ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিকতর সুন্দর হতে পারে, যে কিনা আল্লাহর দিকে ডাকে।

এক মজলিসে হযরত বলেন, ‘এখন দ্বীনের কিছু কথা আলোচনা হবে। এটা অত্যন্ত দামী কাজ। বাহ্যিক কোনো আমল করা হচ্ছে না। কথা বলা হচ্ছে এবং শোনা হচ্ছে। এসময় কোনো নফল ইবাদত, নফল তিলাওয়াত এই আমলের চেয়ে বড় না। আমাদের আমলসমূহ কেমন করে ভাল হবে? এজন্য এই আলোচনাগুলো অত্যন্ত দামী। এটা দিলের খোরাক।

এখানে কথা বলা ও শোনাই আসল। পয়সা খরচের জায়গা এটা না। এটাই মূল। কুরআন মজিদের বিখ্যাত আয়াত,

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا

وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ৪১:৩৩

‘ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিকতর সুন্দর হতে পারে, যে কিনা আল্লাহর দিকে ডাকে।’

অর্থাৎ কুরআন মাজীদে আল্লাহ্‌র দিকে ডাকার জন্য যে কথা বলা হয়, সেকথা মুখের সবচাইতে বড় কথা, সবচাইতে বড় কাজ বলে অভিহিত করেছেন। কথা বিভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে। যেমন আযান। হযরত যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি, যিনি এই জামানায় অনেক বড় আলেম, আল্লাহ্‌র ওলী ছিলেন। তিনি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহর দিকে ডাকে মুয়াযযিন। একই কথা প্রতিদিন। মূল কথা حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ – নামাযের জন্য আস। আগে পরে অনেক ভুমিকা আছে। মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর কোনো শরীক নেই। মনে করিয়ে দেয়, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। তারপর বলে, حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ। এরপর উপসংহার, সত্যিকারের কামিয়াবী চাইলে মসজিদে আস। নামায হচ্ছে সবচেয়ে বড় কামিয়াবীর কাজ। উভয় জাহানের কামিয়াবী। সর্বাঙ্গীন সফলতা। কোনো নতুনত্ব নেই। প্রতিদিন একই কথা।