All posts by tousif

দ্বীনি মজলিস

হযরত বলেন, হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, আসেন একটু দ্বীনের আলোচনা করি। উদ্দ্যেশ্য কী? আখেরাতের তলব বাড়ানো। আখেরাতের তলব তো আমাদের আছেই। একদিন কবরে যাব। আখেরাতের পথে পাড়ি জমাব। জানি আমরা। কিন্ত তার পরিমাণ বাড়ানো দরকার। আর বাড়ানোর জন্য এসব দ্বীনি মজলিস। এই মর্মে হরদুই হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি একটি আয়াত বারবার বলতেন,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرٰى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِيْنَ

আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারদের উপকার করবে।

ذَكِّرْ  মানে মনে করিয়ে দেন, আলোচনা করেন, নসিহত করেন। فَإِنَّ الذِّكْرٰى মানে নিশ্চয়ই মনে করিয়ে দেওয়া, নসিহত করা, تَنفَعُ الْمُؤْمِنِيْنَ – ঈমানদারদের উপকৃত করবে। ঈমানের লাইনে উন্নতি করার জন্য, দ্বীনের কথা পড়া দরকার, শোনা দরকার। এজন্য দ্বীনের মজলিসে বারবার বসা দরকার। একই কথা বার বার আল্লাহপাক কালামে পাকেও বলেছেন।

فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ   لَسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ

আপনি নসিহত করেন। আপনি তো নসিহত করার জন্যই। আপনাকে দারোগা বানাইনি।

জোর জবরদস্তি করে, ধরে টেনে টেনে আনবেন বিষয়টা সেরকম না। আবার,

فَذَكِّرْ بِالْقُرْاٰنِ مَنْ يَّخَافُ وَعِيْدِ

‘কুরআন দিয়ে মনে করিয়ে দেন তাকে, যে আমার ভীতি প্রদর্শনকে ভয় করে।’

মানে আল্লাহকে বিশ্বাস করা, রাসূলকে বিশ্বাস করা, আখেরাতকে বিশ্বাস করা। একই কথাকে আল্লাহপাক বারবার কালামে পাকে বলেছেন। আর এই কাজটা তার প্রিয়। তিনি বলেছেন,

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا

وَقَالَ إِنَّنِيْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ

তার চেয়ে আর কার কথা সুন্দর, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, নিজে সৎ কাজ করে এবং বলে, আমি একজন মুসলমান?

আল্লাহর দিকে আহ্বান করার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে, বিভিন্ন দিক রয়েছে। অবিশ্বাসীদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করা এটাও দাওয়াত। বিশ্বাসীদের আহ্বান করা সেটাও দাওয়াত। যারা ঈমানের উপর রয়েছে, তাদের ঈমানের প্রবৃদ্ধি ঘটানো এটাও দাওয়াত।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

যিকির

হযরত বলেন, হরদুই হযরত মাওলানা আবরারুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, চলতে ফিরতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়বে। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, চলতে ফিরতে দরূদ শরীফ পড়বে। কোনো অসুবিধা নেই। যার মনে চায় দরূদ শরীফ পড়বে। যার মনে চায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়বে। আল্লাহপাকের নাম জবানে থাকা। কাজে চলছে হাতে, আর জবান থাকবে যিকিরে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ

হযরত বলেন, কুরআন মাজীদের বিখ্যাত আয়াত :

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اجْتَنِبُوْا كَثِيْرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ  وَلَا تَجَسَّسُوْا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا

মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ।এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারো পশ্চাতে নিন্দা না করে।

বেশি বেশি অনুমান করা নিষেধ। অনুমান করেই সংসারের সর্বনাশ হয়। পাশের ঘরে টেলিফোন লাইনে আড়ি পেতে শোনা কবিরা গোনাহ।  অন্যের দোষ আলোচনা করা যাবে না। অথচ আমাদের সমাজে দেখা যায় Ñ খুব পরহেজগার, পর্দায় একশ, তাহাজ্জুদে একশতে একশ; কিন্তু অন্যের সম্পর্কে বদ ধারণা করে। এটা কবিরা গোনাহ। গীবত একটি মস্ত বড় কবিরা গোনাহ। যিকির করলাম লাখ লাখ বার, নফল নামায পড়লাম হাজার হাজার । কিন্ত গীবত একই সঙ্গে চলছে। অন্যের সম্পর্কে বদ ধারণা চলছে। গোনাহ আমলকে শেষ করে দিচ্ছে। এজন্য আসল কাজ হলো গোনাহ ছাড়া। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন ‘গোনাহ ছাইড়া দেন।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

দ্বীনি মাহফিল

হযরত বলেন, দ্বীনি মাহফিল সম্পর্কে হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, আল্লাহর দিকে চেয়ে আল্লাহর বান্দাদের সামনে সাদাসিধা কিছু কথা বলেন। তারপর দু‘আ করে দেন। আলোচনা ভুল ত্রুটি হয়েছে, এজন্য আল্লাহ নিজেই দু‘আ শিখিয়েছেন :

رَبَّنَاتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের কাছ থেকে কবুল করুন। আমরা যে কাজ করলাম সেটাকে গ্রহণ করুন।

رَبَّنَالَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا

হে আমাদের প্রতিপালক, যদি ভুলে যাই, যদি ভুল হয়ে যায়, আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।

رَّبَّنَاإِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُّنَادِيْ لِلْإِيْمَانِ أَنْ اٰمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا

হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা একজন আহ্বানকারীকে বলতে শুনেছি তিনি আমাদের আহ্বান করে বলেছেন, তোমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আন। তাই আমরা ঈমান এনেছি।

কোন সাইন্স (ঝপরবহপব), কোন জ্ঞান (কহড়ষিবফমব), কোন ফিলোসফি (চযরষড়ংড়ঢ়যু)-এর উপর ভিত্তি করে না। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার উপর আমরা বিশ^াস করি। তারপর আছে,

رَبَّنَافَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ

আল্লাহ তা‘আলাই আমাদের মাফ করে দেন। আমাদের পূর্ববর্তী গোনাহগুলোকে ঢেকে দেন। নেককারদের সঙ্গে আমাদের মৃত্যু দেন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

রমযান মাস কুরআনের মাস

হযরত বলেন, ‘কুরআনের আলোচনা সবচেয়ে দামি। সামনে আসছে রমযান। রমযান সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْ أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيْضًا أَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيْدُ اللهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيْدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلٰى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ

রমযান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা‘আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।

রমযান মাস, এ মাসেই নাযিল হয়েছে কুরআন। রমযান মাসের এত দাম কেন? কত দাম? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান শরীফ আসার দুমাস আগে থেকেই দু‘আ করতেন। রজব মাসের আগমন হলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটা দু‘আ পড়তেন,

اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْ رَجَبَ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ

হে আল্লাহ, আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসের বরকত দান করুন। আমাদেরকে রমযান মাসে পৌঁছে দিন।

অর্থাৎ রমযান মাস পর্যন্ত আমি যেন হায়াত পাই, আমি যেন সুস্থ থাকি। রোযাগুলো আমি যেন রাখতে পারি। এজন্য দুমাস আগে থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু‘আ করছেন। উম্মতকে শিক্ষা দিচ্ছেন। কত দামি মাস রমযান। সেই মাস সম্পর্কে কুরআনের ভিতর কি উক্তি,

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ

হে ঈমানদারেরা, তোমাদের জন্য রোযাকে ফরয করা হলো, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের উপর। যাতে তোমরা খোদাভীতি অর্জন করতে পার।

রমযান মাস সম্পর্কে কুরআনের আয়াত شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْ أُنزِلَ − ‘রমযান মাস, এ মাসেই নাযিল হয়েছে কুরআন।’ এটুকু বলেই কুরআনের তিনটি বিশেষণ বলেছেন আগে। তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পায়, সে যেন রোযা রাখে। রমযান অতি বড় নেকীর মাস। এই মাসে একটা আমলের দরজা সত্তর গুন বাড়ে। হাজার নফল, কোটি নফলও একটা ফরযের সমান না। আপনি ফজরের নামায পড়লেন না। সারারাত জেগে জেগে নফল ইবাদত করলেন Ñ সমান হবার প্রশ্নই আসে না। ফরযের দাম এত বেশি। কিন্তু রমযান মাসে নফলকে ফরযের মর্যাদা দেওয়া হয়। নেকী সত্তর গুন বেড়ে যায়। রমযান নেকী কামাই করার মাস।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

ইসলাম এবং সাইন্স, টেকনোলজি

হযরত বলেন, ‘আজ সাইন্স, টেকনোলজির নাম দিয়ে আমাদের ধোঁকা দেওয়া হয় বেশি। এখন সাইন্স এর যুগ, টেকনোলজির যুগ, আপনাদের এসব পুরাতন কথা চলবে না ইত্যাদি। অথচ আল্লাহর নেক বান্দারা আমাদের দেখাচ্ছেন যে, সাইন্স-টেকনোলজি একদিকে মানুষের আরামকে বাড়িয়েছে; আপনি এখানে বসে আছেন, মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে, আমাদের আরাম বাড়িয়েছে। অন্যদিকে অনেক বিষয়ে জ্ঞান বাড়িয়েছে। আল্লাহপাকই তার বান্দাদের এসব করার তাওফীক দিয়েছেন। তারা সাইন্স এবং টেকনোলজির মাধ্যমে আল্লাহর কুদরত আরও সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করছেন। কুরআন শরীফের সূরা আয-যারিয়াতে একটা ছোট আয়াত,

وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوْعَدُوْنَ

আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক, আর যা তোমাদের ওয়াদা করা হয়েছে।

যমীনের মধ্যে এই ছোট দানা থেকে পাতাটা কে বের করে? তোমাদের কোনো সাধ্য নেই পাতা বের করার। এখন বিজ্ঞানীরা বলে, আল্লাহপাক বলেছেন আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক। একটা তো সূর্যের প্রয়োজনীয়তা।

            আলো সূর্য থেকে আসে।

            তাপ সূর্য থেকে আসে।

            পানিও আকাশ থেকে আসে।

            বাতাস, এটাও আকাশে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, গাছের প্রতিটি পাতা একটি ফ্যাক্টরি। রাতে এই ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকে। সুবহান্নাল্লাহ। আমরা জানতাম, সূর্য আমাদের আলো দেয়, তাপ দেয়। কিন্তু আমাদের খাদ্যকণা তৈরীর জন্য যে সূর্যের অবদান কত বড়—আগে মানুষ এটা জানত না। এখন জানে। বাতাসের মধ্যে আছে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস। পরিমাণে একদম কম। মাত্র ০.০৩২%।

পাতার ক্লোরোফিল বাতাস থেকে এই কার্বন ডাই অক্সাইড নেয়। আর এর সঙ্গে সূর্যের আলো নেয়, যমীন থেকে পানি নেয়। এবারে গ্লুকোজ তৈরী করে। বিজ্ঞানীরা বলেন, সারা পৃথিবীর প্রতিটি পাতা, প্রতিটি খাদ্যকণা, প্রতিটি ঘাস, প্রতিটি গমের মধ্যে কার্বন আছে। কার্বন কোথা থেকে এল?

যমীনে কার্বন নেই। বলে যে, ঐ বাতাসের ০.০৩২% থেকে আসে। সারা দুনিয়ায় কত কার্বন আছে? আমেরিকান এনসাইক্লোপেডিয়া -এ আছে, সারা দুনিয়ায় দশ হাজার কোটি টন কার্বন আছে। কত সুবহান্নাল্লাহ বলবেন?

أَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنشِئُوْنَ

তোমরাই কি এর (লাকড়ির) গাছ উৎপাদন কর, না আমি করি?

তুমি চাষ কর, না আমরা চাষ করি? আমরা জানতাম যে, যমীন ফেঁটে গাছের পাতা বের করে। কিন্তু প্রতিটি পাতা যে একটা ফ্যাক্টরি, এটা জানতাম না।

বরগে দরখতানে সাবজ দার নাজরে হুঁশিয়ার

হারওরাক দফতাস্ত মারেফাত কিরদেখার

শেখ সাদীর কবিতা। আটশত বছর আগের কবিতা। প্রতিটি গাছের পাতা আল্লাহপাকের কুদরতের কারখানা। যদি কেউ নসিহত নিতে চায়, তবে তা নসিহতের জিনিস। আল্লাহপাক এখান থেকে নসিহত নেওয়ার তাওফীক দেন। আধুনিক মানুষ এর ধারে কাছে আসে না। তারা ধোঁকা দেয় এখন সাইন্স-টেকনোলজির যুগ, এখন কুরআন হাদীসের যুগ না। আহাম্মক!

Facebooktwitterpinterestmailby feather

উপকারি জ্ঞান

হযরত বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু‘আ,

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَّا يَنْفَعُ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পানাহ চাই এমন জ্ঞান থেকে যে জ্ঞান কোনো উপকার করবে না।

জীবনের পারিপার্শ্বিকতায় প্রতিদিন আমরা যেসব কাজে সময় ব্যয় করি, দেখা যাবে এগুলোর বিরাট অংশ উপকারী নয়। এমনসব জিনিস জানা বা শেখা অথবা এমন কিছু নিয়ে আলোচনা করে সময় ব্যয় করছি, যেগুলো আমাদের কোনো উপকার করে না। আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে বলেছেন, আঠার পারার প্রথম লাইনে,

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ  الَّذِيْنَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُوْنَ

সফল হয়ে গেল ঈমানদারেরা, যারা নামাযের মধ্যে খুশু-খুযু অবলম্বন করে।

অর্থাৎ পুরোপুরি সুন্নাত তরীকায় নামায পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তিন নম্বর আয়াত,

وَالَّذِيْنَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُوْنَ

যারা অসার কথাবার্তা, অসার কার্যকলাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

কোথায় নামায, কোথায় এটা? একটা করা, ‘নামাযে খুশু-খুযু অবলম্বন করো’, আর অন্যটা না করা; অসার কথা বা কাজ যেটার কোনো ফায়দা নেই। না দুনিয়ার লাভ, না আখেরাতের লাভ! আমরা যদি বিশ্লেষণ করি, আমার ঘণ্টাগুলো কোন কাজে গেল—খুব সহজেই বের হয়ে আসবে। দেখা যাবে, অনেক সময় আমার এমন কাজে খরচ হয়েছে যেটা না দুনিয়ার কাজে লাগবে, না আখেরাতের কাজে লাগবে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির নেযামুল আওকাত

হযরত বলেন, হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির কথা সহজ : গোনাহ ছাইড়া দেন, সুন্নাত ধরেন। তিনি অনেক সময় বলতেন, চলার সময় কুরআন শরীফের আয়াত পড় অথবা দরূদ শরীফ পড়। বারবার দরূদ শরীফ পড়। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির গল্প অনেকবার তার নিজের মুখেই শুনেছি : ‘আমি যখন মাদরাসায় পড়ি, তখন জায়গীর বাড়ি থেকে নিয়মিত সাহারানপুর মাদরাসায় যেতাম। আর প্রত্যেক বৃহস্পতি ও শুক্রবার হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির খানকায় হাজির হতাম। একবার হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আমাকে বললেন, ‘তোমার নেযামুল আওকাত পেশ কর।’ মানে কখন কি কর লিখে দাও।

হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখে পেশ করলেন; এতটায় ফযরের জন্য উঠি, অযু করি, মসজিদে যাই, নামায পড়ি, ফিরে আসি। হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন যে, খুব ভালো লিখেছ। কিন্তু একটা সময় কি কর সেটা লেখনি। একটা সময় মানে তুমি যখন জায়গীর বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাও, মাদরাসা থেকে ফের, তখন কি কর? এই যে হাঁটাহাঁটির মধ্যে থাক তখন কি কর? তিনি নিজে লিখে দিলেন, এই সময় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ যিকির করবে।

এখন আপনাদেরকে হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির কথা শোনাই। তিনি বলতেন, ‘হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই কথা অনুযায়ী আমল করে আমার জীবনে কি যে ফায়দা হয়েছে!’ কি হয়েছে? আপনারা বুঝে নিন।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

শিশু সাহাবিদের কুরআন

হযরত বলেন, মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা গল্প বলেছেন, ‘আমরা মক্কা শরীফে এই আয়াত পড়ে খেলা করতাম।

سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّوْنَ الدُّبُرَ

এ দল তো সত্ত্বরই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে।

সূরা কমারের আয়াত। তখন তার বয়স ছয়। খেলার সময় এই আয়াতটি পড়তাম। মানে মক্কায় সমস্ত দল মিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ধ্বংস করতে যাবে।  কিন্তু ওরাই হেরে যাবে। এই থেকে দেখা যায়, মক্কা শরীফের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও কঠিন কঠিন আয়াত পারত।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

একজন জান্নাতী মানুষ

হযরত বলেন, ‘অন্যের সম্পর্কে মনকে সাফ রাখা উচিত। একজন সাহাবীর গল্প আছে। একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, একজন জান্নাতী এখন মসজিদে প্রবেশ করবে। কিছুক্ষণ পর একজন মদীনার আনসার সাহাবী এলেন। তার বাম হাতে জুতা, দাড়ি থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। দ্বিতীয় দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবারও একই কথা বললেন, একজন জান্নাতী মানুষ আসবেন। সবাই দেখল ঐ একই মানুষ। তার বাম হাতে জুতা। দাড়ি থেকে টপটপিয়ে পানি পড়ছে। তৃতীয় দিনও ঐরকম হলো।

এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু ঐ ব্যাক্তির পিছু নিলেন। তার সঙ্গে তিন দিন থাকলেন। একেবারেই সহজ সরল সাধারণ মানুষ। কোনো বড় নেক আমল নেই। তিনি নিজেও বললেন, ‘আমার কোনো আমল নেই।’ তারপর তিনি যখন চলে আসছেন তখন ঐ আনসার সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে বললেন, শোন, একটা কথা বলি, আমার একটা অভ্যাস আছে, কোনো মুসলমান সম্পর্কে আমার মনে কোনো গিট্টু নেই। কোনো মানুষের প্রতি আমার কোনো হিংসা বিদ্বেষ নেই।’ কুরআনের আয়াত হলো,

يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُوْنَ

إِلَّا مَنْ أَتَى اللهَ بِقَلْبٍ سَلِيْمٍ

যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না; কিন্তু যে পরিশুদ্ধ কলব নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।

সেদিন কী উপকারে আসবে? সুস্থ সহজ সরল অন্তঃকরণ। কারও সম্পর্কে কোনো বিদ্বেষ নেই, হিংসা নেই। লোভ নেই, লালসা নেই। সবার সম্পর্কে সাফ অন্তর। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এই লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার তাওফীক দিন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather