আমি কিভাবে আল্লাহর শোকর আদায় করব

হযরত বলেন, শাইখুল হাদিস আল্লামা হযরত আযিযুল হক সাহেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, ‘আমি কিভাবে আল্লাহ্‌র শোকর আদায় করব যে, আমার মেয়েগুলো সবাই আল্লাহ্‌ পাকের কালামের সাথে এত মহব্বত রাখে! আমার আটজন মেয়ে, সবাই কুরআনের পাগল।’ শাইখুল হাদিস রাহমাতুল্লাহি আলাইহির পরিবারের মেয়েরা, নাতি নাতনি সবাই হাফেজ-হাফেজা। পুরো পরিবারে এক অদ্ভুত ফুল বাগানের দৃশ্য।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

পুরনো মানুষদের নিয়েই মাহফিল করো

হযরত বলেন, ঘরোয়া মাহফিলে আমরা একই চেহারা বার বার দেখি। সচরাচর যারা পরিচিত, তারাই আসে। আমরা বলি, ‘মাহফিলে নতুন লোক আসেনা।’ অসুবিধা নেই। সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ বলেন

إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ

‘আপনি কেবল তাদের সতর্ক করুন যারা নসিহত অনুসরণ করে।’

নসিহত অনুসরণ করে কারা? পুরনো মানুষেরাই তো। তাদের নিয়েই মাহফিল করো।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

কুরআন হেফয-১

হযরত বলেন, ‘হেফয ছাড়া কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের মজা পাওয়া কঠিন। আমি বলি, হেফয না করলে কুরআন স্বাভাবিকভাবে তিলাওয়াতও করা যায়না। আমরা যখন কুরআন পড়ি, তখন নাতিরা বলে উঠে, ‘নানা! এখানে ভুল হয়েছে।’ হেফযের পর তাকে আলেমও হতে হবে। তবেই সে কুরআনের আসল স্বাদ পাবে। একদিন একটা কাজে ব্যাংকে গিয়েছি। ব্যাংকের ম্যানেজার সাহেবের সাথে কথা হচ্ছে। যখন তিনি জানলেন যে, আমি আমার সন্তানদের হাফেজ বানিয়েছি, তখন বলে উঠলেন, ‘কেন আপনি ছেলেমেয়েদের সময় নষ্ট করলেন?’ অথচ কুরআন মুখস্থ না থাকলে কুরআনের আয়াত পরম্পরায় সম্পর্ক ও অর্থ বুঝে আসবে না।’

  • ‘প্রফেসর হযরতের মালফুযাত’ – বই থেকে সংগৃহিত
Facebooktwitterpinterestmailby feather

সূরা যুমার, সূরা মুলক আর সূরা জাসিয়া’র আয়াতের উপর হযরতের অসাধারণ একটি বয়ান

হযরত হামিদুর রহমান সাহেব (দামাত বারাকাতুহুম) এই বয়ানটি রাখেন শ্যমলীতে ২৫শে জুলাই, ২০১৮ তারিখে। মুফতি আব্দুল মালেক সাহেব আর মুফতি রিযওয়ান সাহেবের বক্তব্যও আছে।

*হেডফোন ব্যবহার করুন

ডাউনলোড

Facebooktwitterpinterestmailby feather

বিশ্বাস ও প্রত্যয়

وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُوۡقِنُوۡنَؕ‏
‘আখিরাতের উপর তাদের বিশ্বাস মজবুত।‘। হযরত মুফতী শফী (রহঃ) বলেন, এটি কুরআন শরীফের প্রথম পাতার আয়াত। ডান দিকে সূরা ফাতিহা, বাম দিকে সূরা বাকারা। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন,
الَّذِيۡنَ يُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡغَيۡبِ وَ يُقِيۡمُوۡنَ الصَّلٰوةَ وَمِمَّا رَزَقۡنٰهُمۡ يُنۡفِقُوۡنَۙ‏ ﴿﴾ وَالَّذِيۡنَ يُؤۡمِنُوۡنَ بِمَۤا اُنۡزِلَ اِلَيۡكَ وَمَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِكَۚ وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُوۡقِنُوۡنَؕ‏
‘যারা ঈমান আনে গায়ীবের উপরে, যারা নামায কায়েম করে, আর আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি সেখান থেকে যারা তাদের মাল খরচ করে। যারা ঈমান আনে তাতে, যা আপনার উপর নাযিল হয়েছে এবং আপনার আগে যা নাযিল হয়েছে। আর আখিরাতকে যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে।‘

মানে পূর্ববর্তী সব নবীদের উপরে আমাদের ঈমান। এখানে শেষ কথা হলো, আখিরাতের উপর তাদের বিশ্বাস মজবুত। হযরত মুফতি শফি (রহঃ) বলেন, এখানে আল্লাহ্‌ বলেননি, وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُؤۡمِنُوۡنَ । তিনি বলেছেন, وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُوۡقِنُوۡنَ । এখন এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য কী? يُؤۡمِنُوۡنَ শব্দ ব্যবহার করলে অর্থ হতো, আখিরাতের উপর বিশ্বাস করে আর يُوۡقِنُوۡنَ মানে দৃঢ়ভাবে মজবুত ভাবে, চরমভাবে বিশ্বাস করে। যেন এটি একটি প্রত্যয়। আমি যেন চোখে দেখছি। এরকম ভাবে আখিরাতে উপর বিশ্বাস করা তাঁরা। এই বিশ্বাস সাহাবীদের ছিলো। হযরত আলী(রাযিয়াল্লাহুতাআলা আনহু) বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূলের কাছে শুনে শুনে আখিরাতের উপর বিশ্বাস আলহামদুলিল্লাহ আমার এমন হয়েছে যে, দোযখ কেমন, জান্নাত্ কেমন- আজকে যদি স্বচক্ষে জান্নাত দেখি আর জাহান্নাম দেখি তা হলে আমার প্রত্যয়ে বিন্দুমাত্র বৃদ্ধি ঘটবেনা। আমাদের কি সে রকম ঈমান? আখিরাতে উপর তাঁদের বিশ্বাস অত্যন্ত মজবুত, ইয়াক্বীন করে তাঁরা। সুদৃড়ভাবে বিশ্বাসী তাঁরা।
একটি কথা হল, তাওহীদ। এক আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস। কোন রকমে কোন কিছুর সঙ্গে তাঁর কোন শরীক করা যাবেনা। দুই, রাসুলদের উপর বিশ্বাস। যদি কেউ বলে, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ মানি কিন্ত তাঁর আগের নবীদের মানি না – তা হলে হবে না তার ঈমান।
كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓٮِٕكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ
‘সকল ঐশী কিতাবের উপর ঈমান, সকল পূর্ববর্তী নবী তাঁদের সবার উপর বিশ্বাস।‘ কেন? তাঁরা একই ইসলাম নিয়ে এসেছেন। যুগে যুগে আল্লাহ্‌ তাআলা একই ইসলাম পাঠিয়েছেন। সেই ইসলামেরই সর্বশেষ ধাপ হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আর এর মূল কথা, তোমার প্রতিপালক তোমাকে অহেতুক তৈরী করেননি। তোমাকে তাঁর সামনে দাঁড়াতে হবে, এ কথাটি যদি প্রত্যয় হয়, তাহলে আচরণ হবে ভিন্ন। একটি হচ্ছে বিশ্বাস আর একটি হচ্ছে প্রত্যয়। প্রত্যয় শব্দটি বাংলায় ব্যবহার হয় অনেক বেশী মজবুত বিশ্বাস বুঝানোর জন্য। যেমন দেখলে মনে হয় যে, এই দেখলাম। এই পর্যায়ের বিশ্বাস। সাহাবীকেরামগণ এই বিশ্বাসের পর্যায়ে গিয়েছিলেন। যার জন্য আলী(রাযিয়াল্লাহু আনহু) ঐ কথা বলতেন।

-হযরতের বয়ান সংকলন ‘ইসলামের দাবী ও আমাদের বাস্তব জীবন’ থেকে সংগৃহীত

Facebooktwitterpinterestmailby feather

আল্লাহ্‌র উপর এক্বীন

আল্লাহ্‌র উপর এক্বীন

হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) –এর বিখ্যাত গল্প। তিনি বলেন যে, আমি তখন সাহরানপুরে পড়তাম। তুর্কিদের খুব দুরবস্থা। প্রথম মহাযুদ্ধের কথা। তখন সাহরানপুরে খুব বড় একটা মিটিং হলো। ঐ মিটিঙে খুব দোয়া হলো তুর্কিদের জন্য। সবাই মিলে সম্মিলিত দোয়া হলো। সবাই চলে যাওয়ার পরে আমিও আল্লাহর কাছে মাঠের কোণার মধ্যে কান্নাকাটি করে একলা দোয়া করলাম। অনেকক্ষণ দোয়া করলাম। তিন দিন পর খবর এল যে, তুর্কিদের জয় হয়েছে। আমার মনে হলো আল্লাহ পাক আমার দোয়া  কবুল করেছেন। হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) – এর কথা এরকম শিশুর মত সরল; ‘আমার দিলে কয় আমার দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন। সবার সঙ্গে দোয়া করার পরে আমি যে আবার একলা আল্লাহ্‌র কাছে কেঁদেছি।‘ আল্লাহ্‌র উপর কী রকম তাঁর এক্বীন! কী রকম সহজ-সরল কথা!

-প্রফেসর হযরতের বয়ান সংকলন ‘ইসলামের দাবী ও আমাদের বাস্তব জীবন হতে সংগৃহীত

Facebooktwitterpinterestmailby feather

a site based on Islamic lectures of Hazrat Professor Muhammad Hamidur Rahman (DB)

প্রফেসর হযরত

FREE
VIEW