Tag Archives: দ্বীনি মজলিস

দ্বীনি মজলিস

হযরত বলেন, হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, আসেন একটু দ্বীনের আলোচনা করি। উদ্দ্যেশ্য কী? আখেরাতের তলব বাড়ানো। আখেরাতের তলব তো আমাদের আছেই। একদিন কবরে যাব। আখেরাতের পথে পাড়ি জমাব। জানি আমরা। কিন্ত তার পরিমাণ বাড়ানো দরকার। আর বাড়ানোর জন্য এসব দ্বীনি মজলিস। এই মর্মে হরদুই হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি একটি আয়াত বারবার বলতেন,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرٰى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِيْنَ

আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারদের উপকার করবে।

ذَكِّرْ  মানে মনে করিয়ে দেন, আলোচনা করেন, নসিহত করেন। فَإِنَّ الذِّكْرٰى মানে নিশ্চয়ই মনে করিয়ে দেওয়া, নসিহত করা, تَنفَعُ الْمُؤْمِنِيْنَ – ঈমানদারদের উপকৃত করবে। ঈমানের লাইনে উন্নতি করার জন্য, দ্বীনের কথা পড়া দরকার, শোনা দরকার। এজন্য দ্বীনের মজলিসে বারবার বসা দরকার। একই কথা বার বার আল্লাহপাক কালামে পাকেও বলেছেন।

فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ   لَسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ

আপনি নসিহত করেন। আপনি তো নসিহত করার জন্যই। আপনাকে দারোগা বানাইনি।

জোর জবরদস্তি করে, ধরে টেনে টেনে আনবেন বিষয়টা সেরকম না। আবার,

فَذَكِّرْ بِالْقُرْاٰنِ مَنْ يَّخَافُ وَعِيْدِ

‘কুরআন দিয়ে মনে করিয়ে দেন তাকে, যে আমার ভীতি প্রদর্শনকে ভয় করে।’

মানে আল্লাহকে বিশ্বাস করা, রাসূলকে বিশ্বাস করা, আখেরাতকে বিশ্বাস করা। একই কথাকে আল্লাহপাক বারবার কালামে পাকে বলেছেন। আর এই কাজটা তার প্রিয়। তিনি বলেছেন,

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا

وَقَالَ إِنَّنِيْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ

তার চেয়ে আর কার কথা সুন্দর, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, নিজে সৎ কাজ করে এবং বলে, আমি একজন মুসলমান?

আল্লাহর দিকে আহ্বান করার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে, বিভিন্ন দিক রয়েছে। অবিশ্বাসীদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করা এটাও দাওয়াত। বিশ্বাসীদের আহ্বান করা সেটাও দাওয়াত। যারা ঈমানের উপর রয়েছে, তাদের ঈমানের প্রবৃদ্ধি ঘটানো এটাও দাওয়াত।

Facebooktwitterpinterestmailby feather