায পড়লেন না। সারারাত জেগে জেগে নফল ইবাদত করলেন Ñ সমান হবার প্রশ্নই আসে না। ফরযের দাম এত বেশি। কিন্তু রমযান মাসে নফলকে ফরযের মর্যাদা দেওয়া হয়। নেকী সত্তর গুন বেড়ে যায়। রমযান নেকী কামাই করার মাস।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather