‘তাদের মুখ থেকে যে কথা বের হয়েছে তা অতি জঘণ্য’

কুরআন মাজিদের বিখ্যাত সূরা, আপনাদের অনেকেরই ভালো রকমের জানা আছে, সূরাতুল কাহফ। এটিকে বলা হয় শুক্রবারের সূরা। শুক্রবার এ সূরা তিলাওয়াতের খাস ফযীলতের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এ সূরায় আল্লাহ তা’আলা বলেন, প্রথম আয়াত,
ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ عَلَىٰ عَبۡدِهِ ٱلۡكِتَـٰبَ وَلَمۡ يَجۡعَل لَّهُ ۥ عِوَجَاۜ

‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তার দাসের উপর এই কিতাব নাযিল করেছেন, যার মধ্যে কোন রকমের প্যাঁচ নেই (Simple and distinctly clear)।’ Beginning of the sura is with Alhamdulillah। দ্বিতীয় আয়াত,
قَيِّمً۬ا لِّيُنذِرَ بَأۡسً۬ا شَدِيدً۬ا مِّن لَّدُنۡهُ وَيُبَشِّرَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أَنَّ لَهُمۡ أَجۡرًا حَسَنً۬ا
‘এটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করার জন্য এবং মুমিনদেরকে, যারা সৎকর্ম করে, তাদেরকে সুসংবাদ দান করার জন্য যে, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে। তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।’ এ পর্যন্ত প্রথম তিন আয়াতে বলা হয়েছে, কেন এই কুরআন এসেছে? এই কুরআন অবিশ্বাসীদের সতর্ক করার জন্য এবং বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দেয়ার জন্য নাযিল হয়েছে। চতুর্থ নম্বর আয়াতে গিয়েই আল্লাহ যে কথা বলেন, তাতে বুশ সাহেবদের মাথা অনেক খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা। চার নম্বর আয়াত,
وَيُنذِرَ ٱلَّذِينَ قَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدً۬ا
‘যারা বলে আল্লাহ পূত্র গ্রহণ করেছেন, this Quran has come to warn them.’ পরিষ্কার আয়াত। সূরা কাহফের চার নম্বর আয়াত। আগে বলেছেন, খোশখবরি দেয়ার জন্য ঈমানদারদের, সতর্ক করার জন্য যারা বিশ্বাস করে না তাদের, তার পরে এসেছে, যারা বলে আল্লাহ পূত্র গ্রহণ করেছেন, তাদের সতর্ক করার জন্য এসেছে এই কুরআন। এখন আল্লাহ বলেন,
مَّا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٍ۬ وَلَا لِأَبَآٮِٕهِمۡ‌ۚ
‘এ সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই, তাদের বাপেদেরও জ্ঞান নেই।’
They don’t have any knowledge concerning this nor do their fathers! অদ্ভুত আয়াত। আপনার অপছন্দ লাগুক, আমি কুরআন মাজীদের আয়াতের সাদামাটা অনুবাদ করেছি।
كَبُرَتۡ ڪَلِمَةً۬ تَخۡرُجُ مِنۡ أَفۡوَٲهِهِمۡ‌ۚ
‘তাদের মুখ থেকে যে কথা বের হয়েছে এটি অতি জঘণ্য।’ আরবীতে كَبُرَتۡ মানে হল বড়। এ জন্য অনেকে ইংরেজি ভাষায় তরজমা করেনঃ
Monstrous is the uttering that they have made! আগে বলেছেন, এ কুরআন কেন এসেছে? তাদেরকে Warning দেওয়ার জন্য যারা বলে, আল্লাহর ছেলে আছে। দুনম্বরে বলেছেন, তাদের কোন জ্ঞান নেই, তাদের বাপেদেরও জ্ঞান নেই। তিন নম্বরে বলেছেন, তাদের মুখ থেকে যে কথা বের হয়েছে তা অতি জঘন্য। এর জঘন্যতা এত বিরাট যে আরবিতে শব্দ كَبُرَتۡ । এর পরে,
إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبً۬ا
‘তারা কেবলই মিথ্যা বলে।’
আপনি আজকে Christianity এর Dogma এর দিকে দেখুন। কুরআন শরীফে এরকম সুস্পষ্ট ভাষায় Christianity এর ত্রিত্ববাদের বিরুদ্ধে এত মারাত্মক কথা। বুশ সাহেবরা কী বলবেন? শীঘ্রই কুরআনকে সরাও। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তো ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বলেই রেখেছেন, তিনি এটাকে সুপ্রকাশিত করবেনই। আসলে তো সত্যকে প্রকাশিত করা। আসল সত্য কী?
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ‏
আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আল্লাহ একই এক। তার কোন শরীক নেই। তার জন্যই সকল রাজত্ব। তার জন্যই সব প্রশংসা। তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। এটিকে বলে তাওহীদ। অবিশ্বাসীদের যতই অপছন্দ লাগুক, কুরআনের স্ট্যান্ড ক্লিয়ার।

  • পাশ্চাত্য শিক্ষায় দ্বীনি অনুভুতি, মাকতাবাতুল ফুরকান