Tag Archives: ঈমান

সাহাবীদের মতো ঈমান আন

হযরত বলেন, সাহাবায়ে কেরামের চেয়েও ঈমানে আমলে অগ্রসর কে হতে পারবে? আল্লাহপাক তাদের মতো ঈমান আমল অর্জন করার জন্য কুরআন মাজীদে ইশারা করেছেন :

وَإِذَا قِيْلَ لَهُمْ آمِنُوْا كَمَا اٰمَنَ النَّاسُ قَالُوْا أَنُؤْمِنُ كَمَا اٰمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلٰكِنْ لَّا يَعْلَمُوْنَ

আর যখন তাদের বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মতো! মনে রেখ, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।

এখানে এসেছে, ‘যখন তাদের বলা হয়’, কারা তারা? তাদের বর্ণনা আল্লাহ আগেই দিয়েছেন আমাদের সতর্কতার জন্য :

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُوْلُ اٰمَنَّا بِاللهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِيْنَ

মানুষের মধ্যে কতক রয়েছে যারা বলে আমরা আল্লাহ্র  উপর বিশ্বাস করি। (আল্লাহ বলেন) তারা ঈমানদার নয়।

উলামায়ে কেরাম বলেন, এখানে মুনাফিকদের চরিত্র চিত্রণ করা হয়েছে। মুনাফিকদের কথা, কাফেরদের কথা আল্লাহপাক কুরআনে বলেন কেন? বলেন এজন্য যে, হে ঈমানদার বান্দারা, দেখ, তাদের মতো হয়ো না যেন।’ আল্লাহ বলেন, آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ ‘বিশ্বাস করো (মানে বিশ্বাস ও আমল দুটোই কর) যেমন মানুষেরা ঈমান এনেছে।’ তারা কারা? সকল উলামায়ে কেরাম ঐকমত্য এখানে নাস বলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় সাহাবীদের বোঝানো হয়েছে।

সাহাবীদের আমল দেখ। তাদের আখলাক দেখ। তাদের ঈমান দেখ। তাদের মতো হওয়ার তো প্রশ্নই নেই। কেননা ইসলামে তাদের অবস্থান পরিষ্কাভাবে বলা আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছাত্রদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন কে? হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু। তারপর কে? উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু। তারপর কে? উসমান গনী রাযিয়াল্লাহু আনহু, তারপর কে? হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু। এই ক্রমধারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে বারবার বলেছেন।

সাহাবায়ে কেরাম সমষ্টিগতভাবে সমস্ত উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের পরবর্তী কোনো অলিআল্লাহ তাদের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন না। এটা আমাদের আকীদা। অসুবিধার কিছু নেই। আমরা অনেক কম পরিশ্রম করে অনেক বেশী পাব। এই ওয়াদা আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই শুনিয়েছেন। আমরা কিছুতেই তাদের সমান হতে পারব না। তাদের ডিঙিয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিখ্যাত কথা :

خَيْرُ أُمَّتِيْ الْقَرْنُ الَّذِيْ بُعِثْتُ فِيْهِمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ

সর্বোত্তম লোক তারা, যাদের কাছে আমি প্রেরিত হয়েছি (অর্থাৎ সাহাবাগণ)। তারপর তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন (অর্থাৎ তাবেঈ)।

পাহাড়ের চূড়ায় সাহাবায়ে কেরাম। তারপর তারা, যারা তাদের পরে এসেছেন। তারপর যারা তাদেরও পরে এসেছেন। কিন্ত আমাদের উপরের দিকে উঠতে হবে। এই ওঠার কোনো সীমা নেই।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

আহবান শুনেছি, ঈমান এনেছি

হযরত বলেন, আজকে ক্কারী সাহেব ফজরের নামাযে কুরআন মাজীদের এক অপূর্ব জায়গা তিলাওয়াত করেছেনঃ

رَبَّنَاۤ اِنَّنَا سَمِعۡنَا مُنَادِيًا يُّنَادِىۡ لِلۡاِيۡمَانِ اَنۡ اٰمِنُوۡا بِرَبِّكُمۡ فَاٰمَنَّا

হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা এক আহবায়ককে ঈমানের দিকে আহবান করতে শুনেছি, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন।’ সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি।

অদ্ভুত কথা! আমরা এটাকে যাচাই বাছাই করতে যাইনি। আহবান শুনেই ঈমান এনেছি। সবাই স্বীকার করে যে, একজন প্রতিপালক আছেন। যারা আল্লাহ্‌কে বিশ্বাস করে না, তারাও স্বীকার করতে বাধ্য।

তুমি বাতাস থেকে যে অক্সিজেন নিচ্ছ, তা এই বাতাসের মধ্যে কে ভরে দিলেন? বিজ্ঞানীরা বলেন যে, আমাদের চারদিকে যে বাতাস, এটা একটা মিশ্রণ। বাতাস কোনো যৌগিক পদার্থ নয়। এই মিশ্রণের শতকরা ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন গ্যাস, ২১ ভাগ অক্সিজেন, ০.৯ ভাগ আর্গন। ১০০ ভাগের মধ্যে ৯৯.৯ ভাগ গেল, বাকি  থাকে ০.১ ভাগ। তার মধ্যে রয়েছে অন্যান্য গ্যাস। সারা দুনিয়া জুড়ে বাতাসে অক্সিজেন আছে। যদি এমন হতো –  বাংলাদেশ অক্সিজেনের পরিমাণ শতকরা ১৭ ভাগ,  আর আমেরিকাতে ২১ ভাগ। ডাক্তারগণ বলেন যে, তাহলে শ্বাস নিতে কষ্ট হতো। বাতাস একটা মিশ্রণ হলেও সারা দুনিয়ায় এই মিশ্রণের অনুপাত একই রকম। যদি আপনাদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনির সরবত বানাতে দেওয়া হয়, তাহলে সরবতে চিনির পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য হবে কি হবে না? বাতাসের মিশ্রণ সারা দুনিয়া জুড়ে এক। এটা কোনো মানুষের কাজ নয়, মহান প্রতিপালকের অনুগ্রহ।

'প্রফেসর হযরতের মালফুযাত '- হতে সংগৃহীত
Photo credit:  Ali Arif Soydaş on Unsplash
Facebooktwitterpinterestmailby feather