Category Archives: Discourses (Bangla)

সময়

সময়

(৭৬ঃ১) هَلۡ اَتٰى عَلَى الۡاِنۡسَانِ حِيۡنٌ مِّنَ الدَّهۡرِ لَمۡ يَكُنۡ شَيۡـٴً۬ـا مَّذۡكُوۡرًا‏

‘এসেছিল কি মানুষের জীবনে এমন একটা সময়, যখন সে কোন আলোচ্য বস্তই ছিলনা?’ প্রশ্ন দিয়ে শুরু, আসেনি কি মানুষের জীবনে এমন একটা মুহুর্ত, when he was not an object of even discussion? তার সম্পর্কে আলোচনার কোন প্রশ্নই আসতনা। আজ থেকে সত্তর-আশি বছর আগে কেমন ছিল আমাদের অবস্থা? আমরা কোন আলোচ্য বস্তই ছিলাম না!

আল্লাহ বলেন,

(৭৬ঃ২)  اِنَّا خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ نُّطۡفَةٍ اَمۡشَاجٍۖ نَّبۡتَلِيۡهِ فَجَعَلۡنٰهُ سَمِيۡعًۢا بَصِيۡرًا‏

‘আমি মানুষকে তৈরী করেছি  from mixed drops’. এখানে mixed drops মানে কি? এই নিয়ে তাফসিরকারকরা অনেক আলোচনা-চর্চা করেন। আমি এর মধ্যে যাচ্ছিনা। কুরআনের শাব্দিক তরজমা এরকম। তারপর তিন নম্বর আয়াত,

نَّبۡتَلِيۡهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيۡعًۢا بَصِيۡرًا‏

‘আমি তাকে পরীক্ষা করি। আমি তাকে দিয়েছি শোনার শক্তি, দেখার শক্তি।’ এটি হলো সূরা দাহর। The name of the sura is ‘Time’ because it starts with the word, দাহর  । O the readers of A Brief History Of Time!  look at the word, Allah has chosen! সূরার নাম কি? দাহর। অর্থ কি? কাল (Time)। দেয়ালে দেয়ালে লেখা নেই, সময়ের সাহসি সন্তানেরা-এখন যৌবন  যার, যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার। আর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এখন যৌবন যার, আল্লাহকে খুশী করার শ্রেষ্ঠ সময় তার। যিনি এ সত্তা দিয়েছেন, যিনি এ অস্তিত্ব দিয়েছেন, তাকে চেনা, তাকে জানা, তাকে অনুভব করা। সুতরাং সূরা দাহরে দাহর শব্দের মানে Time. কিন্ত একই Time শব্দ দ্বারা আল্লাহ সূরা জাসিয়ার মধ্যে অবিশ্বাসীদের কথা নকল করছেন,

مَا هِىَ اِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنۡيَا نَمُوۡتُ وَنَحۡيَا وَمَا يُهۡلِكُنَاۤ اِلَّا الدَّهۡرُ‌ؕ

‘এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কোন জীবন নেই। আমরা এখানেই মরি, এখানেই বাঁচি। কাল ছাড়া আর কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করে না।’ মানে ঐখানে time was ordinary time, আর এখানে time means my killer. সময় ছাড়া আর কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করে না। nothing but time destroys us। সময়ের সংগেই আমাদের আগমন, সময়ের সংগেই আমাদের যাত্রা, শেষ। খালাস। কিন্ত সে একদম ভুলে যায়- আল্লাহ বলেন,

(৩৯ঃ৭৭-৭৮)اَوَلَمۡ يَرَ الۡاِنۡسَانُ اَنَّا خَلَقۡنٰهُ مِنۡ نُّطۡفَةٍ فَاِذَا هُوَ خَصِيۡمٌ مُّبِيۡنٌ‏ ﴿﴾ وَضَرَبَ لَـنَا مَثَلًا وَّ نَسِىَ خَلۡقَهٗ‌

‘মানুষ কি দেখে না যে, নিশ্চই আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী। সে আমার সম্পর্কে এক অদভুত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে ভুলে যায় তার সৃষ্টিকে।’ He forgets his creation. তাকে আমি এক ফোঁটা বীর্য থেকে তৈরী করেছিলাম। মায়ের পেটের অন্ধকারে আমি তাকে তৈরী করেছিলাম।

(৩৯ঃ৬)خَلۡقًا مِّنۡۢ بَعۡدِ خَلۡقٍ فِىۡ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ‌

Creation after creation in the midst of three darkness, এই রকম অবস্থায় তাকে আমি তৈরী করেছিলাম। তার চোখ, তার কান, তার নাক – যেগুলো নিয়ে সে দুনিয়াতে ঘুরে বেড়ায়, গর্ব করে, সেই faculty গুলো আমি তৈরী করেছি কোথায়? কিন্ত সে আমারই সামনে প্রকাশ্যে ঝগড়া করে।

(৩৬ঃ৭৮)قَالَ مَنۡ يُّحۡىِ الۡعِظَامَ وَهِىَ رَمِيۡمٌ‏

সে বলে, এসব হাড়গোড় মাটিতে মিশে গেলে আবার কে এগুলোকে সৃষ্টি করবে?’

-হযরতের বয়ান সংকলন ‘তাযকিরাতুল আখিরাহ’ থেকে সংগৃহীত

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

মসজিদে মহিলাদের গমন

হযরত বলেন, এক মহিলা সাহাবা বলেন, ‘মসজিদে নববীর বেড়া খেজুর পাতার বেড়া। আমার বাড়ির বেড়া ছিল মসজিদের বেড়ার পর। আমি দুপুর বেলার রুটি বানানোর জন্য আটা গুলতাম। এই সময় জুমার জামাত দাঁড়াত। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার বয়ানের মধ্যে বলতে গেলে পুরো সূরা ক্বাফ আবৃত্তি করতেন। তাঁর মুখে শুনে শুনে আমার সূরা ক্বাফ মুখস্থ হয়েছে।’ এখান থেকে একটা বিষয় বের হয়। মসজিদের পাশেই মহিলা সাহাবি। তিনি কেন পুরুষের সাথে নামাযে আসলেন না। আমরা মসজিদে মহিলাদের জন্য পৃথক ঘর বানাই। এজন্য যদি নামাযের ঘর বানানো হয় যে পথিক মহিলারা নামাযের জন্য জায়গা পান না, তাহলে ঠিক আছে। কিন্ত আমরা যেভাবে ঢালাও ভাবে Encourage করি, এটা নাই।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

মালফুযাত

একজন আলেম শাইখুল হাদিস যাকারিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর আপবীতি থেকে কিছু অংশ পড়ে শোনালেন। শায়েখের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর, নিজের মেয়েক দাফন করে যাকারিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর শ্বশুর কবরস্থান থেকে ফেয়ার পথে তাঁর চাচা হযরত ইলিয়াস রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কে বললেন, ‘যাকারিয়ার বয়স কম। তাঁর আবার বিয়ের বন্দোবস্ত করেন। দেরি করবেন না। একটি উপযুক্ত সম্মন্ধ দেখেন। আমি নিজে সেখানে কথা বলব। হযরত বলেন, আমাদের দেশে কোন ব্যক্তির স্ত্রী মারা গেলে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখা হয়। যেন এটা অত্যন্ত জঘণ্য কাজ। কবীরা গোনাহের চেয়ে খারাপ। আমাদের সামনে অনেক সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। ছেলে মেয়ে কিছুতেই মানবেনা। আমার মায়ের জায়গায় আরেকজন আসবে আমরা কিছুতেই তা হতে দেব না। অথচ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরুষদের স্ত্রীহীন অবস্থায় একা থাকা পছন্দ করতেন না।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

‘দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য জাহাজসমূহ তাঁরই (নিয়ন্ত্রনাধীন)’

হযরত বলেন, ‘একজন বলে আমি এই-এইভাবে সাধনা করে এত সম্পত্তির মালিক হয়েছি। আল্লাহ্‌ বলেন, আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা থেকে খরচ কর।’ আমি বলি, এ সম্পত্তি আমার। আর আল্লাহ্‌ বলেন সম্পত্তি আল্লাহর। সূরা আর রাহমানে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,

[55:24]  وَلَهُ ٱلۡجَوَارِ ٱلۡمُنشَـَٔاتُ فِى ٱلۡبَحۡرِ كَٱلۡأَعۡلَـٰمِ

‘দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য জাহাজসমূহ তাঁরই (নিয়ন্ত্রনাধীন)’। অথচ বান্দা বলে এটা আমার।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

ইকামতের জবাব

হযরত বলেন, আমরা অনেকেই আযানের জবাব দেই ইকামতের জবাব দেইনা। ইকামতের জবাব আযানের জবাবের মতোই। তবে قد قامت الصلاة  এর জবাবে বলতে হবে  أقامها الله وأدامها

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

‘দেখাদেখি কারতে হেঁ, পুছতে নেহি…’

হযরত বলেন, হরদুই হযরত বলতেন, ‘দেখাদেখি কারতে হেঁ, পুছতে নেহি। উলামাসে পুছো।’ সাধারণ মানুষ একে অন্যকে দেখে আমল করে, আলেমদের জিজ্ঞেস করে না। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,

فَسۡـَٔلُوٓاْ أَهۡلَ ٱلذِّكۡرِ إِن كُنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ

অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে; ‘আয়াতে বলা হয়েছে, যিকিরকারীদেরকে জিজ্ঞেস কর। আমি এটাকে সহজ করে বলি, মৌলবীদেরকে জিজ্ঞেস করেন।’

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

Multimedia and download links

Facebook page where you can read and  listen to Hazrat’s lectures:

https://www.facebook.com/professorhazratDB

Telegram link where you can listen to lectures

We are also pleased to inform you that you have now access to a huge collection of lectures from Hamidur Rahman Sir through this link:

Listen and download lectures of Professor Hamidur Rahman Sir-Part 1

Listen and download lectures of Professor Hamidur Rahman Sir-Part 2

Listen and download lectures of Professor Hamidur Rahman Sir-Part 3

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

শুক্রবারের ফযরের সুন্নত

হযরত বলেন, হরদুঈ হযরতের বাংলাদেশে প্রথম সফরের কথা। বৃহস্পতিবার রাত্রে হযরতের সাথী আলেমরা বলছিলেন ফযরের সময় প্রথম রাকাতে সূরা আলিফ লাম সেজদা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা দাহার দিয়ে নামায পড়াতে হবে। হাফেজ সাহেব খোঁজা শুরু হলো। আনেক হাফেজ সাহেব। কিন্তু হযরতের সামনে নামায পড়তে কেউ রাজি হয়না। এখন মক্কা শরীফ গেলে দেখা যায় এই দুই সূরা দিয়ে শুক্রবারের ফযর নামায পড়া হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমাদের উত্তরা ৩নং সেক্টর মসজিদে এই দুই সূরা দিয়ে শুক্রবারের ফযর পড়া হচ্ছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত জিন্দা হচ্ছে।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

নৈরাশ্যকে আশায় পরিণত করে দিয়েছে…

হযরত বলেন, মকতবে একটি শিশু ছয় বছর বয়সেই কায়দা পড়া শুরু করে। ছয় বছরের বাবুকে কি আমরা তাবলীগে নিতে পারবো? তাঁদের তালীমের উত্তম বয়স হল এটা। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহঃ বয়সে তুলনামূলকভাবে বড় হযরতজীর চেয়ে বড় ছিলেন। বড় হযরতজী বারবার হযরত থানভী রহঃ -এর কাছে যেতেন। হযরত থানভী রহঃ-এর বিখ্যাত বাণী, ‘মাওলানা ইলিয়াস আমাদের নৈরাশ্যকে আশায় পরিণত করে দিয়েছে। আমরা চিন্তা করতাম আমরা ঘরে ঘরে যাই না কেন। আল্লাহ্‌ তা’আলা মাওলানা ইলিয়াস রহঃ-এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে দাওয়াত পৌঁছানোর সিলসিলা চালু করেছেন। এজন্য মিলেমিশে কাজ করা উচিত।’

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

উলামায়ে কেরামের মর্যাদা – العلماء ورثة الانبياء

উলামায়ে কেরামের মর্যাদা সম্পর্কে হযরত বলেন, হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, العلماء ورثة الانبياء – উলামারা সকল নবীর  ওয়ারিশ। আমার ওয়ারিশ বলেন নাই। সকল নবীদের ওয়ারিশ বলেছেন। আলেমরা হচ্ছেন নবীদের ওয়ারিশ। তাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা যাবেনা। ইংরেজি শিক্ষিত অনেক লোক নামায রোযা সকল ইবাদাত করেন কিন্তু উলামাদের সাথে মেশেননা। তাদেরকে ঘৃনা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ  সাদেকীনদের সাথে থাক। সাদেকীন কারা? হক্কানী উলামায়ে কেরাম, যারা সুন্নাতের উপর আমল করেন, তারাই সাদেকীন।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather