মালফুযাত সংকলন-৬

মসজিদে আযান আর নামায

মসজিদে মাগরিবের পর হযরতের বয়ান শুরু হয়েছে। এশার আযানের কিছুক্ষণ পূর্বে বয়ান শেষ হল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন এসেছেন হযরতের বয়ান শোনার জন্য। হযরত বয়ান শেষ করেই বললেন, ‘যারা কাজে দূরে কোথাও যাবেন অথবা অন্য কোন মসজিদে নামায পড়বেন, তারা এখনই চলে যান। কেননা আযান হয়ে গেলে আদব হচ্ছে  সেই মসজিদেই নামায পড়ে নেয়া।’

পর্দা

একবার কনে দেখতে গিয়ে এক ছেলের বাবা হবু বউয়ের হাতে আংটি পরিয়েছেন। হযরত এই ঘটনায় বলেন, ‘যেহেতু এখনো বিয়ে হয়নি, ছেলের বাবা এই মেয়ের জন্য মাহরাম না। সুতরাং এটা কি করে জায়েয হতে পারে?’ অর্থাৎ ছেলের বাবার কাজটি ঠিক হয়নি। হবু বউয়ের সাথে এখনো পর্দা করতে হবে। বিয়ে হয়ে গেলে ভিন্ন কথা।

নেয়ামতের শোকর

একবার বিজলী চলে গেলে হযরত إِنَّا للهِ وَإنَّا إلَيهِ رَاجِعُونَ পড়লেন। তারপর বলেন, ‘এতক্ষণ বিজলী ছিল, তাই আল−াহ তা’আলার শোকর হিসাবে  الْحَمْدُ لِلَّهপড়া উচিত ছিল। আমরা নেয়ামত থাকতে শোকর আদায় করি না।’

জানাজার নামাযের সুন্নাত

হযরত বলেন, ‘আজ এক মসজিদে মাগরিবের নামায পড়েছি। ফরয নামাযের পর মাইকে জানাজার নামাযের ঘোষণা করা হল। বলা হল দু রাকাত সুন্নাত নামায পড়ে নেন। তারপর মসজিদের বাইরের খোলা চত্বরে জানাজার নামায পড়া হবে। আমরা জানাজার নামায পড়লাম। আজকাল হাজার হাজার মসজিদে জানাজার নামায হয় মসজিদের ভিতরে। আমি একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, কত বছর ধরে মসজিদের ভিতর জানাজার নামায পড়ছো, আজ কেন বাইরে পড়লে? বলা হল, ইমাম গাহেব বলেছেন, ‘আপনারা কি চান না, রাসূলের সুন্নাত জিন্দা হোক?

ঠেকায় মসজিদের ভিতর জানাজার নামায পড়া যায়। এটা জায়েয। কিন্তু উত্তম না।

অনেকে হয়তো বলবে মসজিদের ভিতর কাতারে দাঁড়িয়ে ছিলাম, এখন বাইরে যাও, জুতা নাও, আবার কাতার সোজা কর। কত সময় গেল! ঈদের জামাত ঈদগাহে পড়া সুন্নাত নাকি মসজিদে পড়া? বহু জায়গায় ঝগড়া হয়, মৌলবীরা খালি বাড়াবাড়ি করেন। আপনি কিসের জন্য জানাজার নামায পড়েন? যদি আল্লাহ’র সন্তুষ্টির জন্য পড়েন তবে তো রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী পড়তে হবে। ইসলামে এই বিষয়টা ঈষবধৎষু উবভরহবফ। নবী করীম  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

بَدَأَالْاِسْلَامُ غَرِيْبَا فَسَيَعُوْدُ كَمَابَدَأَ  فَطُوْبٰى لِلْغُرَ بَاءِ

هُمُ الَّذِيْنَ يُصْلِحُوْنَ مَااَفْسَدَ النَّاسَ مِنْ بَّعْدِ مِنْ سُنَّتِىْ

‘ইসলাম তার যাত্রা শুরু করেছে আগন্তুক হিসাবে। আবার শীঘ্রই আগের মত হয়ে যাবে। আগন্তুকদের জন্য খোশখবরী। এরা ঐ সকল লোক যারা আমার সুন্নাতগুলো মিটে যাবার পর আবার তা জিন্দা করে।’ এই মসজিদে কত হাই অফিসিয়াল নামায পড়ছে। কিন্তু জানাজার নামায মাঠে পড়তে হবে, এটা কেউ সংশোধন করতে আসে নাই।

কুরআন শুদ্ধ করে পড়া 

হযরত বলেন, ‘হরদুঈ হযরত রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বলতেন, ‘কুরআন শুদ্ধ করে পড়া সবচেয়ে বড় সুন্নাত’। অথচ আজ এই বিষয়ে আমাদের অবহেলার শেষ নেই। ‘মাকান বাড়হিয়া, পান বাড়হিয়া, নান বি বড়হিয়া, কুরআন ঘাটিয়া।’ অর্থাৎ, তোমার ঘর উত্তম, খাদ্য উত্তম, পানীয় উত্তম। কিন্তু কুরআন পড়া অনুত্তম।’

মসজিদে ঢোকার পাঁচটি সুন্নাত

হযরত বলেন, ‘মদীনা শরীফে একজন ছাত্র আমাকে দেখালেন মসজিদে নববীতে বাবুস সালাম দিয়ে ঢুকতে মসজিদে ঢোকার পাঁচটি সুন্নাত লেখা আছে। বিসমিল্লাহ পড়া, ডান পায়ে প্রবেশ করা, দরূদ শরীফ পড়া, মসজিদে ঢোকার দু’আ পড়া এবং ইতিকাফের নিয়ত করা।’

দুই চাকা

হযরত বলেন, ‘১৯৮০ সালে হজের সফরে একজন হাজী সাহেব (যিনি হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির খুব আর্থিক খেদমত করতেন) আর আমি মক্কা শরীফে হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির সাথে ছিলাম। হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি হরদুঈ হযরত এবং তার খলীফা হযরত হাকীম আখতার সাহেব দামাত বরাকাতুহুমকে বাংলাদেশে আসার দাওয়াত দিলেন। হরদুঈ হযরত তা কবুল করলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হাজী সাহেব মওকা পেয়ে নিজ থেকে বলে উঠলেন, ‘হুযুুর! আপনার এই মেহমানদের একজনকে ভারত, অন্যজনকে পাকিস্তান থেকে আনা নেয়ার সব খরচ আমি বহন করব।’ কাবা ঘর সামনে। কি অদ্ভুত খেদমতের সুযোগটা সেই হাজী গাহেব নিলেন। হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন- দ্বীনের গাড়ির দুইটি চাকা। এক. আলেমদের প্রচেষ্টা, অন্যটা পয়সাওয়ালাদের মাল।

সালাম

হযরত বলেন, ‘মক্কাশরীফে হরদুঈ হযরতের সাথে দেখা করতে গেলাম। সালাম আস্তে দিলাম। হরদুঈ হযরত বললেন, ‘নিকালিয়ে! দোবারা সালাম কারকে আইয়ে!’ সুতরাং ঘর থেকে বের হয়ে জোরে পরিষ্কারভাবে সালাম দিলাম। এবার হযরত ঘরে ঢোকার অনুমতি দিলেন।’

ছবি

হযরত বলেন, ‘সেদিন এক ছাত্র এসে বললেন, ‘হযরত! একটি দূর্লভ জিনিস সংগ্রহ করেছি। হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ছবি। আপনাকে দেখাতে চাই।’ আমি বললাম, এটাতো পুড়িয়ে ফেলা দরকার। ছবি তুলে সংরক্ষণ করা শরীয়ত অনুমোদিত নয়। তবে পাসপোর্ট বা অন্যান্য জরুরী প্রয়োজনে তোলা যেতে পারে।’

যুক্তি

হযরত বলেন, চামড়ার মোজা মাসেহ করতে পায়ের উপরের অংশে তিন আঙ্গুল দিয়ে মাসেহ করতে হবে। এটা শরীয়তের বিধান। কিন্তু যুক্তি দিয়ে বোঝানো যাবে না। বরং পায়ের নিচে মাসেহ করলে কিছু ধূলাবালি পরিষ্কার হত। ইসলামের সব হুকুম যুক্তির নিরিখে বিচার করা যাবে না।

তালিম

অফিসে কিভাবে তালিম করা যায় প্রশ্ন করাতে হযরত বললেন, এক মিনিটের মাদরাসা থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে পড়বে। বড়দের কথার মধ্যে নূর থাকে। এজন্য নিজ থেকে কথা না বলে, বড়দের কথা শুনিয়ে দেয়া ভাল।

কঙ্কর নিক্ষেপ

হযরত বলেন, ‘হজের সময় এক উচ্চ শিক্ষিত লোক তার স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন। নিজে কঙ্কর মারার পর ভীড়ের কারণে তার স্ত্রী কঙ্কর মারতে পারেননি। তাই তিনি স্ত্রীকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখে নিজে স্ত্রীর পক্ষ থেকে কঙ্কর মেরেছেন। আমাকে বলার পর আমি জবাব দিলাম, ‘আপনার কঙ্কর মারা হয়েছে, আপনার স্ত্রীরটা হয়নি।’ তিনি বললেন, ‘এটা কেমন কথা!’ আমার কথায় তিনি আশ্বস্ত হতে পারলেন না। তারপর আমি তাকে একজন বড় মুফতী সাহেবের কাছে নিয়ে গেলাম। মুফতী সাহেবও একই কথা বললেন। তখন তিনি বলে উঠলেন, ‘আপনারা মাওলানা সাহেবরা বেশি বাড়াবাড়ি করেন।’ দেখেন ইংরেজি শিক্ষিত দ্বীনদার লোকদের অন্তরে আলেমদের প্রতি কি প্রবল ঘৃণা! কচু পাতার পানি! একটু মনমত না হলেই আলেমদের প্রতি আমরা যারা ইংরেজি শিক্ষিত তাদের অবহেলা প্রকাশ পেয়ে যায়।’

নসিহত

সফরে যাওয়ার আগে হযরতের কাছে কিছু নসীহত চাইলাম। হযরত বললেন, সূরা আল আ’লা এর ১৬ ও ১৭ নম্বর আয়াতে আছে,

بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا    وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ

‘না, বরং তোমরা তো আখেরাতের জীবনের বদলে দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়েছো। অথচ আখেরাতই উৎকৃষ্টতর এবং স্থায়ী।’ আখেরাতের জীবন সামনে রাখলেই, আমাদের কি কি করা উচিত তা আমাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে। বেশি বেশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়বে।

বিয়ের উপহার

হযরত বলেন, মেহমানের উপর কোন আর্থিক বোঝা চাপানো ঠিক না। সুতরাং বিয়ের অনুষ্ঠানে উপহারের প্রত্যাশা করা ঠিক না।

ওসিয়ত

হযরত বলেন, লাশ গ্রামে নিয়ে দাফন করার অসিয়ত মানা জায়েয নেই। কারণ, যেখানে মৃত্যু হয়েছে সেখানেই দাফন করার কথা শরীয়তে বলা হয়েছে।

প্রচলিত মীলাদ

প্রচলিত মীলাদের ভুলসমূহ আলোচনা করতে গিয়ে হযরত বলেন, অনেকে মীলাদে রাসূলের আলোচনার সময় দাঁড়িয়ে যায় এবং আল্লাহ পাকের আলোচনার সময় বসে থাকে। সুতরাং, এটা তো আল্লাহ র সাথে বেয়াদবী।

ছবি 

হযরত বলেন, ‘আমরা এক ছেলের বিয়েতে শরীক হলাম। সেখানে ছবি তোলা হচ্ছিল। ছবি তোলার এক পর্যায়ে আমি বললাম, ছবি তোলা যাবে না। তারা খুব ক্ষেপে গেল। বলল, ‘কেন, আপনারা ‘পাসপোর্ট’-এর জন্য ছবি তোলেন না?’ আফসোস! সাধারণ লোক এটা বুঝতে অক্ষম যে, তীব্র প্রয়োজন ছাড়া শরীয়ত ছবি তোলার অনুমতি দেয় না।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

সফর এবংমাহফিলের সময়সূচি

২৪, ২৫শে জানুয়ারি – বগুড়া সফর

২৭শে জানুয়ারি – উত্তরা মাহফিল

২৯, ৩০শে জানুয়ারি – ধুবাউড়া সফর

১লা ফেব্রুয়ারি – শনিবার আজিমপুর মাহফিল

৩রা ফেব্রুয়ারি – সোমবার উত্তরা মাহফিল

৪ঠা ফেব্রুয়ারি – মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জ সফর

 

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মালফুযাত সংকলন-৫

 

রাহমানুর রাহীম

হযরত বলেন, আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ۗ وَكَانَ اللهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

২৫:৭০

‘কিন্তু যারা তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ  তাদের গোনাহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন এবং আল্লাহ  ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ এর উদাহরণ হল আমাদের মা। সন্তান যতই অন্যায় করুক, মায়ের সামনে গিয়ে মাফ চাইলেই মাফ। আর আল্লাহ  তা’আলা হচ্ছেন রাহমানুর রাহীম। মায়ের তুলনায় কোটি কোটি গুণ দয়ালু।

পুরনো কথা

হযরত বলেন, ‘আমি পুরোনো কথাই বারবার বলি। হরদুঈ হযরতও একই কথা বারবার বলতেন। আল্লাহ  তা’আলা কুরআনুল কারীমেও একই কথা বারবার আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ

৫১:৫৫

অর্থাৎ, ‘আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারকে উপকার করবে।’ ذَكِّرْ মানে হচ্ছে ‘Remind’। আর পুরোনো কথাকেই ‘Remind’ করানো হয়।’

আযানের জবাব

হযরত বলেন, ‘হরদুঈ হযরত বলতেন,  আযানের জবাব দেয়ার জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুব তাকীদ করতেন। মুয়াযযিন যখন আযান দেয়, তখন চুপ করে যত্নের সাথে শোন। আযানের জবাব দাও। জবাব দেওয়ার পর দরূদ শরীফ পড় । তারপর এই দু’আ পড়,

اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَاماً مَحْمُوداً الَّذِي وَعَدْتَهُ، إَنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ

তিনি এই প্রসঙ্গে বারবার একটা গল্প বলতেন। হাকীমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির গল্প। তিনি বলতেন যে, ঐ ব্যক্তি কি করবে, যে আযানের আগেই মসজিদে পৌঁছে গেছে, সামনের কাতারে বসে কুরআন পড়ছে? সে তো নামাযের জন্য এসেই পড়েছে। আবার ব্যস্ত হয়েছে সর্বোত্তম কাজে। আমি ফতোয়া দিচ্ছি না, আমার দিলে চায়, ঐ ব্যক্তি এখন কুরআন তিলাওয়াত বন্ধ করুক। আগে মুয়ায্যিনের আযানের জবাব দিক। আযানের জবাবের পর দরূদ এবং দু’আ পড়ুক। যদি সে পুনরায় কুরআন পড়া শুরু করে তবে তার এবারের পড়াটা নূরে ভরপুর হবে ইনশাআল্লাহ।

উলামারা নবীদের ওয়ারিশ

উলামায়ে কেরামের মর্যাদা সম্পর্কে হযরত বলেন, হুযুুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ألْعُلَمَاءُ وَرِثَةُ الاَنْبِيَاء – উলামারা সকল নবীর ওয়ারিশ। আমার ওয়ারিশ বলেন নাই। সকল নবীদের ওয়ারিশ বলেছেন। আলেমরা হচ্ছেন নবীদের ওয়ারিশ। তাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা যাবে না। ইংরেজি শিক্ষিত অনেক লোক নামায রোযা সকল ইবাদত করেন কিন্তু উলামাদের সাথে  মেশেন না। তাদেরকে ঘৃণা করেন। আল্লাহ  তা’আলা বলেন, وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِيْنَ – সাদেকীনদের সাথে থাক। সাদেকীন কারা? হক্কানী উলামায়ে কেরাম, যারা সুন্নাতের উপর আমল করেন, তারাই সাদেকীন।’

ক্রোধ

হযরত বলেন, ক্রোধে যে কাজ করা হয়, তা কখনোই ভাল হয় না। ক্রোধ হয়েছে অথচ আফসোস করা হয় নাই, এটা কখনোই হয় না।

গীবতের প্রতিকার

হযরত বলেন, গীবত হয়ে গেলে তার প্রতিকার হচ্ছে, যার গীবত করা হয়েছে তার কাছে মাফ চাওয়া। যদি মাফ চাওয়া সম্ভব না হয় তবে তার জন্য দু‘আ করা এবং সদকা করা।

অর্থই অনর্থ

হযরত বলেন, বড় লোকের অর্থ-ই অনেক ক্ষেত্রে অনর্থের মূল। ছেলেমেয়ের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে তারা অনেক গোনাহে লিপ্ত হয়ে যায়।

শোকরগুজারি

হযরত বলেন, ইসলামের প্রতিটি আমলই শোকরগুজারী শিক্ষা দেয়। যেমন- খানার শেষে দু’আ, টয়লেট থেকে বের হবার পর দু’আ।

ইকামতের জবাব

হযরত বলেন, আমরা অনেকেই আযানের জবাব দেই ইকামতের জবাব দেই না। ইকামতের জবাব দিতে হবে। ইকামতের জবাব আযানের জবাবের মতই। তবে قَدْ قَامَتِ الصَّلَاة এর জবাবে বলতে হবে اَقَامَهَا اللهُ وَأدَامَهَا।

মূল সমস্যা অন্তরের অহংকার

হযরত বলেন, ‘অনেক হাজী সাহেব ও নামাযীদের মেয়ে-বউ বেপর্দায় থাকে। তারা তাদেরকে কিছুই বলেন না। মূল দুর্বলতা মনের মধ্যে। ফেরেশতাদের পরিবেশে থেকেও শয়তান আল্লাহ হুকুমকে অমান্য করেছে। তার মূল সমস্যা ছিল অন্তরের অহঙ্কার। তাই মনের মধ্যে আলো জ্বালাতে হবে। ঈমানের কথা বারবার শোনার এবং বলার দ্বারা এটা আসবে। এজন্যই কুরআনে পাকে বলা হয়েছে,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ

৫১:৫৫

‘আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারকে উপকার করবে।

–হযরতের মালফুযাত  সংকলন   ‘আত্মশুদ্ধির পাথেয়  ‘  হতে সংগৃহীত

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মালফুযাত সংকলন-৪

অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখার সুন্নত

হযরত বলেন, ‘আমাদের আত্মীয়-স্বজন অসুস্থ হলে আমরা তাদেরকে দেখতে যাই। দল বেঁধে যাই। কিন্তু গিয়ে সুন্নাত অনুযায়ী আমল করি না। হরদুঈ হযরত বলতেন, রোগী দেখতে যাওয়া খুব ভাল। আল্লাহ আপনাকে ভাল করে দিন, এটা বলাও ভাল। কিন্তু পাশাপাশি দেখতে হবে রাসূল (সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাজটা কিভাবে করেছেন। তা হল রোগীকে দেখে  اَسْاَ لُ اللهَ الْعَظِيْمَ رَبَّ الْعَرْشِِ الْعَظِيْمِ اَنْ يَّشْفِيَكَ  (আমি মহান আল্লাহ  নিকট প্রার্থনা করছি যিনি আরশে আযীমের অধিপতি যেন তিনি তোমাকে সুস্থতা দান করেন) এই দু’আ সাতবার পড়া।’

আল্লাহর পথে আগে বাড়ার জন্য পাঁচটি কাজ

হযরত বলেন, ‘হরদুঈ হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, পাঁচটি কাজ করলে সে আল্লাহর পথে আগে বাড়তে পারবে ইনশাআল্লাহ । এক. সোহবতে উলামা। দুই. কম কথা বলা। তিন. কম মেলামেশা করা। চার.  মোরাকাবা মোহাসাবা। পাঁচ. ইস্তিগফার।

দ্বীনী মাহফিলে খাবারের আয়োজন

হযরত বলেন, হরদুঈ হযরত কোনো বাসায় মাহফিল হলে সাধারণত সেখানে খেতেন না। এই খাবারের আয়োজন করতে গিয়ে বাসায় বাসায় মাহফিল হয় না। অদ্ভুত আমল ছিল তার। বলতেন, ‘কেন খাবারের ব্যবস্থা করেছো? আমাকে আগে বলেছিলে? আমাকে দাওয়াত দিয়েছিলে?’

লোহার বুট

এক সালেক ইবাদতে আনন্দ অনুভূত হয় না বলাতে হযরত বলেন, ‘লোহার বুট চিবাতে হবে। কোথাও বলা নেই, ইবাদতে আনন্দ অনুভব হলে সওয়াব হবে।’

দস্তরখানে ভিখারীর মত বসা

হযরতের খেদমতে হাজির হলাম। কিছু কথাবার্তা হচ্ছিলো। নাস্তা খাওয়ার দস্তরখান বিছানো হল। লোকজন দস্তরখানের আশেপাশে   ইতস্তত বসে ছিল। হযরত বলেন, ‘তোমরা এভাবে বসে আছো কেন? দস্তরখানে ভিখারীর মত বস।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

আজ মগবাজারে বাদ ই’শা হযরতের মাহফিল

আজ ১লা নভেম্বর বাদ  ই’শা মগবাজার ওয়্যারলেস রেইলগেটের কাছে অবস্থিত বিটিসিএল অফিসার্স কোয়ার্টারে মাহফিল। প্রফেসর হযরত দামাত বারাকুতুহুম তশরিফ আনবেন ইনশাআল্লাহ্‌ । যোগাযোগ ঃ ইঞ্জিনিয়ার শাহনেওয়াজ ভাই (০১৫৫০১৫১৩৩১)।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মালফুযাত সংকলন-৩

কুরআন সহিহ করে পড়া

হযরত বলেন, একবার হরদুঈ হযরত বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ আলেমকে সূরা ইনশিরাহ পাঠ করে শোনাতে বললেন। পড়া শুনে বললেন, ‘পাস তো হায়, লেকিন ফার্স্ট ডিভিশন নেহি।’ সুবহানাল্লাহ! হরদুঈ হযরতের মানদন্ড কত সূক্ষ্ম ছিল! একজন বিখ্যাত আলেমের পড়া যদি হযরতের মানদন্ডে এমন হয়, তবে অন্যদের কি অবস্থা! কুরআন সহীহ করে পড়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সবচেয়ে বড় সুন্নাত। অথচ আজ এই সুন্নাতের উপর আমাদের কত অবহেলা!’

আলেমদের খাদেম হও

হযরত বলেন, আমার কাছে প্রায়ই অনেক উচ্চশিক্ষিত ছেলেরা আসে। স্কুল-কলেজে ভালো রেজাল্ট করেছে। মেট্রিক-ইন্টারমিডিয়েটে ‘এ+’ পেয়েছে। তারা এসে বলে, ‘স্যার, আমি আলেম হতে চাই।’ আমি বলি, ‘তোমাদের আলেম হবার বয়স নেই। তোমরা আলেমদের খাদেম হও। এটা সহজ।’

চাঁদা

একটি মাদরাসায় সফর ছিল। সাথে দুই-তিনজন ধনী ব্যক্তি ছিলেন। মাদরাসাটিতে বোর্ডিং-এর কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এজন্য ছাত্র উস্তাদদের খুব কষ্ট হচ্ছিলো। তাই হযরতের উপস্থিতিতে একজন লোক এসব ধনী ব্যক্তিদের থেকে চাঁদা আদায়ের জন্য চাপ দিতে চাচ্ছিল। হযরত নিষেধ করলেন। বললেন, হরদুঈ হযরত মানুষকে সামাজিক চাপে ফেলে চাঁদা আদায় করতে নিষেধ করতেন।

দেখাদেখি কারতে হেঁ, পুছতে নেহি

হযরত বলেন, হরদুঈ হযরত বলতেন, ‘দেখাদেখি কারতে হেঁ, পুছতে নেহি। উলামাসে পুছো।’ সাধারণ মানুষ একে অন্যকে দেখে আমল করে, আলেমদের জিজ্ঞেস করে না। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

১৬:৪৩

অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে; ‘আয়াতে বলা হয়েছে, যিকিরকারীদের জিজ্ঞেস কর। আমি এটাকে সহজ করে বলি, মৌলবীদের জিজ্ঞেস করেন।’

দ্বীনি মজলিসের দুটি ফায়দা

হযরত বলেন, হরদুঈ হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, ‘দ্বীনি মজলিসে বসার দুটি ফায়দা। ইলমী ও আমলী। কেউ যদি দূর থেকে মাইকে বয়ান শোনে, মজলিসে হাজির না হয়, তবে সে ইলমী ফায়দা পাবে। কিন্তু আমলী ফায়দা থেকে বঞ্চিত থাকবে। মজলিসে বিভিন্ন ধরনের লোক থাকে। কারো মধ্যে বিনয় বেশি, কারো মধ্যে আল্লাহ তা’আলার ভয় বেশি। মজলিসে হাজির হলে এক অন্তর অন্য অন্তর থেকে নূর গ্রহণ করে। এভাবে অন্তরসমূহ আলোকিত হয়ে যায় এবং আমলের তাওফীক হয়।

 

ঐদিনকে ভয় কর

 

হযরত বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে সৌভাগ্য দিয়েছিলেন হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির খাদেম হয়ে ঘোরার। হযরত জায়গায় জায়গায় বারবার এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন,

وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ

مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ২:২৮১

‘তোমরা ঐদিনকে ভয় কর, যেদিন তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে আল্লাহ তায়ালার কাছে। অতঃপর তোমাদের বুঝিয়ে দেয়া হবে, যা সে অর্জন করেছিল। তদের উপর কোনই জুলুম করা হবে না ।’

অতি সহজ-সরল অর্থ। ঐ দিনকে ভয় কর, যেদিন তোমাকে ফিরিয়ে নেয়া হবে আল্লাহ তা’আলার কাছে। অতঃপর আল্লাহ বুঝিয়ে দেবেন কি আমল করেছিলে। কি অর্জন করেছিল। সবাই দুনিয়ার সাফল্যকে অর্জন বলে। এটা সেই অর্জন না। যারা দুনিয়া অর্জনের পিছনে দৌঁড়ায়, তারাও বলে এই অর্জন তাদের সাথে কবরে যাবে না। টাকা পয়সা পদমর্যাদা ডিগ্রী কি সাথে যাবে? যাবে না। আল্লাহ  তা’আলা অহীর মাধ্যমে যুগে যুগে নবীদের মাধ্যমে জানিয়েছেন, এটা দুনিয়ার কোনো জ্ঞান-বিজ্ঞান, গবেষণার মাধ্যমে বের করা যাবে না

সুন্নাতকে আকড়ে ধরো

হযরত বলেন, হরদুঈ হযরত বলতেন, ‘যেসব সুন্নাত নিয়ে কোন মতপার্থক্য নেই, ঝগড়া-ঝাটি নেই, সেগুলো আমল কর। বেশি বেশি যিকির কর। সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার বেশি পড়।’ হরদুঈ হযরতকে বলা হয়, মুহিউস সুন্নাহ। তার প্রধান কথাই ছিল সহজ সুন্নাতগুলোকে  আমলে আনো। ধীরে ধীরে আগে বাড়ো। তিনি আরও বলতেন, ‘আমরা সবাই নেককার হতে চাই। আর এর তরীকা হল সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মালফুযাত সংকলন – ২

আমাদের আদর্শ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এবং তাঁর সাহাবিরা

হযরত বলেন, সৌদি আরবের অনেক লোক টাখনুর নীচে কাপড় পরে, কেউ কেউ দাড়ি ছোট করে ফেলে ইত্যাদি অনেক অভিযোগ হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহির কাছে বলা হত। জবাবে তিনি বলতেন, ‘আরবের লোকেরা আমাদের আদর্শ নন। আমাদের আদর্শ তো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরাম। সুতরাং আমরা তো সাহাবায়ে কেরামদের অনুসরণ করব।

গরিব আলেমের দরবারে

একজন বড় শিল্পপতি আসলেন হযরতের সাথে দেখা করতে। হযরত তাকে স্বাগত জানিয়ে বললেন, ‘আমি একবার বুয়েটের ভিসি সাহেবকে নিয়ে হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে গেলাম। তিনি একটি আরবী কবিতা বললেন, যার অর্থ হল-‘কতই না উত্তম সেই আমীর যে নিজের আমীরত্বকে মিটিয়ে গরীব আলেমের দরবারে আসে।’

‘পুলিশ নাইক্কা’

হযরত বলেন, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির দাওয়াতে হরদুঈ হযরত রহমাতুল্লাহি  আলাইহি ১৯৮১ সনে বাংলাদেশ সফরে আসলেন।  প্রথম দিন আমি হযরতকে নিয়ে প্রাইভেট কারে লালবাগ যাচ্ছিলাম। রাত সাড়ে নয়টা। আজিমপুর গোরস্থানের কাছে চৌরাস্তার ট্রাফিক সিগনালে লাল বাতি জ্বলে আছে। ড্রাইভার এদিক-ওদিক দেখে লাল সিগনালের মধ্যেই গাড়ি চালিয়ে দিল। হরদুঈ হযরত বলে উঠলেন, ‘আরে ভাই! লাল বাত্তি হায়, রোখতে নেহি।’ ড্রাইভার বলল, ‘পুলিশ নাইক্কা।’ ড্রাইভারের কথা হল, পুলিশ নেই, ধরবে কে? হযরত বাংলা জানতেন না। আমি উর্দূতে ব্যাখ্যা করলাম। হযরত নীরব হয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পর বলে উঠলেন, ‘হাঁ ভাই! ইসি লিয়ে কাহা জাতা হায়, ইলম কাফি নেহি, তাকওয়া চাহিয়ে।’ অর্থাৎ, হ্যাঁ ভাই, এজন্য বলা হয় যে, ইলম যথেষ্ট নয়, তাকওয়া চাই। এই কথাটা আলেমদের জন্য হাদিয়া দিলাম। বাংলাদেশে হযরতের প্রথম রাতের বিখ্যাত কথা। ইলম যথেষ্ট নয়, আল্লাহর ভয় চাই।’

সালাম

হযরত বলেন, ‘১৯৮০ থেকে ২০০৪ সাল এই চব্বিশ বছর পর্যন্ত হরদুঈ হযরতকে আমরা বাংলাদেশে পেয়েছি। সবসময় সালাম সম্পর্কে বলতেন। সালাম রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অতি প্রিয় একটি সুন্নাত। মদীনা শরীফে হিজরতের পরে প্রথম ভাষণে বললেন, أَفْشُوا السَّلَامْ , সালামের বহুল প্রচার কর। সমাজে প্রচলিত হয়ে গেছে- স্লামালাইকুম। বলতে হবে, আসসালামু আলাইকুম। এর প্রথম অক্ষর আলিফের উপর যবর। আমরা ছোট বেলায় পড়েছি আলিফ, বে, তে, ছে। উলামায়ে কেরাম বলেন, আলিফ, বা, তা, ছা। আলিফের উপর যবর, যের, পেশ হলে এটা হয়ে যায় হামযাহ। আলিফের উপর যবর দিলে পড়তে হবে হামযাহ যবর আ।’

সুন্নত তরিকায় নামায

হযরত বলেন, হরদুঈতে বছরের প্রত্যেক দিনই নামাযের পর রুকুতে যাওয়া শেখানো হয়। সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু মাটিতে লাগার পূর্ব পর্যন্ত কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত সোজা থাকবে। রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ওয়াজিব। দুই সেজদার মাঝে স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব।

‘গাড়ি লেকে জান্নাত মে নেহিঁ জাওগি’

হযরত বলেন, ধানমন্ডিতে হাজী হাবীব সাহেবের বাসায় একবার আমরা হরদুঈ হযরতের খেদমতে ছিলাম। নামাযের ওয়াক্ত হল। মসজিদ কিছুটা দূরে হওয়ায় ঘরেই জামাত করে নামায পড়বার প্রস্তুতি চলছিল। হযরত জিজ্ঞেস করলেন যে, গাড়ী নিয়ে মসজিদে যেতে কতক্ষণ লাগবে? বলা হল, দুই-তিন মিনিট। হরদুঈ হযরত বললেন, ‘গাড়ি লেকে জান্নাত মে নেহিঁ জাওগি?’ অর্থাৎ গাড়ি নিয়ে দুনিয়ার সবকাজে যেতে পারো। আর দুনিয়ায় জান্নাতের বাগিচা মসজিদে জামাতে যেতে চাও না!

হরদুই হযরতের সুন্নতের পাবন্দি

হযরত বলেন, হরদুঈ হযরত ছিলেন সুন্নাতের সাচ্চা আশেক। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে হযরতের শেষ সফরে তিনি এত দূর্বল ছিলেন যে, উঠে বসতেও পারতেন না। এজন্য গাড়ির পেছনে চৌকি রেখে হযরতকে শোয়ানো অবস্থায় সফর করানো হত। একবার একজন খাদেম ভুলে আগে ডান পা থেকে জুতা খুলে ফেলে। হযরত বললেন, ‘আহ্! কে সুন্নাতের খেলাফে ডান পায়ের জুতা আগে খুললো?’ হযরতের নির্দেশে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পুনরায় জুতা পরানো হল। আবার গাড়িতে উঠানো হল এবং সুন্নাত অনুযায়ী আগে বাম পা থেকে জুতা খোলা হল। একটি সুন্নাতের উপর আমল করার জন্য তিনি এই অকল্পনীয় তাকলীফ বরদাশত করলেন।

‘সালাম ঠিকসে দি জিয়ে। হামযা না ছোটে’

হযরত বলেন, আমরা একবার হযরতের সঙ্গে দেখা করার জন্য হরদুঈ গেলাম। হরদুঈ হযরত অসুস্থ ছিলেন। ঘরের বাইরে বার-তের বছরের একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। হযরতের সাথে যারাই দেখা করতে যাচ্ছে তাদেরকেই সে বলছে, ‘সালাম ঠিকসে দি জিয়ে। হামযা না ছোটে।’ রোগীর জন্য এই দু’আ পড়বেন,

اَسْاَ لُ اللهَ الْعَظِيْمَ رَبَّ الْعَرْشِِ الْعَظِيْمِ اَنْ يَّشْفِيَكَ

‘আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যিনি আরশে আযীমের অধিপতি যেন তিনি তোমাকে সুস্থতা দান করেন।’

  • ‘আত্মশুদ্ধির পাথেয়’  বইটি হতে সংগৃহীত
Facebooktwitterpinterestmailby feather

মালফুযাত সংকলন-১

১) হযরত নিজের কথা বলতে গিয়ে বলেন, একদিন হযরত মুমিনুল্লাহ সাহেব দামাত বারাকাতুহুম আমাকে বললেন, ‘আজ আপনি হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহির জুতা উঠাবেন।’ আমি জুতা উঠাতেই হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি মুমিনুল্লাহ সাহেবকে  বলে উঠলেন, ‘উনি আমার জুতা ধরলেন কেন?’ হযরত  মুমিনুল্লাহ  সাহেব দামাত বারাকাতুহুম বললেন ‘হুযুুর, উনি আপনাকে খুব মহব্বত করেন। দয়া করে খেদমতের অনুমতি দিন।’ এভাবেই হযরত মুমিনুল্লাহ  সাহেব দামাত বারাকাতুহুম আমাকে হযরত হাফেজ্জী হুযুুর  রহমাতুল্লাহি  আলাইহির সাথে জুড়ে দিলেন।

২) একজন ইংরেজি শিক্ষিত ভদ্রলোক ইমাম গাযালী রহমাতুল্লাহি  আলাইহির কিতাবাদি পড়ে দ্বীনের পথে অগ্রসর হয়েছেন। তিনি হযরতকে বিষয়টি জানালেন। হযরত বললেন, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বলতেন, দ্বীনের তলব সৃষ্টি করা এবং দ্বীন সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য ইমাম গায্যালী রহমাতুল্লাহি  আলাইহি এর কিতাব পড়া ঠিক আছে। কিন্তু তা দেখে আমল করা যাবে না। আমল করতে হবে একজন সমসাময়িক আল্লাহওয়ালাকে দেখে, তার পরামর্শ অনুযায়ী।’

৩)  হযরতকে জিজ্ঞেস কর হলো, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি কোন দরূদ শরীফ পড়তেন?’ হযরত বললেন, ‘বড় দরূদের মধ্যে দরূদে ইবরাহীম পড়তেন। ছোট দরূদের মধ্যে পড়তেন,

اللهم صَلِّ عَلي سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَ عَلَي اَلِ سَيِّدِ نَا مُحَمَّدٍ وَ بَارِكْ وَ سَلِّمْ

৪) হযরত বলেন, মাওলানা ফজলুল হক আমিনী রহমাতুল্লাহি  আলাইহি ছিলেন হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহির এক হাত। শাইখুল হাদীস মাওলানা আবদুল আজিজুল হক সাহেব ছিলেন হযরতের অন্য হাত। একবার এ দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে গেল। শাইখুল হাদীস রহমাতুল্লাহি আলাইহি লালবাগ থেকে চলে আসলেন। মোহাম্মদপুর এসে মুহাম্মাদিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করলেন। হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, ‘শয়তান বেশি সুবিধা করতে পারে নাই। আরেকটা মাদরাসা হয়ে গেল।’

৫) হযরতকে কেউ একজন জিজ্ঞেস করল, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি   আলাইহি তার অবিরাম যিকিরের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি কী যিকির করতেন?’ হযরত বললেন, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বেশিরভাগ সময় কুরআন পড়তেন।’

৬) হযরত বলেন, বিদআত থেকে বাঁচার একটিই উপায় হক্কানী উলামায়ে কেরামের সাথে সম্পর্ক রেখে চলা। এটা সব রোগের ঔষধ। হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি এবং হরদুঈ রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বারবার একই কথা বলতেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

৯:১১৯

‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সাদেকীনদের সাথে থাক।’ এই সাদেকীন কারা?  আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে যারা গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন, তারাই সাদেকীন। আমাদের সৌভাগ্যের প্রবেশ দ্বার খাঁটি আলেমের সাথে সম্পর্ক রেখে চলা। যে আজাদীর সাথে চলতে চাইবে, অপরিপক্ক জ্ঞান নিয়ে সে বিপদে পড়বে।

*’আত্মশুদ্ধির পাথেয়’ – বইটি থেকে সংকলিত

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হায়াতুল মুসলিমীন

হযরত বলেন, আমি হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির খাদেম ছিলাম তের বছর। হযরতের কাছে হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ‘হায়াতুল মুসলিমীন’ কিতাবের কথা বহুবার শুনেছি। হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির মৃত্যুর পর হরদুঈ হযরত আবরারুল হক সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে গেলাম। সেখানেও দেখলাম নিয়মিত এই কিতাবের তালীম হচ্ছে। কিতাবটা আপনাদের সবার বাড়িতে রাখবেন। একথা বলবেন না যে, পড়েছি বা পড়ে রেখে দিয়েছি। বরং বারবার দেখেন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

a site based on Islamic lectures of Hazrat Professor Muhammad Hamidur Rahman (DB)

প্রফেসর হযরত

FREE
VIEW