Tag Archives: কুরআন

কুরআন মাজীদ সহীহ করা আর যিকির করা

হযরত বলেন, হরদুই হযরত কুরআন মাজীদ সহীহ করার জন্য সবচেয়ে বেশী তাগিদ দিতেন। দ্বীনের অন্যান্য লাইনেও যেসকল জিনিস আমরা ভোলার পথে ছিলাম, সেগুলো তিনি পুনর্জীবিত করেন। হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি খুব কম কথা বলতেন। আর তার কথা বলার ভঙ্গিও ছিল অতি সহজ-সরল। হযরতের একটি কথা আমি প্রায় মজলিসে বলে থাকি। এটা আমার জন্য দলীল। আমি বলতে পারব যে, আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিয়েছি। এটা আমি আপনাদের সামনে রিপিট করেই যাব ইনশাআল্লাহ্।

১৯৮১ সনে হরদুই হযরত বাংলাদেশে আসেন। ৩৪ বছর ধরে পুনরাবৃত্তি করছি। ইনশাআল্লাহ, মৃত্যু পর্যন্ত করে যাব। কি পুনরাবৃত্তি করব? হরদুই হযরতের কথাগুলো। হাফেজ্জী হুযুরের কথাগুলো।  হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, ‘এমনভাবে দুনিয়ায় থাকেন একটা শ্বাসও যেন আল্লাহর যিকির থেকে খালি না যায়।’ অনেকে প্রশ্ন করেন, ‘মুখে তো যিকির ঠিকই আছে, কিন্তু মন তো পড়ে থাকে গুলিস্তানে, গুলশানে, সদরঘাটে, চাঁদপুরে। মন তো অন্য জায়গায়। তখন কী হবে?’ উলামায়ে কেরাম বলেন যে, মন অন্য জায়গায় থাকলেও যিকির চালিয়ে যাও। তুমি আল্লাহর শোকর কর। তোমার ঠোঁট-জিহ্বা আল্লাহর যিকিরে মগ্ন আছে।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে

হযরত বলেন, সূরা আর-রহমানের প্রথম আয়াত, الرَّحْمٰنُ ¬- মহা করুণাময়। দুই নম্বর আয়াত, عَلَّمَ الْقُرْاٰنَ – তিনি কুরআন শিখিয়েছেন। মহা করুণাময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ করুণা কী? কুরআন শিক্ষা দেওয়া। সূরা কামারে আল্লাহপাক চার বার একটা কথা বলেছেন :

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْاٰنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ

আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?

আয়াত নম্বর সতেরো, বাইশ, বত্রিশ এবং চল্লিশ। একই সূরায় চার চারবার একই আয়াত। আমি কুরআনকে বড় সহজ করে দিয়েছি নসিহত গ্রহণ করার জন্য। তিলাওয়াত করা, মূল নসিহতকে গ্রহণ করা অতি সোজা। আবার অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

أَفَلَا يَتَدَبَّرُوْنَ الْقُرْاٰنَ أَمْ عَلٰى قُلُوْبٍ أَقْفَالُهَا

তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?

তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? গভীরভাবে চিন্তার জন্য অনেক স্টাডি দরকার। উলামায়ে কেরাম বলেন, সূরা কামারে যে আল্লাহ বলেছেন, কুরআনকে সহজ করে দিয়েছেন, এর মানে কী? কুরআনের আয়াতের মোটামুটি অর্থ বোঝার জন্য কুরআন অদ্ভুত সহজ, তিলাওয়াতের জন্য অদ্ভুত সহজ।

এজন্য বলেছেন, فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ—আছে কেউ? আছে তোমার একটু সময়? আমি তোমাকে বানিয়েছি। তোমাদের রিযিক দেই। বাতাসে অক্সিজেন আমার দেওয়া। আকাশ থেকে পানি আমি দেই। জমিন থেকে ফসল আমি দেই। আমি নবীর মাধ্যমে কুরআন দিয়েছি। তোমার একটু সময় হবে?

আমাদের অঘোষিত জবাব, সরি আল্লাহ, আমার সময় নেই। মুখে বলি না; কিন্তু আসলে কর্মকান্ডে তা-ই। আল্লাহ, আমার অনেক কাজ। কুরআন নিয়ে অবসর নাই। এমন একটা ভাব—আল্লাহ, আপনি তো বোঝেন না, কত কাজে দৌড়াদৌড়ি করি! তবু ভালো, আল্লাহকে মানি। আল্লাহকে বিশ্বাস করি। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather