All posts by tousif

সন্তানের দ্বীনি শিক্ষা

এক কলেজের প্রিন্সিপাল হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতল্লাহি আলাইহির কাছে বাইআত ছিলেন। প্রিন্সিপাল গাহেবর ছেলে এবং ছেলের বউ দু’জনই চাকুরী করতেন। ছেলের বউ লন্ডনে দেড় বছরের একটি স্কলারশীপ পেলে তিনি আমাকে বললেন, ‘আমার পুত্রবধূ মাহরাম সাথে না নিয়ে একাকী লন্ডনে থাকবে, এটা আমি কখনোই মেনে নেব না। তাকে আমি হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে নিয়ে গেলাম। হযরত জিজ্ঞেস করলেন, ‘নাতি-নাতনী ক’জন?’ বলা হল, দুই ছেলে এক মেয়ে। হযরত বললেন, ‘সবর করেন। ছেলেকে দ্বীনি শিক্ষা দেন নাই কেন? এখন ভোগেন।’ আমার শোনা হযরতের মুখে এটাই সবচেয়ে কঠিন কথা। হযরত বললেন, ‘নাতি নাতনীদের দ্বীনি শিক্ষা দেন।’ আলহামদুলিল্লাহ পরবর্তী পর্যায়ে সেই ছেলের বউ দ্বীনদার হয়েছে। একই কথা আমি তাকে বলেছিলাম কিন্তু ফল হয় নাই। বড়দের মুখের কথার তাছীর আলাদা।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুুর আর আবরারুল হক হুজুরের নসিহত

হযরত বলেন, হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বারবার এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন,

وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ

مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ২:২৮১

‘ঐ দিনকে ভয় কর যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোনরূপ অবিচার করা হবে না।’ আখেরাতের অর্জন হচ্ছে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি কাজ যেভাবে করেছেন, হুবহু সেটা অনুসরণ করা।

হরদুঈ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই আয়াতটি বেশি বেশি পড়তেন,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ ৫১:৫৫

‘আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারকে উপকার করবে।’ আল্লাহ তা’আলা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেন, মনে করিয়ে দিলে বান্দার উপকার হবেই। কি মনে করিয়ে দিবে? হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তরীকার কথা মনে করিয়ে দিন। পুরোনো কথাই আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিন।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির বিনয়

হযরত বলেন, হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির বিনয় ছিল অকল্পনীয়। খুব কম কথা বলতেন। বেশিরভাগ সময় হয় নামায, তিলাওয়াত অথবা যিকির করতেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছে হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির খাদেম হয়ে তার জুতা নিয়ে ঘোরার। একটু সময় পেলেই হযরত নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নামায পড়তে চাইলে বলতেন, ‘জায়নামাযটা আছে নি?’ খাদেমের কাছে জায়নামায সবসময়ই থাকত। তবুও এটা বলতেন না ‘জায়নামাযটা দেন!’ কখনোই সরাসরি নির্দেশ দিতেন না। তাবলীগের ভাইয়েরা যেমন বলেন, যার যার ডাইনে চলি ভাই। কথাটা সরাসরি না বলে একটু ঘুরিয়ে বলেন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মুহাম্মাদিয়া মাখযানুল উলুম মাদরাসা

হযরত বলেন, ‘আমরা বুয়েট মসজিদে একটি নূরানী প্রাইমারী মক্তব করলাম। উস্তাদ ছিলেন একজন হাফেজ সাহেব। একদিন তিনি বললেন, ‘ছাত্র পেলে হাফেজী পড়াব কিনা?’ এভাবে হিফজখানা চালু হল। একদিন হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি-কে নিয়ে আসলাম। তিনি নাম দিলেন, ‘মাখযানুল উলুম মাদরাসা।’ খিলগাঁতে এই নামে একটি বড় মাদরাসা আছে। এজন্য আমরা কয়েকজন মিলে নামের আগে ‘মুহাম্মাদিয়া’ যোগ করলাম। তারপর আমরা হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুলল্লাহি আলাইহির কাছে গিয়ে বললাম যে, এটার নাম দিতে চাই ‘মুহাম্মাদিয়া মাখযানুল উলুম মাদরাসা’। তিনি চুপ রইলেন। নীরবতা সম্মতির লক্ষণ। এভাবে এই মাদরাসার নামকরণ হল।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

যিকির-২

হযরত বলেন, হাদীসে আছে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটি। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার। আপনি এখন রাস্তার মধ্যে পড়ছেন সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ। কত লোক যাচ্ছে-আসছে, আপনি তাকান না। রাস্তার মধ্যে লোকদের দিকে তাকিয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বললে সওয়াব বেশি হবে, নাকি ‘সুবহানাল্লাহ’ পড়লে বেশি সওয়াব হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটা। এই দুটোর মধ্যে মিল করার জন্য উলামায়ে কেরামের ব্যাখ্যার কাছে যেতে হবে।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমন বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটা, তেমনি মদিনা শরীফে তার প্রথম ওয়াযের কথা,

اَفْشُوْ السَّلَامَ وَأَطْعِمُوْا الطَّعَامَ وَصَلُّوْا بِالَّلْيلِ وَالنَّاسُ نِيَامُ تَدْخُلُوْا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ

‘মানুষকে বেশি বেশি সালাম দাও, মানুষকে বেশি বেশি খানা খাওয়াও এবং রাতের বেলায় নামায পড়, যখন সব মানুষ ঘুমিয়ে আছে। তাহলে বেহেশতে সালামের সাথে প্রবেশ করবে।’  মানুষকে খুব সালাম দাও। এটা বেহেশতি সম্ভাষণ। বেহেশতে সবাই সালামের সাথে প্রবেশ করবে। শুরুতেও সালাম, শেষেও সালাম। আপনাকে এখন বের করতে হবে, কোনটা আগে?

বাস যাচ্ছে, আযান হচ্ছে। হেলপার আযানের জবাব দিচ্ছে। সে বলল না, আজিমপুর, আজিমপুর। বহু প্যসেঞ্জার নামল না। কোনটা তার জন্য বেশি দরকার? অপনি বলবেন যে, আজিমপুর, আজিমপুর বললে তো নেকী হল না। আযানের জবাব দিলে নেকী হবে। আপনার এ কথাটাই ভুল। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ঐ ব্যক্তি যে শহরের অলিতে গলিতে চিৎকার করে বেড়াচ্ছে, ‘আছে কাগজ, পুরানো পাতিল।’ সে সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বললে লোকে বুঝবে কেমন করে যে সে কাগজ কিনবে? সে যদি হালাল রিযিকের নিয়তে কাগজ বলে, এটা সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ বলার সমান। তার ছেলে-মেয়ের জন্য হালাল রিযিকের জন্য কাগজ কাগজ  বলে, আজিমপুর আজিমপুর বলে। এটাতেই সে সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলার নেকী পাবে। আমাদের কাছে আসলে বলব, সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলাই নেকী হবে। আজিমপুর, আজিমপুর বললে নেকী হতে পারে না। এটার জন্য আপনাকে উলামাদের কাছে যেতে হবে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

না বুঝে কুরআন পড়ে লাভ কি

হযরত বলেন, ‘আমার আম্মা কুরআনে পাকের এমন আশেকা ছিলেন, বসে বসে কুরআন পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেলে দাঁড়িয়ে কুরআন পড়তেন। বারবার প্রশ্ন করা হয়, না বুঝে কুরআন পড়ে লাভ কি? হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির একটা ওয়াযই আছে এই বিষয়ের উপর। এই প্রশ্নটাকে নিয়ে ওয়ায করেছেন। বাংলায় প্রায় পঁচাশি পৃষ্ঠা। ওয়াযের নাম, ‘আলফাজুল কুরআন’।

আমি আমার নিজের গল্প বলি। আব্বাজান কুরআন শরীফ সুন্দর পড়তেন। ১৯৫৪ সালে ক্লাস টেন এ পড়ি। এ সময় তিনি খুব কুরআন পড়তেন। ফজরের আগে কুরআন পড়তেন। অফিসে থেকে সাধারণত আসরের পর বাসায় আসতেন। তখন কুরআন পড়তেন। মাগরিবের পর কুরআন পড়তেন। ইশার পর কুরআন পড়তেন। আমার এক শিক্ষকের কথায় আমি ডায়েরী লিখতাম। একদিন লিখেছি, ‘আব্বা এত কুরআন পড়ে!’

১৯৫৪ সালের প্রথম দিকে আমি কুরআনের তরজমা পাই। সূরা ইয়াসীনের আয়াত,

وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ৩৬:২২

‘আমার কি হল? আমি কেন তার ইবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন?’ এ আয়াতের তরজমা পড়ে খুব মজা পেলাম। তারপর থেকে তরজমা পড়া শুরু হল।

এমনিতে রোজ সকালে কুরআন পড়া আমার ডিউটি। কয়েকদিন পড়ি নাই। তরজমা পড়ি। আব্বা একদিন বললেন, ‘হামীদ! কুরআন শরীফ পড়স না?’ আমি বলে উঠলাম, ‘না বুঝে কুরআন পড়ে লাভ কি?’ এ কথা আমি আমার বাবাকে বলেছি। আমার আব্বাজান কিছুই বলেননি। আমাকে বকা, ধমক কিচ্ছু দেননি। আজকে সেই আমি এত বদলে গেলাম কিভাবে? এখানে উত্তরার বাড়িতে হিফযখানা করেছি হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল−াহি আলাইহির দু’আর বরকতে। এই বিল্ডিং এর একতলায় থাকতাম। দোতলায় অন্য ভাড়াটিয়া। দোতলা খালি হল। আমার মন চাইলো একটা মকতব করি। হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি এত মকতব মকতব করতেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথায় তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন,

خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ القران وَ عَلَّمَهُ

‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির বয়ান

হযরত বলেন, একবার টিএন্ডটির একজন অফিসার হযরত মাওলানা মুহাম্মাদল্লাহ হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে তার বাসায় দাওয়াত দিলেন। সেখানে মাত্র তিনজন শ্রোতার সামনে হযরত এমনভাবে বয়ান করলেন, যেন হাজার লোকের মাহফিলে বয়ান করছেন। আল্লাহওয়ালাদের নজর থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে, শ্রোতার সংখ্যার দিকে নয়।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

কুরআন মাজীদ সহীহ করা আর যিকির করা

হযরত বলেন, হরদুই হযরত কুরআন মাজীদ সহীহ করার জন্য সবচেয়ে বেশী তাগিদ দিতেন। দ্বীনের অন্যান্য লাইনেও যেসকল জিনিস আমরা ভোলার পথে ছিলাম, সেগুলো তিনি পুনর্জীবিত করেন। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি খুব কম কথা বলতেন। আর তার কথা বলার ভঙ্গিও ছিল অতি সহজ-সরল। হযরতের একটি কথা আমি প্রায় মজলিসে বলে থাকি। এটা আমার জন্য দলীল। আমি বলতে পারব যে, আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিয়েছি। এটা আমি আপনাদের সামনে রিপিট করেই যাব ইনশাআল্লাহ্।

১৯৮১ সনে হরদুই হযরত বাংলাদেশে আসেন। ৩৪ বছর ধরে পুনরাবৃত্তি করছি। ইনশাআল্লাহ, মৃত্যু পর্যন্ত করে যাব। কি পুনরাবৃত্তি করব? হরদুই হযরতের কথাগুলো। হাফেজ্জী হুযুরের কথাগুলো।  হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, ‘এমনভাবে দুনিয়ায় থাকেন একটা শ্বাসও যেন আল্লাহর যিকির থেকে খালি না যায়।’ অনেকে প্রশ্ন করেন, ‘মুখে তো যিকির ঠিকই আছে, কিন্তু মন তো পড়ে থাকে গুলিস্তানে, গুলশানে, সদরঘাটে, চাঁদপুরে। মন তো অন্য জায়গায়। তখন কী হবে?’ উলামায়ে কেরাম বলেন যে, মন অন্য জায়গায় থাকলেও যিকির চালিয়ে যাও। তুমি আল্লাহর শোকর কর। তোমার ঠোঁট-জিহ্বা আল্লাহর যিকিরে মগ্ন আছে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

সাহাবীদের মতো ঈমান আন

হযরত বলেন, সাহাবায়ে কেরামের চেয়েও ঈমানে আমলে অগ্রসর কে হতে পারবে? আল্লাহপাক তাদের মতো ঈমান আমল অর্জন করার জন্য কুরআন মাজীদে ইশারা করেছেন :

وَإِذَا قِيْلَ لَهُمْ آمِنُوْا كَمَا اٰمَنَ النَّاسُ قَالُوْا أَنُؤْمِنُ كَمَا اٰمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلٰكِنْ لَّا يَعْلَمُوْنَ

আর যখন তাদের বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মতো! মনে রেখ, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।

এখানে এসেছে, ‘যখন তাদের বলা হয়’, কারা তারা? তাদের বর্ণনা আল্লাহ আগেই দিয়েছেন আমাদের সতর্কতার জন্য :

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُوْلُ اٰمَنَّا بِاللهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِيْنَ

মানুষের মধ্যে কতক রয়েছে যারা বলে আমরা আল্লাহ্র  উপর বিশ্বাস করি। (আল্লাহ বলেন) তারা ঈমানদার নয়।

উলামায়ে কেরাম বলেন, এখানে মুনাফিকদের চরিত্র চিত্রণ করা হয়েছে। মুনাফিকদের কথা, কাফেরদের কথা আল্লাহপাক কুরআনে বলেন কেন? বলেন এজন্য যে, হে ঈমানদার বান্দারা, দেখ, তাদের মতো হয়ো না যেন।’ আল্লাহ বলেন, آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ ‘বিশ্বাস করো (মানে বিশ্বাস ও আমল দুটোই কর) যেমন মানুষেরা ঈমান এনেছে।’ তারা কারা? সকল উলামায়ে কেরাম ঐকমত্য এখানে নাস বলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় সাহাবীদের বোঝানো হয়েছে।

সাহাবীদের আমল দেখ। তাদের আখলাক দেখ। তাদের ঈমান দেখ। তাদের মতো হওয়ার তো প্রশ্নই নেই। কেননা ইসলামে তাদের অবস্থান পরিষ্কাভাবে বলা আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছাত্রদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন কে? হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু। তারপর কে? উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু। তারপর কে? উসমান গনী রাযিয়াল্লাহু আনহু, তারপর কে? হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু। এই ক্রমধারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে বারবার বলেছেন।

সাহাবায়ে কেরাম সমষ্টিগতভাবে সমস্ত উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের পরবর্তী কোনো অলিআল্লাহ তাদের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন না। এটা আমাদের আকীদা। অসুবিধার কিছু নেই। আমরা অনেক কম পরিশ্রম করে অনেক বেশী পাব। এই ওয়াদা আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই শুনিয়েছেন। আমরা কিছুতেই তাদের সমান হতে পারব না। তাদের ডিঙিয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিখ্যাত কথা :

خَيْرُ أُمَّتِيْ الْقَرْنُ الَّذِيْ بُعِثْتُ فِيْهِمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ

সর্বোত্তম লোক তারা, যাদের কাছে আমি প্রেরিত হয়েছি (অর্থাৎ সাহাবাগণ)। তারপর তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন (অর্থাৎ তাবেঈ)।

পাহাড়ের চূড়ায় সাহাবায়ে কেরাম। তারপর তারা, যারা তাদের পরে এসেছেন। তারপর যারা তাদেরও পরে এসেছেন। কিন্ত আমাদের উপরের দিকে উঠতে হবে। এই ওঠার কোনো সীমা নেই।

Facebooktwitterpinterestmailby feather