আমাকে আল্লহর ওয়াস্তে মাফ করে দেন. I am a poor man. আল্লাহ্‌র কালাম পড়ছি ..

মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহঃ)- এর খলিফা হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) ও মাওলানা আবরারুল হক হুজুর (রহঃ) – তাঁরা দুজনে বার বার বলতেন যে, আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর। সুন্নতকে জিন্দা কর। মানে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমনটি করতে বলেছেন, তেমনটি কর। তার মধ্যে একটি কাজ হচ্ছে বিবাহ। তাঁরা বলেন, বিবাহ সামাজিকতা নয়। আমাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি যে যাও, যেমন খুশি কর। না। বিয়ে একটি ইবাদাত। আর ইবাদাত মানে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পদ্ধতিতে কর। এ জন্য হাফেজ্জি হুজুর (রহঃ) ও আবরারুল হক সাহেব (রহঃ) বলতেন, ভাই বিয়ের সুন্নতকে জিন্দা কর। বিয়ের সুন্নাত মরে গিয়েছে। আজকাল কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে হয়। মেয়েরা চারদিকে অবাধে বিচরণ করে। তার মধ্যে সমানে ভিডিও হয়। তার মধ্যে বেচারা কাজী সাহেব বিয়ে পড়ান most apologetical face নিয়ে। এমন ভাব যে, আমাকে আল্লহর ওয়াস্তে মাফ করে দেন। I am a poor man. আল্লাহ্‌র কালাম পড়ছি। আর অন্য দিকে কারো কোন খোঁজ-খবর নেই। চার দিকে চিল্লা-চিল্লি, মেয়েদের অবাধ বিচরণ। এর মধ্যেই বিয়ে পড়ানো হয়। তারা বলেন, সুন্নতকে জিন্দা কর। বিয়ের সুন্নাত কি? সুন্নাত হচ্ছে, মসজিদে বিয়ে পড়ান। সুন্নাত কী? সুন্নাত হচ্ছে, আল্লাহ্‌ তাআলা যে পরিবেশকে পছন্দ করেন না, সে পরিবেশে বিয়ের অনুষ্ঠান কর না। কোন পরিবেশকে আল্লাহ্‌ পছন্দ করেন না? যে অনুষ্ঠানে মেয়েরা এভাবে অবাধে বিচরণ করে। আমরা এখন বলি যে, সারা দুনিয়া যেভাবে চলছে, আপনারা আমাদেরকে পিছিয়ে দিচ্ছেন। কুরআন শরীফের আয়াত,

وَقَرۡنَ فِىۡ بُيُوۡتِكُنَّ وَلَا تَبَـرَّجۡنَ تَبَرُّجَ الۡجَاهِلِيَّةِ الۡاُوۡلٰ
[সূরা আহযাবঃ আয়াত ৩৩]

মেয়েদেরকে বলা হচ্ছে, ‘তোমরা তোমাদের সৌন্দর্যকে দেখিয়ে বেড়িও না অজ্ঞ যুগের নারীদের মত।’ ইসলামের আগের যুগের নারীরা নিজেদের ঢেকে রাখতো না, তখনো এসব ছিল। মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কমপক্ষে সাতশ বছর আগে দুনিয়াতে ছিলেন জুলিয়াস সিজার। ছিলেন মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রা। তাদের এবং গ্রীক সম্প্রদায়ের নারীদের কর্মকান্ড দেখুন। নারীদের দেহ প্রদর্শনীর এই সংস্কৃতি যুগে যুগেই চলেছে। ইসলাম এর বিরুদ্ধে বলে। আমাদের বলা হয় যে, ইসলাম নারীদেরকে অধিকার দেয় না। ইসলাম যেভাবে নারীদের অধিকারের কথা বলেছে, আমি জানিনা অন্য কোথাও আপনি সে রকম পাবেন কিনা। কুরআন শরীফের আয়াত,

حَمَلَـتۡهُ اُمُّهٗ كُرۡهًا وَّوَضَعَتۡهُ كُرۡهًا
[সূরা আহক্বাফঃ আয়াত ১৫]

মায়েদের সম্পর্কে কুরআন বলে, ‘His mother carried him with difficulties’. তার মা তাকে বড় কষ্টে পেটে বহন করেছে। বড় কষ্টে প্রসব করেছে।’ মায়েদের নামে যে সব আয়াত কুরআনে রয়েছে, এর বরাবর বাপদের নামে কিছু নেই। কুরআন শরীফের বহু জায়গায় এবং হাদিস শরীফের মধ্যে মেয়েদের সম্পর্কে যেভাবে বলা হয়েছে, আপনি এর প্যারালাল কোথাও পাবেন না। তবে মেয়েদের বাইরের ব্যাপারে কুরআন পরিষ্কার বলে, এখন আপনি কী করবেন?
قُلْ لِّـلۡمُؤۡمِنِيۡنَ يَغُـضُّوۡا مِنۡ اَبۡصَارِهِمۡ وَيَحۡفَظُوۡا فُرُوۡجَهُمۡ
[সূরা নূরঃ আয়াত ৩০]

ঈমানদার পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে আনত রাখে’। Tell the believing men to keep their gazes down. দৃষ্টিকে আনত রাখা মানে কী? মেয়েদের দিকে এভাবে তাকিও না। এটি ইসলামের বিধান। এখন আপনার যদি অপছন্দ লাগে, সারা দুনিয়া চলে গেল আগে, হায়, আমরা এ বিধান নিয়ে কী মুসিবতে পড়লাম। এটি মুসিবত আপনার। কেননা আপনি কুরআনে বিশ্বাস করতে পারছেন না। কুরআন তো আল্লাহর বাণী। কুরআন তো আল্লাহ্‌ তা’আলা পাঠিয়েছেন আসমান থেকে।

  • প্রফেসর হযরতের বয়ান সংকলন-৫ (পাশ্চাত্য শিক্ষায় দ্বীনি অনুভূতি, মাকতাবাতুল ফুরকান হতে প্রকাশিত)
  • image courtesy: Designed by visnezh / Freepik
Facebooktwitterpinterestmailby feather