হিজরত আর মুসআব ইবনে উমায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহু

হযরত বলেন, আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হিজরত করলেন। হিজরতের শুরু হলো কীভাবে? হিজরতের তিন বছর আগে মদীনার ছয়জন লোক মুসলমান হল। তার পরের বছর বারো জন মুসলমান হয়। তৃতীয় বছরে পঁচাত্তর জন মানুষ মদীনা থেকে এল। যে বছর বারো জন এসেছে, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দরখাস্ত করল, ‘আমাদের কুরআন শিক্ষা দেওয়ার জন্য একজন মুয়াল্লিম দেন’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাছাই করে তরুণ সাহাবী মুসআব ইবনে উমায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহুকে নির্বাচন করলেন। অনেক বড় বড় সাহাবীকে নির্বাচন না করে মদীনাবাসীদের অনুরোধে এই মুসআব ইবনে উমায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহুকে পাঠালেন। তিনি গেলেন।

মদীনায় প্রথম যে ছয়জন মুসলমান হয়েছিলেন, আসআদ ইবনে জুরারা রাযিয়াল্লাহু আনহু তাদের একজন। তার বাড়িতে মুসআব বিন উমায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহু জায়গীর ছিলেন। মুসআব ইবনে উমায়েরের কাজ কী? কুরআন মাজীদ শেখানো। এজন্য তাকে বলা হয় মুকরী। যারা তিলাওয়াত করেন, তাদের বলা হয় কারী। যিনি অন্যকে কেরাত শেখান তাকে বলা হয় মুকরী। এক বছরে তার মেহনতে মদীনার মধ্যে ইসলাম অকল্পনীয়ভাবে আগে বেড়ে গেল। আউস গোত্রের সর্দার সাদ ইবনে মুআয এবং খাযরাজ গোত্রের সর্দার সাদ ইবনে উবাদা মুসলমান হয়ে গেল একই দিনে।

পরের বছর পঁচাত্তর জন মীনার ময়দানে আকাবায় শপথ নিলেন। অর্থাৎ হিজরতের তিন বছর আগে আল্লাহপাক মদীনায় একটা নুতন দিগন্তের সূচনা করেন যার ফলে মুসআব বিন উমায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহু কুরআন শিক্ষক হিসাবে মদীনায় গমন করেন। আর তার এক বছর মেহনতের পরেই পরের বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হিজরত করেন। তাহলে হিজরতের রাস্তা খুলল কীভাবে? মুসআব ইবনে উমায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহুর কুরআন শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather