Category Archives: Discourses (Bangla)

নৈরাশ্যকে আশায় পরিণত করে দিয়েছে…

হযরত বলেন, মকতবে একটি শিশু ছয় বছর বয়সেই কায়দা পড়া শুরু করে। ছয় বছরের বাবুকে কি আমরা তাবলীগে নিতে পারবো? তাঁদের তালীমের উত্তম বয়স হল এটা। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহঃ বয়সে তুলনামূলকভাবে বড় হযরতজীর চেয়ে বড় ছিলেন। বড় হযরতজী বারবার হযরত থানভী রহঃ -এর কাছে যেতেন। হযরত থানভী রহঃ-এর বিখ্যাত বাণী, ‘মাওলানা ইলিয়াস আমাদের নৈরাশ্যকে আশায় পরিণত করে দিয়েছে। আমরা চিন্তা করতাম আমরা ঘরে ঘরে যাই না কেন। আল্লাহ্‌ তা’আলা মাওলানা ইলিয়াস রহঃ-এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে দাওয়াত পৌঁছানোর সিলসিলা চালু করেছেন। এজন্য মিলেমিশে কাজ করা উচিত।’

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

উলামায়ে কেরামের মর্যাদা – العلماء ورثة الانبياء

উলামায়ে কেরামের মর্যাদা সম্পর্কে হযরত বলেন, হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, العلماء ورثة الانبياء – উলামারা সকল নবীর  ওয়ারিশ। আমার ওয়ারিশ বলেন নাই। সকল নবীদের ওয়ারিশ বলেছেন। আলেমরা হচ্ছেন নবীদের ওয়ারিশ। তাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা যাবেনা। ইংরেজি শিক্ষিত অনেক লোক নামায রোযা সকল ইবাদাত করেন কিন্তু উলামাদের সাথে মেশেননা। তাদেরকে ঘৃনা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ  সাদেকীনদের সাথে থাক। সাদেকীন কারা? হক্কানী উলামায়ে কেরাম, যারা সুন্নাতের উপর আমল করেন, তারাই সাদেকীন।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

ডান হাতে খাওয়া

হযরত বলেন, ডান হাতে খানা খেলেও পেট ভরবে, বাম হাতে খেলেও। কিন্তু সুন্নাত হচ্ছে ডান হাতে খানা খাওয়া। কোনো বৈজ্ঞ্যানিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। আমাদেরকে এটাই অনুসরণ করতে হবে। এক সাহাবী বাম হাতে খাচ্ছিলেন। হযরত উমর(রাঃ) তাকে ডান হাতে খাওয়ার জন্য সতর্ক করলেন। একদিন, দুদিন, তিন দিনের দিন চাবুক দিয়ে মারলেন। তারপর সেই সাহাবী তার হাত তুলে দেখালেন এবং বললেন ‘মুতার যুদ্ধে আমার ডান হাত শহীদ হয়ে গেছে।’ এটা দেখে উমর(রাঃ) কেঁদে কেঁদে তার কাছে মাফ চাইলেন। আর বায়তুল মাল থেকে ভাতা দিয়ে একজন খাদেম নিযুক্ত করে দিলেন, যে তাকে আ্মৃ্ত্যু ডান হাতে খানা খাওয়াবে। তারপরেও বাম হাতে খানা খাওয়ার অনুমতি দেননি।

– হযরতের বাণী সংকলন ‘আত্মশুদ্ধির পাথেয়’ হতে সংগৃহীত

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

‘দ্বীন’ শব্দের অর্থ

হযরত বলেন, দ্বীন শব্দের আনেক মানে। timthumbএটার এক অর্থ ধর্ম।

(৩ঃ১৯)  ان الدین عند اللہ السلام

আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘নিশ্চয় ইসলামই আমার কাছে একমাত্র দ্বীন’।

আবার আছে,

(৫ঃ৩)  الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ

‘আজকের এই দিনে আমি তোমার দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।’ এখানে দ্বীন মানে ধর্ম। আমরা পড়ি مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ । এখানে  يَوْمِ الدِّينِ  মানে ‘প্রতিফলের দিন’।   যেদিন প্রতিফল দেয়া হবে। শব্দ একই।   অর্থ ভিন্ন। দ্বীনের আলোচনা মানে আসলে ধর্মের আলোচনা। দ্বীনের আলোচনা মানে প্রতিফল দিবসের আলোচনা। আর পুরো কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা’আলা কেবল ঐ আলোচনাই করেছেন।

– হযরতের বাণী সংকলন ‘আত্মশুদ্ধির পাথেয়’ হতে সংগৃহীত

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

ইসালে সওয়াব

হযরত বলেন, হযরত থানভী (রাঃ) বলতেন, ‘তোমার যদি পিতামাতার জন্য ইসালে সওয়াব করতে মনে চায় বা দান করতে ইচ্ছে করে, তবে পাচঁ হাজার টাকা নিয়ে রাতের অন্ধকারে বের হয়ে গরিব দুঃখিদের মাঝে বিলিয়ে দাও। তারপর মনে মনে বল- আল্লাহ! এর সওয়াব আমার আব্বা আম্মার কবরে পৌঁছে দিন। এটা সাথে সাথে পৌঁছে যাবে। দু’আর জন্য হাত উঠানো বা জায়নামাজে বসা জরুরি নয়। আল্লাহ পাকের কাছে সরাসরি বলাই দু’আ**।’

– হযরতের বাণী সংকলন ‘আত্মশুদ্ধির পাথেয়’ হতে সংগৃহীত

** মৌলিকভাবে হাত উঠানো জরুরি না হলেও দু’আর সুন্নাত ও আদবসমূহের মধ্যে হাত উঠানোর কথাও এসেছে। দু’আর সুন্নাত ও আদবসমূহ বিস্তারিত  জানতে নির্ভরযোগ্য উলামায়ে কেরামের পরামর্শ নিন।

 

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather

সুন্নাহর গুরুত্ব

হযরত বলেন, ‘আজ এক মসজিদে মাগরিবের নামায পড়েছি। ফরজ নামাজের পর মাইকে জানাজার নামাজের ঘোষণা করা হলো। বলা হলো দু রাকাত সুন্নাত নামাজ পড়ে নেন। তারপর মসজিদের বাইরে খোলা চত্বরে জানাজার নামাজ পড়া হবে। আমরা জানাজার নামাজ পড়লাম। আজকাল হাজার হাজার মসজিদে জানাজার নামাজ হয় মসজিদের ভিতরে। আমি একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, কতো বছর ধরে মসজিদের ভিতর জানাজার নামাজ পড়ছো, আজ কেন বাইরে পড়লে? বলা হলো, ইমাম সাহেব বলেছেন, ‘আপনারা কি চান না, রাসুলের সুন্নাত জিন্দা হোক?’

ঠেকায় মসজিদের ভিতর জানাজার নামাজ পড়া যায়। এটা এলাউড (Allowed, জায়েয)। কিন্তু প্রিফার্ড লেভেল (Preferred Level, উত্তম) না। আপনার ছেলে এসে বললো, ‘আমি ‘বি মাইনাস’ পেয়েছি’। কী বলবেন? বলবেন, ‘আমি খুশি হতাম ‘এ প্লাস’ পেলে।’ পাশ তো করেছে, কিন্তু ‘প্রিফার্ড লেভেল’ না।

অনেকে হয়তো বলবে মসজিদের ভিতর কাতারে দাঁড়িয়ে ছিলাম, এখন বাইরে যাও, জুতা নাও, আবার কাতার সোজা করো। কতো সময় গেলো। ঈদের জামাত ঈদগাহে পড়া সুন্নাত নাকি মসজিদে পড়া? বহু জায়গায় ঝগড়া হয়, মৌলবীরা খালি বাড়াবাড়ি করেন। আপনি কিসের জন্য জানাজার নামাজ পড়েন? যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পড়েন তবে তো রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী পড়তে হবে। ইসলামে এই বিষয়টা Clearly Defined।’

– হযরতের বাণী সংকলন ‘আত্মশুদ্ধির পাথেয়’ হতে সংগৃহীত।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestmailby feather