Category Archives: Discourses (Bangla)

যিকির-২

হযরত বলেন, হাদীসে আছে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটি। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার। আপনি এখন রাস্তার মধ্যে পড়ছেন সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ। কত লোক যাচ্ছে-আসছে, আপনি তাকান না। রাস্তার মধ্যে লোকদের দিকে তাকিয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বললে সওয়াব বেশি হবে, নাকি ‘সুবহানাল্লাহ’ পড়লে বেশি সওয়াব হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটা। এই দুটোর মধ্যে মিল করার জন্য উলামায়ে কেরামের ব্যাখ্যার কাছে যেতে হবে।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমন বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটা, তেমনি মদিনা শরীফে তার প্রথম ওয়াযের কথা,

اَفْشُوْ السَّلَامَ وَأَطْعِمُوْا الطَّعَامَ وَصَلُّوْا بِالَّلْيلِ وَالنَّاسُ نِيَامُ تَدْخُلُوْا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ

‘মানুষকে বেশি বেশি সালাম দাও, মানুষকে বেশি বেশি খানা খাওয়াও এবং রাতের বেলায় নামায পড়, যখন সব মানুষ ঘুমিয়ে আছে। তাহলে বেহেশতে সালামের সাথে প্রবেশ করবে।’  মানুষকে খুব সালাম দাও। এটা বেহেশতি সম্ভাষণ। বেহেশতে সবাই সালামের সাথে প্রবেশ করবে। শুরুতেও সালাম, শেষেও সালাম। আপনাকে এখন বের করতে হবে, কোনটা আগে?

বাস যাচ্ছে, আযান হচ্ছে। হেলপার আযানের জবাব দিচ্ছে। সে বলল না, আজিমপুর, আজিমপুর। বহু প্যসেঞ্জার নামল না। কোনটা তার জন্য বেশি দরকার? অপনি বলবেন যে, আজিমপুর, আজিমপুর বললে তো নেকী হল না। আযানের জবাব দিলে নেকী হবে। আপনার এ কথাটাই ভুল। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ঐ ব্যক্তি যে শহরের অলিতে গলিতে চিৎকার করে বেড়াচ্ছে, ‘আছে কাগজ, পুরানো পাতিল।’ সে সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বললে লোকে বুঝবে কেমন করে যে সে কাগজ কিনবে? সে যদি হালাল রিযিকের নিয়তে কাগজ বলে, এটা সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ বলার সমান। তার ছেলে-মেয়ের জন্য হালাল রিযিকের জন্য কাগজ কাগজ  বলে, আজিমপুর আজিমপুর বলে। এটাতেই সে সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলার নেকী পাবে। আমাদের কাছে আসলে বলব, সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলাই নেকী হবে। আজিমপুর, আজিমপুর বললে নেকী হতে পারে না। এটার জন্য আপনাকে উলামাদের কাছে যেতে হবে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

না বুঝে কুরআন পড়ে লাভ কি

হযরত বলেন, ‘আমার আম্মা কুরআনে পাকের এমন আশেকা ছিলেন, বসে বসে কুরআন পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেলে দাঁড়িয়ে কুরআন পড়তেন। বারবার প্রশ্ন করা হয়, না বুঝে কুরআন পড়ে লাভ কি? হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির একটা ওয়াযই আছে এই বিষয়ের উপর। এই প্রশ্নটাকে নিয়ে ওয়ায করেছেন। বাংলায় প্রায় পঁচাশি পৃষ্ঠা। ওয়াযের নাম, ‘আলফাজুল কুরআন’।

আমি আমার নিজের গল্প বলি। আব্বাজান কুরআন শরীফ সুন্দর পড়তেন। ১৯৫৪ সালে ক্লাস টেন এ পড়ি। এ সময় তিনি খুব কুরআন পড়তেন। ফজরের আগে কুরআন পড়তেন। অফিসে থেকে সাধারণত আসরের পর বাসায় আসতেন। তখন কুরআন পড়তেন। মাগরিবের পর কুরআন পড়তেন। ইশার পর কুরআন পড়তেন। আমার এক শিক্ষকের কথায় আমি ডায়েরী লিখতাম। একদিন লিখেছি, ‘আব্বা এত কুরআন পড়ে!’

১৯৫৪ সালের প্রথম দিকে আমি কুরআনের তরজমা পাই। সূরা ইয়াসীনের আয়াত,

وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ৩৬:২২

‘আমার কি হল? আমি কেন তার ইবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন?’ এ আয়াতের তরজমা পড়ে খুব মজা পেলাম। তারপর থেকে তরজমা পড়া শুরু হল।

এমনিতে রোজ সকালে কুরআন পড়া আমার ডিউটি। কয়েকদিন পড়ি নাই। তরজমা পড়ি। আব্বা একদিন বললেন, ‘হামীদ! কুরআন শরীফ পড়স না?’ আমি বলে উঠলাম, ‘না বুঝে কুরআন পড়ে লাভ কি?’ এ কথা আমি আমার বাবাকে বলেছি। আমার আব্বাজান কিছুই বলেননি। আমাকে বকা, ধমক কিচ্ছু দেননি। আজকে সেই আমি এত বদলে গেলাম কিভাবে? এখানে উত্তরার বাড়িতে হিফযখানা করেছি হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল−াহি আলাইহির দু’আর বরকতে। এই বিল্ডিং এর একতলায় থাকতাম। দোতলায় অন্য ভাড়াটিয়া। দোতলা খালি হল। আমার মন চাইলো একটা মকতব করি। হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি এত মকতব মকতব করতেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথায় তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন,

خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ القران وَ عَلَّمَهُ

‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির বয়ান

হযরত বলেন, একবার টিএন্ডটির একজন অফিসার হযরত মাওলানা মুহাম্মাদল্লাহ হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে তার বাসায় দাওয়াত দিলেন। সেখানে মাত্র তিনজন শ্রোতার সামনে হযরত এমনভাবে বয়ান করলেন, যেন হাজার লোকের মাহফিলে বয়ান করছেন। আল্লাহওয়ালাদের নজর থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে, শ্রোতার সংখ্যার দিকে নয়।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

কুরআন মাজীদ সহীহ করা আর যিকির করা

হযরত বলেন, হরদুই হযরত কুরআন মাজীদ সহীহ করার জন্য সবচেয়ে বেশী তাগিদ দিতেন। দ্বীনের অন্যান্য লাইনেও যেসকল জিনিস আমরা ভোলার পথে ছিলাম, সেগুলো তিনি পুনর্জীবিত করেন। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি খুব কম কথা বলতেন। আর তার কথা বলার ভঙ্গিও ছিল অতি সহজ-সরল। হযরতের একটি কথা আমি প্রায় মজলিসে বলে থাকি। এটা আমার জন্য দলীল। আমি বলতে পারব যে, আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিয়েছি। এটা আমি আপনাদের সামনে রিপিট করেই যাব ইনশাআল্লাহ্।

১৯৮১ সনে হরদুই হযরত বাংলাদেশে আসেন। ৩৪ বছর ধরে পুনরাবৃত্তি করছি। ইনশাআল্লাহ, মৃত্যু পর্যন্ত করে যাব। কি পুনরাবৃত্তি করব? হরদুই হযরতের কথাগুলো। হাফেজ্জী হুযুরের কথাগুলো।  হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, ‘এমনভাবে দুনিয়ায় থাকেন একটা শ্বাসও যেন আল্লাহর যিকির থেকে খালি না যায়।’ অনেকে প্রশ্ন করেন, ‘মুখে তো যিকির ঠিকই আছে, কিন্তু মন তো পড়ে থাকে গুলিস্তানে, গুলশানে, সদরঘাটে, চাঁদপুরে। মন তো অন্য জায়গায়। তখন কী হবে?’ উলামায়ে কেরাম বলেন যে, মন অন্য জায়গায় থাকলেও যিকির চালিয়ে যাও। তুমি আল্লাহর শোকর কর। তোমার ঠোঁট-জিহ্বা আল্লাহর যিকিরে মগ্ন আছে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

সাহাবীদের মতো ঈমান আন

হযরত বলেন, সাহাবায়ে কেরামের চেয়েও ঈমানে আমলে অগ্রসর কে হতে পারবে? আল্লাহপাক তাদের মতো ঈমান আমল অর্জন করার জন্য কুরআন মাজীদে ইশারা করেছেন :

وَإِذَا قِيْلَ لَهُمْ آمِنُوْا كَمَا اٰمَنَ النَّاسُ قَالُوْا أَنُؤْمِنُ كَمَا اٰمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلٰكِنْ لَّا يَعْلَمُوْنَ

আর যখন তাদের বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মতো! মনে রেখ, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।

এখানে এসেছে, ‘যখন তাদের বলা হয়’, কারা তারা? তাদের বর্ণনা আল্লাহ আগেই দিয়েছেন আমাদের সতর্কতার জন্য :

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُوْلُ اٰمَنَّا بِاللهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِيْنَ

মানুষের মধ্যে কতক রয়েছে যারা বলে আমরা আল্লাহ্র  উপর বিশ্বাস করি। (আল্লাহ বলেন) তারা ঈমানদার নয়।

উলামায়ে কেরাম বলেন, এখানে মুনাফিকদের চরিত্র চিত্রণ করা হয়েছে। মুনাফিকদের কথা, কাফেরদের কথা আল্লাহপাক কুরআনে বলেন কেন? বলেন এজন্য যে, হে ঈমানদার বান্দারা, দেখ, তাদের মতো হয়ো না যেন।’ আল্লাহ বলেন, آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ ‘বিশ্বাস করো (মানে বিশ্বাস ও আমল দুটোই কর) যেমন মানুষেরা ঈমান এনেছে।’ তারা কারা? সকল উলামায়ে কেরাম ঐকমত্য এখানে নাস বলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় সাহাবীদের বোঝানো হয়েছে।

সাহাবীদের আমল দেখ। তাদের আখলাক দেখ। তাদের ঈমান দেখ। তাদের মতো হওয়ার তো প্রশ্নই নেই। কেননা ইসলামে তাদের অবস্থান পরিষ্কাভাবে বলা আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছাত্রদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন কে? হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু। তারপর কে? উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু। তারপর কে? উসমান গনী রাযিয়াল্লাহু আনহু, তারপর কে? হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু। এই ক্রমধারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে বারবার বলেছেন।

সাহাবায়ে কেরাম সমষ্টিগতভাবে সমস্ত উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের পরবর্তী কোনো অলিআল্লাহ তাদের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন না। এটা আমাদের আকীদা। অসুবিধার কিছু নেই। আমরা অনেক কম পরিশ্রম করে অনেক বেশী পাব। এই ওয়াদা আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই শুনিয়েছেন। আমরা কিছুতেই তাদের সমান হতে পারব না। তাদের ডিঙিয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিখ্যাত কথা :

خَيْرُ أُمَّتِيْ الْقَرْنُ الَّذِيْ بُعِثْتُ فِيْهِمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ

সর্বোত্তম লোক তারা, যাদের কাছে আমি প্রেরিত হয়েছি (অর্থাৎ সাহাবাগণ)। তারপর তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন (অর্থাৎ তাবেঈ)।

পাহাড়ের চূড়ায় সাহাবায়ে কেরাম। তারপর তারা, যারা তাদের পরে এসেছেন। তারপর যারা তাদেরও পরে এসেছেন। কিন্ত আমাদের উপরের দিকে উঠতে হবে। এই ওঠার কোনো সীমা নেই।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

দ্বীনি মজলিস

হযরত বলেন, হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, আসেন একটু দ্বীনের আলোচনা করি। উদ্দ্যেশ্য কী? আখেরাতের তলব বাড়ানো। আখেরাতের তলব তো আমাদের আছেই। একদিন কবরে যাব। আখেরাতের পথে পাড়ি জমাব। জানি আমরা। কিন্ত তার পরিমাণ বাড়ানো দরকার। আর বাড়ানোর জন্য এসব দ্বীনি মজলিস। এই মর্মে হরদুই হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি একটি আয়াত বারবার বলতেন,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرٰى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِيْنَ

আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারদের উপকার করবে।

ذَكِّرْ  মানে মনে করিয়ে দেন, আলোচনা করেন, নসিহত করেন। فَإِنَّ الذِّكْرٰى মানে নিশ্চয়ই মনে করিয়ে দেওয়া, নসিহত করা, تَنفَعُ الْمُؤْمِنِيْنَ – ঈমানদারদের উপকৃত করবে। ঈমানের লাইনে উন্নতি করার জন্য, দ্বীনের কথা পড়া দরকার, শোনা দরকার। এজন্য দ্বীনের মজলিসে বারবার বসা দরকার। একই কথা বার বার আল্লাহপাক কালামে পাকেও বলেছেন।

فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ   لَسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ

আপনি নসিহত করেন। আপনি তো নসিহত করার জন্যই। আপনাকে দারোগা বানাইনি।

জোর জবরদস্তি করে, ধরে টেনে টেনে আনবেন বিষয়টা সেরকম না। আবার,

فَذَكِّرْ بِالْقُرْاٰنِ مَنْ يَّخَافُ وَعِيْدِ

‘কুরআন দিয়ে মনে করিয়ে দেন তাকে, যে আমার ভীতি প্রদর্শনকে ভয় করে।’

মানে আল্লাহকে বিশ্বাস করা, রাসূলকে বিশ্বাস করা, আখেরাতকে বিশ্বাস করা। একই কথাকে আল্লাহপাক বারবার কালামে পাকে বলেছেন। আর এই কাজটা তার প্রিয়। তিনি বলেছেন,

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا

وَقَالَ إِنَّنِيْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ

তার চেয়ে আর কার কথা সুন্দর, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, নিজে সৎ কাজ করে এবং বলে, আমি একজন মুসলমান?

আল্লাহর দিকে আহ্বান করার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে, বিভিন্ন দিক রয়েছে। অবিশ্বাসীদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করা এটাও দাওয়াত। বিশ্বাসীদের আহ্বান করা সেটাও দাওয়াত। যারা ঈমানের উপর রয়েছে, তাদের ঈমানের প্রবৃদ্ধি ঘটানো এটাও দাওয়াত।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

যিকির

হযরত বলেন, হরদুই হযরত মাওলানা আবরারুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, চলতে ফিরতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়বে। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, চলতে ফিরতে দরূদ শরীফ পড়বে। কোনো অসুবিধা নেই। যার মনে চায় দরূদ শরীফ পড়বে। যার মনে চায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়বে। আল্লাহপাকের নাম জবানে থাকা। কাজে চলছে হাতে, আর জবান থাকবে যিকিরে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ

হযরত বলেন, কুরআন মাজীদের বিখ্যাত আয়াত :

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اجْتَنِبُوْا كَثِيْرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ  وَلَا تَجَسَّسُوْا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا

মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ।এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারো পশ্চাতে নিন্দা না করে।

বেশি বেশি অনুমান করা নিষেধ। অনুমান করেই সংসারের সর্বনাশ হয়। পাশের ঘরে টেলিফোন লাইনে আড়ি পেতে শোনা কবিরা গোনাহ।  অন্যের দোষ আলোচনা করা যাবে না। অথচ আমাদের সমাজে দেখা যায় Ñ খুব পরহেজগার, পর্দায় একশ, তাহাজ্জুদে একশতে একশ; কিন্তু অন্যের সম্পর্কে বদ ধারণা করে। এটা কবিরা গোনাহ। গীবত একটি মস্ত বড় কবিরা গোনাহ। যিকির করলাম লাখ লাখ বার, নফল নামায পড়লাম হাজার হাজার । কিন্ত গীবত একই সঙ্গে চলছে। অন্যের সম্পর্কে বদ ধারণা চলছে। গোনাহ আমলকে শেষ করে দিচ্ছে। এজন্য আসল কাজ হলো গোনাহ ছাড়া। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন ‘গোনাহ ছাইড়া দেন।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

রমযান মাস কুরআনের মাস

হযরত বলেন, ‘কুরআনের আলোচনা সবচেয়ে দামি। সামনে আসছে রমযান। রমযান সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْ أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيْضًا أَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيْدُ اللهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيْدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلٰى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ

রমযান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা‘আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।

রমযান মাস, এ মাসেই নাযিল হয়েছে কুরআন। রমযান মাসের এত দাম কেন? কত দাম? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান শরীফ আসার দুমাস আগে থেকেই দু‘আ করতেন। রজব মাসের আগমন হলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটা দু‘আ পড়তেন,

اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْ رَجَبَ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ

হে আল্লাহ, আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসের বরকত দান করুন। আমাদেরকে রমযান মাসে পৌঁছে দিন।

অর্থাৎ রমযান মাস পর্যন্ত আমি যেন হায়াত পাই, আমি যেন সুস্থ থাকি। রোযাগুলো আমি যেন রাখতে পারি। এজন্য দুমাস আগে থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু‘আ করছেন। উম্মতকে শিক্ষা দিচ্ছেন। কত দামি মাস রমযান। সেই মাস সম্পর্কে কুরআনের ভিতর কি উক্তি,

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ

হে ঈমানদারেরা, তোমাদের জন্য রোযাকে ফরয করা হলো, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের উপর। যাতে তোমরা খোদাভীতি অর্জন করতে পার।

রমযান মাস সম্পর্কে কুরআনের আয়াত شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْ أُنزِلَ − ‘রমযান মাস, এ মাসেই নাযিল হয়েছে কুরআন।’ এটুকু বলেই কুরআনের তিনটি বিশেষণ বলেছেন আগে। তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পায়, সে যেন রোযা রাখে। রমযান অতি বড় নেকীর মাস। এই মাসে একটা আমলের দরজা সত্তর গুন বাড়ে। হাজার নফল, কোটি নফলও একটা ফরযের সমান না। আপনি ফজরের নামায পড়লেন না। সারারাত জেগে জেগে নফল ইবাদত করলেন Ñ সমান হবার প্রশ্নই আসে না। ফরযের দাম এত বেশি। কিন্তু রমযান মাসে নফলকে ফরযের মর্যাদা দেওয়া হয়। নেকী সত্তর গুন বেড়ে যায়। রমযান নেকী কামাই করার মাস।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

ইসলাম এবং সাইন্স, টেকনোলজি

হযরত বলেন, ‘আজ সাইন্স, টেকনোলজির নাম দিয়ে আমাদের ধোঁকা দেওয়া হয় বেশি। এখন সাইন্স এর যুগ, টেকনোলজির যুগ, আপনাদের এসব পুরাতন কথা চলবে না ইত্যাদি। অথচ আল্লাহর নেক বান্দারা আমাদের দেখাচ্ছেন যে, সাইন্স-টেকনোলজি একদিকে মানুষের আরামকে বাড়িয়েছে; আপনি এখানে বসে আছেন, মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে, আমাদের আরাম বাড়িয়েছে। অন্যদিকে অনেক বিষয়ে জ্ঞান বাড়িয়েছে। আল্লাহপাকই তার বান্দাদের এসব করার তাওফীক দিয়েছেন। তারা সাইন্স এবং টেকনোলজির মাধ্যমে আল্লাহর কুদরত আরও সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করছেন। কুরআন শরীফের সূরা আয-যারিয়াতে একটা ছোট আয়াত,

وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوْعَدُوْنَ

আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক, আর যা তোমাদের ওয়াদা করা হয়েছে।

যমীনের মধ্যে এই ছোট দানা থেকে পাতাটা কে বের করে? তোমাদের কোনো সাধ্য নেই পাতা বের করার। এখন বিজ্ঞানীরা বলে, আল্লাহপাক বলেছেন আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক। একটা তো সূর্যের প্রয়োজনীয়তা।

            আলো সূর্য থেকে আসে।

            তাপ সূর্য থেকে আসে।

            পানিও আকাশ থেকে আসে।

            বাতাস, এটাও আকাশে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, গাছের প্রতিটি পাতা একটি ফ্যাক্টরি। রাতে এই ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকে। সুবহান্নাল্লাহ। আমরা জানতাম, সূর্য আমাদের আলো দেয়, তাপ দেয়। কিন্তু আমাদের খাদ্যকণা তৈরীর জন্য যে সূর্যের অবদান কত বড়—আগে মানুষ এটা জানত না। এখন জানে। বাতাসের মধ্যে আছে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস। পরিমাণে একদম কম। মাত্র ০.০৩২%।

পাতার ক্লোরোফিল বাতাস থেকে এই কার্বন ডাই অক্সাইড নেয়। আর এর সঙ্গে সূর্যের আলো নেয়, যমীন থেকে পানি নেয়। এবারে গ্লুকোজ তৈরী করে। বিজ্ঞানীরা বলেন, সারা পৃথিবীর প্রতিটি পাতা, প্রতিটি খাদ্যকণা, প্রতিটি ঘাস, প্রতিটি গমের মধ্যে কার্বন আছে। কার্বন কোথা থেকে এল?

যমীনে কার্বন নেই। বলে যে, ঐ বাতাসের ০.০৩২% থেকে আসে। সারা দুনিয়ায় কত কার্বন আছে? আমেরিকান এনসাইক্লোপেডিয়া -এ আছে, সারা দুনিয়ায় দশ হাজার কোটি টন কার্বন আছে। কত সুবহান্নাল্লাহ বলবেন?

أَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنشِئُوْنَ

তোমরাই কি এর (লাকড়ির) গাছ উৎপাদন কর, না আমি করি?

তুমি চাষ কর, না আমরা চাষ করি? আমরা জানতাম যে, যমীন ফেঁটে গাছের পাতা বের করে। কিন্তু প্রতিটি পাতা যে একটা ফ্যাক্টরি, এটা জানতাম না।

বরগে দরখতানে সাবজ দার নাজরে হুঁশিয়ার

হারওরাক দফতাস্ত মারেফাত কিরদেখার

শেখ সাদীর কবিতা। আটশত বছর আগের কবিতা। প্রতিটি গাছের পাতা আল্লাহপাকের কুদরতের কারখানা। যদি কেউ নসিহত নিতে চায়, তবে তা নসিহতের জিনিস। আল্লাহপাক এখান থেকে নসিহত নেওয়ার তাওফীক দেন। আধুনিক মানুষ এর ধারে কাছে আসে না। তারা ধোঁকা দেয় এখন সাইন্স-টেকনোলজির যুগ, এখন কুরআন হাদীসের যুগ না। আহাম্মক!

Facebooktwitterpinterestmailby feather