Category Archives: Discourses (Bangla)

উপকারি জ্ঞান

হযরত বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু‘আ,

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَّا يَنْفَعُ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পানাহ চাই এমন জ্ঞান থেকে যে জ্ঞান কোনো উপকার করবে না।

জীবনের পারিপার্শ্বিকতায় প্রতিদিন আমরা যেসব কাজে সময় ব্যয় করি, দেখা যাবে এগুলোর বিরাট অংশ উপকারী নয়। এমনসব জিনিস জানা বা শেখা অথবা এমন কিছু নিয়ে আলোচনা করে সময় ব্যয় করছি, যেগুলো আমাদের কোনো উপকার করে না। আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে বলেছেন, আঠার পারার প্রথম লাইনে,

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ  الَّذِيْنَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُوْنَ

সফল হয়ে গেল ঈমানদারেরা, যারা নামাযের মধ্যে খুশু-খুযু অবলম্বন করে।

অর্থাৎ পুরোপুরি সুন্নাত তরীকায় নামায পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তিন নম্বর আয়াত,

وَالَّذِيْنَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُوْنَ

যারা অসার কথাবার্তা, অসার কার্যকলাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

কোথায় নামায, কোথায় এটা? একটা করা, ‘নামাযে খুশু-খুযু অবলম্বন করো’, আর অন্যটা না করা; অসার কথা বা কাজ যেটার কোনো ফায়দা নেই। না দুনিয়ার লাভ, না আখেরাতের লাভ! আমরা যদি বিশ্লেষণ করি, আমার ঘণ্টাগুলো কোন কাজে গেল—খুব সহজেই বের হয়ে আসবে। দেখা যাবে, অনেক সময় আমার এমন কাজে খরচ হয়েছে যেটা না দুনিয়ার কাজে লাগবে, না আখেরাতের কাজে লাগবে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির নেযামুল আওকাত

হযরত বলেন, হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির কথা সহজ : গোনাহ ছাইড়া দেন, সুন্নাত ধরেন। তিনি অনেক সময় বলতেন, চলার সময় কুরআন শরীফের আয়াত পড় অথবা দরূদ শরীফ পড়। বারবার দরূদ শরীফ পড়। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির গল্প অনেকবার তার নিজের মুখেই শুনেছি : ‘আমি যখন মাদরাসায় পড়ি, তখন জায়গীর বাড়ি থেকে নিয়মিত সাহারানপুর মাদরাসায় যেতাম। আর প্রত্যেক বৃহস্পতি ও শুক্রবার হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির খানকায় হাজির হতাম। একবার হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আমাকে বললেন, ‘তোমার নেযামুল আওকাত পেশ কর।’ মানে কখন কি কর লিখে দাও।

হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখে পেশ করলেন; এতটায় ফযরের জন্য উঠি, অযু করি, মসজিদে যাই, নামায পড়ি, ফিরে আসি। হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন যে, খুব ভালো লিখেছ। কিন্তু একটা সময় কি কর সেটা লেখনি। একটা সময় মানে তুমি যখন জায়গীর বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাও, মাদরাসা থেকে ফের, তখন কি কর? এই যে হাঁটাহাঁটির মধ্যে থাক তখন কি কর? তিনি নিজে লিখে দিলেন, এই সময় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ যিকির করবে।

এখন আপনাদেরকে হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির কথা শোনাই। তিনি বলতেন, ‘হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই কথা অনুযায়ী আমল করে আমার জীবনে কি যে ফায়দা হয়েছে!’ কি হয়েছে? আপনারা বুঝে নিন।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

শিশু সাহাবিদের কুরআন

হযরত বলেন, মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা গল্প বলেছেন, ‘আমরা মক্কা শরীফে এই আয়াত পড়ে খেলা করতাম।

سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّوْنَ الدُّبُرَ

এ দল তো সত্ত্বরই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে।

সূরা কমারের আয়াত। তখন তার বয়স ছয়। খেলার সময় এই আয়াতটি পড়তাম। মানে মক্কায় সমস্ত দল মিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ধ্বংস করতে যাবে।  কিন্তু ওরাই হেরে যাবে। এই থেকে দেখা যায়, মক্কা শরীফের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও কঠিন কঠিন আয়াত পারত।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

একজন জান্নাতী মানুষ

হযরত বলেন, ‘অন্যের সম্পর্কে মনকে সাফ রাখা উচিত। একজন সাহাবীর গল্প আছে। একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, একজন জান্নাতী এখন মসজিদে প্রবেশ করবে। কিছুক্ষণ পর একজন মদীনার আনসার সাহাবী এলেন। তার বাম হাতে জুতা, দাড়ি থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। দ্বিতীয় দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবারও একই কথা বললেন, একজন জান্নাতী মানুষ আসবেন। সবাই দেখল ঐ একই মানুষ। তার বাম হাতে জুতা। দাড়ি থেকে টপটপিয়ে পানি পড়ছে। তৃতীয় দিনও ঐরকম হলো।

এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু ঐ ব্যাক্তির পিছু নিলেন। তার সঙ্গে তিন দিন থাকলেন। একেবারেই সহজ সরল সাধারণ মানুষ। কোনো বড় নেক আমল নেই। তিনি নিজেও বললেন, ‘আমার কোনো আমল নেই।’ তারপর তিনি যখন চলে আসছেন তখন ঐ আনসার সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে বললেন, শোন, একটা কথা বলি, আমার একটা অভ্যাস আছে, কোনো মুসলমান সম্পর্কে আমার মনে কোনো গিট্টু নেই। কোনো মানুষের প্রতি আমার কোনো হিংসা বিদ্বেষ নেই।’ কুরআনের আয়াত হলো,

يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُوْنَ

إِلَّا مَنْ أَتَى اللهَ بِقَلْبٍ سَلِيْمٍ

যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না; কিন্তু যে পরিশুদ্ধ কলব নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।

সেদিন কী উপকারে আসবে? সুস্থ সহজ সরল অন্তঃকরণ। কারও সম্পর্কে কোনো বিদ্বেষ নেই, হিংসা নেই। লোভ নেই, লালসা নেই। সবার সম্পর্কে সাফ অন্তর। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এই লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার তাওফীক দিন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি

হযরত বলেন, কোন পেশা সর্বশ্রেষ্ঠ? হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির কথা খুবই পরিষ্কার। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেই গিয়েছেন,

خَيْرُكُمْ مَّنْ تَعَلَّمَ الْقُراٰنَ وَعَلَّمَه̒

তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি যিনি কুরআন শিখেন এবং শিক্ষা দেন।

এখানে ‘যিনি কুরআন শিখেন’ এটুকু বলে যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেমে যেতেন, তাহলে একটা কথা ছিল। কিন্তু তিনি বলেছেন, ‘এবং যিনি এটা শিক্ষা দেন।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মুনাজাতে মাকবুল

হযরত বলেন, আমাদের কথা সহজ সরল। আমরা সেই আমল করতে চাই, যেটা আল্লাহর কাছে অপমানিত করবে না। এজন্য দু‘আ করতে বলা হয়েছে,

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ كُلِّ عَمَلٍ يُّخْزِيْنِيْ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ كُلِّ صَاحِبٍ يُّرْدِيْنِيْ ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ كُلِّ أَمَلٍ يُّلْهِيْنِيْ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ كُلِّ فَقْرٍ يُّنْسِينِي ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ كُلِّ غِنًى يُّطْغِيْنِيْ

হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আমার এমন কর্ম থেকে আশ্রয় চাই, যা আমাকে লাঞ্ছিত করবে, এমন বন্ধু থেকে যে আমাকে অপদস্থ করবে, এমন আশা থেকে যা আমাকে গাফেল করবে, এমন দারিদ্র থেকে যা আমাকে সবকিছু ভুলিয়ে দিবে এবং এমন ধনাঢ্য থেকে যা আমাকে উদ্ধতকারী বানাবে।

মুনাজাতে মাকবুল কিতাবের একটি বিখ্যাত দু‘আ।  অপূর্ব দু‘আ। আমাকে এমন দীর্ঘ আশা থেকে রক্ষা করেন যেটা আমাকে ধোঁকায় ফেলবে। এই টিভিটা আর কয়েকদিন পরে ছেড়ে দিব। আর কয়দিন, আর কয়দিন। এই দীর্ঘ আশা আমাদেরকে ধোঁকায় ফেলে।

এক গোনাহ আরেক গোনাহকে টানে। শরীয়তের হুকুম হলো, প্রতিটি গোনাহ আগুন। হযরত মাওলানা আবরারুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহি সবসময় বলতেন ‘গোনাহ ছাড়; বাইরের গোনাহ ছাড়, ভিতরের গোনাহও ছাড়’। এমন প্রাচুর্য থেকে আমাকে রক্ষা করেন, যে প্রাচুর্য আমাকে নাফরমানীর দিকে ঠেলে দেয়। অদ্ভুত ছন্দময় দু‘আ। বেশিরভাগ সময় বেশী টাকা পয়সা বেশী গোনাহে লিপ্ত করে। যতবেশি পয়সা ততবেশি নাফরমানী।

এমন দারিদ্র থেকে পানাহ চাই, যা আমাকে আপনাকে ভুলিয়ে দিবে। দু‘আর জন্য মুনাজাতে মকবুল পড়া চাই।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

নূরানী ট্রেনিং

হযরত বলেন, ১৯৭৬ সনে হযরত হাফেজ্জী হুযুরের সাথে নূরীয়া মাদরাসায় রমযানের সময় এতেকাফ করার সৌভাগ্য নসীব হলো। ২১শে রমযান রাতে হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, ‘আপনারা আমার সাথে এতেকাফ করতে এসেছেন। আগামীকাল আমার খলীফা মাওলানা বেলায়েত হোসেন সাহেব আপনাদের নূরানী ট্রেনিং দিবেন।’ মাওলানা বেলায়েত হোসেন সাহেব হযরতের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি কলকাতা মাদরাসায় পড়তাম। বার বার উলামায়ে কেরামের কাছে কুরআন পাকের আয়াত শুনতাম। এই আয়াতটা সূরা কমারের মধ্যে চারবার এসেছে:

وَلَقَدْيَسَّرْنَا الْقُرْاٰنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ

আমি কুরআন বোঝার জন্য সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোনো চিন্তাশীল আছে কি?

আমি কেবলই চিন্তা করতাম, আল্লাহপাক কুরআন এত সহজ করেছেন, সহজ উপায়ে শিশুদের কীভাবে কুরআন শেখানোর পদ্ধতি বের করা যায়? আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমি নূরানী পদ্ধতিতে তার কিছু সমাধান পেয়েছি।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির সাদাসিধা কথা

হযরত বলেন, হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছ থেকে শোনা কথাগুলো আপনাদের উপহার দিচ্ছি। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির সাদাসিধা সহজ-সরল কথা, ‘আখেরাতের রাস্তা তৈরী করেন।’ আমরা যে কোনো সাধারণ মানুষ বুঝি আখেরাতের রাস্তা তৈরী করা মানে কী? পাঁচ ওয়াক্ত জামাতে নামায পড়া, দাড়ি রাখা, পর্দা করা Ñ মোটামুটি কথাগুলো আমরা সবাই জানি। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির সহজ-সরল কথাগুলো যদি বলে দেওয়া যায় সেটাই যথেষ্ট। ‘গোনাহ ছাইড়া দেন, গোনাহ ছাইড়া দেন, সুন্নাত ধরেন’—একদম সহজ-সরল কথা। ‘এমনভাবে দুনিয়ায় থাকেন, যেন একটা শ্বাসও আল্লাহর যিকির থেকে খালি না যায়।’ এগুলো বোঝার জন্য কোনো বড় মাপের এলেম দরকার নেই।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মসজিদের জামাত

হযরত বলেন, একবার হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং হরদুই হযরত এশার নামায পড়ে এসে দেখলেন, দফতরে কয়েকজন মিলে জামাত করে নামায পড়ছে। পরদিনও একই অবস্থা। লালবাগ কিল্লার মোড়ে দাওয়াতুল হকের কার্যালয় ছিল। সেখান থেকে মসজিদ কিছুটা দূরে। সুতরাং নামাযের সময় হলে লোকেরা সেখানেই নিজেরা জামাত করে নামায পড়ে নিত। এটা দেখে হরদুই হযরত বলে উঠলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে জামাতের জন্য তাকীদ করেছেন, সেটা এই জামাত নয়। সেটা মসজিদের জামাত।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

চোখের গোনাহ-২

একজন ইঞ্জিনিয়ার সাহেব এসে বললেন, ‘আমি বিমানে চাকুরি করি। সেখানে আমার অনেক নারী সহকর্মী আছে। এ অবস্থায় আমি কীভাবে এই চাকুরি করব?’ হযরত বললেন, ‘নজর বাঁচিয়ে চলতে হবে। চাকুরি ছাড়া যাবে না।’ তারপর হযরত নিজের কথা বলতে গিয়ে বললেন, ‘একবার উদয়ন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে আমাকে মেম্বার বানানো হলো। কমিটিতে আমিই একমাত্র পুরুষ আর সব নারী।

আমি হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে এই অবস্থা জানালাম। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি আমাকে বললেন, ‘নজর বাঁচিয়ে কাজ করেন।’ তবু কমিটি ছাড়ার অনুমতি দিলেন না। আমি সেই কমিটিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। কখনো চোখ তুলে কোন মহিলার দিকে তাকাইনি।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather