All posts by tousif

বিশ্বাস ও প্রত্যয়

وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُوۡقِنُوۡنَؕ‏
‘আখিরাতের উপর তাদের বিশ্বাস মজবুত।‘। হযরত মুফতী শফী (রহঃ) বলেন, এটি কুরআন শরীফের প্রথম পাতার আয়াত। ডান দিকে সূরা ফাতিহা, বাম দিকে সূরা বাকারা। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন,
الَّذِيۡنَ يُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡغَيۡبِ وَ يُقِيۡمُوۡنَ الصَّلٰوةَ وَمِمَّا رَزَقۡنٰهُمۡ يُنۡفِقُوۡنَۙ‏ ﴿﴾ وَالَّذِيۡنَ يُؤۡمِنُوۡنَ بِمَۤا اُنۡزِلَ اِلَيۡكَ وَمَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِكَۚ وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُوۡقِنُوۡنَؕ‏
‘যারা ঈমান আনে গায়ীবের উপরে, যারা নামায কায়েম করে, আর আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি সেখান থেকে যারা তাদের মাল খরচ করে। যারা ঈমান আনে তাতে, যা আপনার উপর নাযিল হয়েছে এবং আপনার আগে যা নাযিল হয়েছে। আর আখিরাতকে যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে।‘

মানে পূর্ববর্তী সব নবীদের উপরে আমাদের ঈমান। এখানে শেষ কথা হলো, আখিরাতের উপর তাদের বিশ্বাস মজবুত। হযরত মুফতি শফি (রহঃ) বলেন, এখানে আল্লাহ্‌ বলেননি, وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُؤۡمِنُوۡنَ । তিনি বলেছেন, وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُوۡقِنُوۡنَ । এখন এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য কী? يُؤۡمِنُوۡنَ শব্দ ব্যবহার করলে অর্থ হতো, আখিরাতের উপর বিশ্বাস করে আর يُوۡقِنُوۡنَ মানে দৃঢ়ভাবে মজবুত ভাবে, চরমভাবে বিশ্বাস করে। যেন এটি একটি প্রত্যয়। আমি যেন চোখে দেখছি। এরকম ভাবে আখিরাতে উপর বিশ্বাস করা তাঁরা। এই বিশ্বাস সাহাবীদের ছিলো। হযরত আলী(রাযিয়াল্লাহুতাআলা আনহু) বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূলের কাছে শুনে শুনে আখিরাতের উপর বিশ্বাস আলহামদুলিল্লাহ আমার এমন হয়েছে যে, দোযখ কেমন, জান্নাত্ কেমন- আজকে যদি স্বচক্ষে জান্নাত দেখি আর জাহান্নাম দেখি তা হলে আমার প্রত্যয়ে বিন্দুমাত্র বৃদ্ধি ঘটবেনা। আমাদের কি সে রকম ঈমান? আখিরাতে উপর তাঁদের বিশ্বাস অত্যন্ত মজবুত, ইয়াক্বীন করে তাঁরা। সুদৃড়ভাবে বিশ্বাসী তাঁরা।
একটি কথা হল, তাওহীদ। এক আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস। কোন রকমে কোন কিছুর সঙ্গে তাঁর কোন শরীক করা যাবেনা। দুই, রাসুলদের উপর বিশ্বাস। যদি কেউ বলে, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ মানি কিন্ত তাঁর আগের নবীদের মানি না – তা হলে হবে না তার ঈমান।
كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓٮِٕكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ
‘সকল ঐশী কিতাবের উপর ঈমান, সকল পূর্ববর্তী নবী তাঁদের সবার উপর বিশ্বাস।‘ কেন? তাঁরা একই ইসলাম নিয়ে এসেছেন। যুগে যুগে আল্লাহ্‌ তাআলা একই ইসলাম পাঠিয়েছেন। সেই ইসলামেরই সর্বশেষ ধাপ হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আর এর মূল কথা, তোমার প্রতিপালক তোমাকে অহেতুক তৈরী করেননি। তোমাকে তাঁর সামনে দাঁড়াতে হবে, এ কথাটি যদি প্রত্যয় হয়, তাহলে আচরণ হবে ভিন্ন। একটি হচ্ছে বিশ্বাস আর একটি হচ্ছে প্রত্যয়। প্রত্যয় শব্দটি বাংলায় ব্যবহার হয় অনেক বেশী মজবুত বিশ্বাস বুঝানোর জন্য। যেমন দেখলে মনে হয় যে, এই দেখলাম। এই পর্যায়ের বিশ্বাস। সাহাবীকেরামগণ এই বিশ্বাসের পর্যায়ে গিয়েছিলেন। যার জন্য আলী(রাযিয়াল্লাহু আনহু) ঐ কথা বলতেন।

-হযরতের বয়ান সংকলন ‘ইসলামের দাবী ও আমাদের বাস্তব জীবন’ থেকে সংগৃহীত

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

আল্লাহ্‌র উপর এক্বীন

আল্লাহ্‌র উপর এক্বীন

হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) –এর বিখ্যাত গল্প। তিনি বলেন যে, আমি তখন সাহরানপুরে পড়তাম। তুর্কিদের খুব দুরবস্থা। প্রথম মহাযুদ্ধের কথা। তখন সাহরানপুরে খুব বড় একটা মিটিং হলো। ঐ মিটিঙে খুব দোয়া হলো তুর্কিদের জন্য। সবাই মিলে সম্মিলিত দোয়া হলো। সবাই চলে যাওয়ার পরে আমিও আল্লাহর কাছে মাঠের কোণার মধ্যে কান্নাকাটি করে একলা দোয়া করলাম। অনেকক্ষণ দোয়া করলাম। তিন দিন পর খবর এল যে, তুর্কিদের জয় হয়েছে। আমার মনে হলো আল্লাহ পাক আমার দোয়া  কবুল করেছেন। হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) – এর কথা এরকম শিশুর মত সরল; ‘আমার দিলে কয় আমার দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন। সবার সঙ্গে দোয়া করার পরে আমি যে আবার একলা আল্লাহ্‌র কাছে কেঁদেছি।‘ আল্লাহ্‌র উপর কী রকম তাঁর এক্বীন! কী রকম সহজ-সরল কথা!

-প্রফেসর হযরতের বয়ান সংকলন ‘ইসলামের দাবী ও আমাদের বাস্তব জীবন হতে সংগৃহীত

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

সময়

সময়

(৭৬ঃ১) هَلۡ اَتٰى عَلَى الۡاِنۡسَانِ حِيۡنٌ مِّنَ الدَّهۡرِ لَمۡ يَكُنۡ شَيۡـٴً۬ـا مَّذۡكُوۡرًا‏

‘এসেছিল কি মানুষের জীবনে এমন একটা সময়, যখন সে কোন আলোচ্য বস্তই ছিলনা?’ প্রশ্ন দিয়ে শুরু, আসেনি কি মানুষের জীবনে এমন একটা মুহুর্ত, when he was not an object of even discussion? তার সম্পর্কে আলোচনার কোন প্রশ্নই আসতনা। আজ থেকে সত্তর-আশি বছর আগে কেমন ছিল আমাদের অবস্থা? আমরা কোন আলোচ্য বস্তই ছিলাম না!

আল্লাহ বলেন,

(৭৬ঃ২)  اِنَّا خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ نُّطۡفَةٍ اَمۡشَاجٍۖ نَّبۡتَلِيۡهِ فَجَعَلۡنٰهُ سَمِيۡعًۢا بَصِيۡرًا‏

‘আমি মানুষকে তৈরী করেছি  from mixed drops’. এখানে mixed drops মানে কি? এই নিয়ে তাফসিরকারকরা অনেক আলোচনা-চর্চা করেন। আমি এর মধ্যে যাচ্ছিনা। কুরআনের শাব্দিক তরজমা এরকম। তারপর তিন নম্বর আয়াত,

نَّبۡتَلِيۡهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيۡعًۢا بَصِيۡرًا‏

‘আমি তাকে পরীক্ষা করি। আমি তাকে দিয়েছি শোনার শক্তি, দেখার শক্তি।’ এটি হলো সূরা দাহর। The name of the sura is ‘Time’ because it starts with the word, দাহর  । O the readers of A Brief History Of Time!  look at the word, Allah has chosen! সূরার নাম কি? দাহর। অর্থ কি? কাল (Time)। দেয়ালে দেয়ালে লেখা নেই, সময়ের সাহসি সন্তানেরা-এখন যৌবন  যার, যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার। আর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এখন যৌবন যার, আল্লাহকে খুশী করার শ্রেষ্ঠ সময় তার। যিনি এ সত্তা দিয়েছেন, যিনি এ অস্তিত্ব দিয়েছেন, তাকে চেনা, তাকে জানা, তাকে অনুভব করা। সুতরাং সূরা দাহরে দাহর শব্দের মানে Time. কিন্ত একই Time শব্দ দ্বারা আল্লাহ সূরা জাসিয়ার মধ্যে অবিশ্বাসীদের কথা নকল করছেন,

مَا هِىَ اِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنۡيَا نَمُوۡتُ وَنَحۡيَا وَمَا يُهۡلِكُنَاۤ اِلَّا الدَّهۡرُ‌ؕ

‘এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কোন জীবন নেই। আমরা এখানেই মরি, এখানেই বাঁচি। কাল ছাড়া আর কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করে না।’ মানে ঐখানে time was ordinary time, আর এখানে time means my killer. সময় ছাড়া আর কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করে না। nothing but time destroys us। সময়ের সংগেই আমাদের আগমন, সময়ের সংগেই আমাদের যাত্রা, শেষ। খালাস। কিন্ত সে একদম ভুলে যায়- আল্লাহ বলেন,

(৩৯ঃ৭৭-৭৮)اَوَلَمۡ يَرَ الۡاِنۡسَانُ اَنَّا خَلَقۡنٰهُ مِنۡ نُّطۡفَةٍ فَاِذَا هُوَ خَصِيۡمٌ مُّبِيۡنٌ‏ ﴿﴾ وَضَرَبَ لَـنَا مَثَلًا وَّ نَسِىَ خَلۡقَهٗ‌

‘মানুষ কি দেখে না যে, নিশ্চই আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী। সে আমার সম্পর্কে এক অদভুত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে ভুলে যায় তার সৃষ্টিকে।’ He forgets his creation. তাকে আমি এক ফোঁটা বীর্য থেকে তৈরী করেছিলাম। মায়ের পেটের অন্ধকারে আমি তাকে তৈরী করেছিলাম।

(৩৯ঃ৬)خَلۡقًا مِّنۡۢ بَعۡدِ خَلۡقٍ فِىۡ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ‌

Creation after creation in the midst of three darkness, এই রকম অবস্থায় তাকে আমি তৈরী করেছিলাম। তার চোখ, তার কান, তার নাক – যেগুলো নিয়ে সে দুনিয়াতে ঘুরে বেড়ায়, গর্ব করে, সেই faculty গুলো আমি তৈরী করেছি কোথায়? কিন্ত সে আমারই সামনে প্রকাশ্যে ঝগড়া করে।

(৩৬ঃ৭৮)قَالَ مَنۡ يُّحۡىِ الۡعِظَامَ وَهِىَ رَمِيۡمٌ‏

সে বলে, এসব হাড়গোড় মাটিতে মিশে গেলে আবার কে এগুলোকে সৃষ্টি করবে?’

-হযরতের বয়ান সংকলন ‘তাযকিরাতুল আখিরাহ’ থেকে সংগৃহীত

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

A beautiful verse about spending

There is a beautiful verse in the Quran,

وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ

‘They ask you, O my dear Prophet, what they should spend? Tell them, the excess.’  The question asked by the Muslims was, what should we spend? Allah gives the answer, say, “the excess”. Now how do you define the excess? You are earning ten thousand but your expenditure is ten thousand plus. You say, “I have to borrow some money every month. My family does not run!” Another fellow who earns two thousand taka but he runs his family in such a manner that he spends every month five hundred taka for the poor people in his village. Islam leaves it upon the person. He has been given the full freedom to earn but at the same time he is asked by his creator spend your excess for the poor. Islam does not force something but it asks you in a manner appealing to your intellect.

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

মসজিদে মহিলাদের গমন

হযরত বলেন, এক মহিলা সাহাবা বলেন, ‘মসজিদে নববীর বেড়া খেজুর পাতার বেড়া। আমার বাড়ির বেড়া ছিল মসজিদের বেড়ার পর। আমি দুপুর বেলার রুটি বানানোর জন্য আটা গুলতাম। এই সময় জুমার জামাত দাঁড়াত। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার বয়ানের মধ্যে বলতে গেলে পুরো সূরা ক্বাফ আবৃত্তি করতেন। তাঁর মুখে শুনে শুনে আমার সূরা ক্বাফ মুখস্থ হয়েছে।’ এখান থেকে একটা বিষয় বের হয়। মসজিদের পাশেই মহিলা সাহাবি। তিনি কেন পুরুষের সাথে নামাযে আসলেন না। আমরা মসজিদে মহিলাদের জন্য পৃথক ঘর বানাই। এজন্য যদি নামাযের ঘর বানানো হয় যে পথিক মহিলারা নামাযের জন্য জায়গা পান না, তাহলে ঠিক আছে। কিন্ত আমরা যেভাবে ঢালাও ভাবে Encourage করি, এটা নাই।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

মালফুযাত

একজন আলেম শাইখুল হাদিস যাকারিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর আপবীতি থেকে কিছু অংশ পড়ে শোনালেন। শায়েখের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর, নিজের মেয়েক দাফন করে যাকারিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর শ্বশুর কবরস্থান থেকে ফেয়ার পথে তাঁর চাচা হযরত ইলিয়াস রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কে বললেন, ‘যাকারিয়ার বয়স কম। তাঁর আবার বিয়ের বন্দোবস্ত করেন। দেরি করবেন না। একটি উপযুক্ত সম্মন্ধ দেখেন। আমি নিজে সেখানে কথা বলব। হযরত বলেন, আমাদের দেশে কোন ব্যক্তির স্ত্রী মারা গেলে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখা হয়। যেন এটা অত্যন্ত জঘণ্য কাজ। কবীরা গোনাহের চেয়ে খারাপ। আমাদের সামনে অনেক সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। ছেলে মেয়ে কিছুতেই মানবেনা। আমার মায়ের জায়গায় আরেকজন আসবে আমরা কিছুতেই তা হতে দেব না। অথচ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরুষদের স্ত্রীহীন অবস্থায় একা থাকা পছন্দ করতেন না।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

‘দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য জাহাজসমূহ তাঁরই (নিয়ন্ত্রনাধীন)’

হযরত বলেন, ‘একজন বলে আমি এই-এইভাবে সাধনা করে এত সম্পত্তির মালিক হয়েছি। আল্লাহ্‌ বলেন, আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা থেকে খরচ কর।’ আমি বলি, এ সম্পত্তি আমার। আর আল্লাহ্‌ বলেন সম্পত্তি আল্লাহর। সূরা আর রাহমানে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,

[55:24]  وَلَهُ ٱلۡجَوَارِ ٱلۡمُنشَـَٔاتُ فِى ٱلۡبَحۡرِ كَٱلۡأَعۡلَـٰمِ

‘দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য জাহাজসমূহ তাঁরই (নিয়ন্ত্রনাধীন)’। অথচ বান্দা বলে এটা আমার।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather