মালফুযাত সংকলন-৫

 

রাহমানুর রাহীম

হযরত বলেন, আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ۗ وَكَانَ اللهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

২৫:৭০

‘কিন্তু যারা তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ  তাদের গোনাহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন এবং আল্লাহ  ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ এর উদাহরণ হল আমাদের মা। সন্তান যতই অন্যায় করুক, মায়ের সামনে গিয়ে মাফ চাইলেই মাফ। আর আল্লাহ  তা’আলা হচ্ছেন রাহমানুর রাহীম। মায়ের তুলনায় কোটি কোটি গুণ দয়ালু।

পুরনো কথা

হযরত বলেন, ‘আমি পুরোনো কথাই বারবার বলি। হরদুঈ হযরতও একই কথা বারবার বলতেন। আল্লাহ  তা’আলা কুরআনুল কারীমেও একই কথা বারবার আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ

৫১:৫৫

অর্থাৎ, ‘আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারকে উপকার করবে।’ ذَكِّرْ মানে হচ্ছে ‘Remind’। আর পুরোনো কথাকেই ‘Remind’ করানো হয়।’

আযানের জবাব

হযরত বলেন, ‘হরদুঈ হযরত বলতেন,  আযানের জবাব দেয়ার জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুব তাকীদ করতেন। মুয়াযযিন যখন আযান দেয়, তখন চুপ করে যত্নের সাথে শোন। আযানের জবাব দাও। জবাব দেওয়ার পর দরূদ শরীফ পড় । তারপর এই দু’আ পড়,

اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَاماً مَحْمُوداً الَّذِي وَعَدْتَهُ، إَنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ

তিনি এই প্রসঙ্গে বারবার একটা গল্প বলতেন। হাকীমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির গল্প। তিনি বলতেন যে, ঐ ব্যক্তি কি করবে, যে আযানের আগেই মসজিদে পৌঁছে গেছে, সামনের কাতারে বসে কুরআন পড়ছে? সে তো নামাযের জন্য এসেই পড়েছে। আবার ব্যস্ত হয়েছে সর্বোত্তম কাজে। আমি ফতোয়া দিচ্ছি না, আমার দিলে চায়, ঐ ব্যক্তি এখন কুরআন তিলাওয়াত বন্ধ করুক। আগে মুয়ায্যিনের আযানের জবাব দিক। আযানের জবাবের পর দরূদ এবং দু’আ পড়ুক। যদি সে পুনরায় কুরআন পড়া শুরু করে তবে তার এবারের পড়াটা নূরে ভরপুর হবে ইনশাআল্লাহ।

উলামারা নবীদের ওয়ারিশ

উলামায়ে কেরামের মর্যাদা সম্পর্কে হযরত বলেন, হুযুুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ألْعُلَمَاءُ وَرِثَةُ الاَنْبِيَاء – উলামারা সকল নবীর ওয়ারিশ। আমার ওয়ারিশ বলেন নাই। সকল নবীদের ওয়ারিশ বলেছেন। আলেমরা হচ্ছেন নবীদের ওয়ারিশ। তাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা যাবে না। ইংরেজি শিক্ষিত অনেক লোক নামায রোযা সকল ইবাদত করেন কিন্তু উলামাদের সাথে  মেশেন না। তাদেরকে ঘৃণা করেন। আল্লাহ  তা’আলা বলেন, وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِيْنَ – সাদেকীনদের সাথে থাক। সাদেকীন কারা? হক্কানী উলামায়ে কেরাম, যারা সুন্নাতের উপর আমল করেন, তারাই সাদেকীন।’

ক্রোধ

হযরত বলেন, ক্রোধে যে কাজ করা হয়, তা কখনোই ভাল হয় না। ক্রোধ হয়েছে অথচ আফসোস করা হয় নাই, এটা কখনোই হয় না।

গীবতের প্রতিকার

হযরত বলেন, গীবত হয়ে গেলে তার প্রতিকার হচ্ছে, যার গীবত করা হয়েছে তার কাছে মাফ চাওয়া। যদি মাফ চাওয়া সম্ভব না হয় তবে তার জন্য দু‘আ করা এবং সদকা করা।

অর্থই অনর্থ

হযরত বলেন, বড় লোকের অর্থ-ই অনেক ক্ষেত্রে অনর্থের মূল। ছেলেমেয়ের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে তারা অনেক গোনাহে লিপ্ত হয়ে যায়।

শোকরগুজারি

হযরত বলেন, ইসলামের প্রতিটি আমলই শোকরগুজারী শিক্ষা দেয়। যেমন- খানার শেষে দু’আ, টয়লেট থেকে বের হবার পর দু’আ।

ইকামতের জবাব

হযরত বলেন, আমরা অনেকেই আযানের জবাব দেই ইকামতের জবাব দেই না। ইকামতের জবাব দিতে হবে। ইকামতের জবাব আযানের জবাবের মতই। তবে قَدْ قَامَتِ الصَّلَاة এর জবাবে বলতে হবে اَقَامَهَا اللهُ وَأدَامَهَا।

মূল সমস্যা অন্তরের অহংকার

হযরত বলেন, ‘অনেক হাজী সাহেব ও নামাযীদের মেয়ে-বউ বেপর্দায় থাকে। তারা তাদেরকে কিছুই বলেন না। মূল দুর্বলতা মনের মধ্যে। ফেরেশতাদের পরিবেশে থেকেও শয়তান আল্লাহ হুকুমকে অমান্য করেছে। তার মূল সমস্যা ছিল অন্তরের অহঙ্কার। তাই মনের মধ্যে আলো জ্বালাতে হবে। ঈমানের কথা বারবার শোনার এবং বলার দ্বারা এটা আসবে। এজন্যই কুরআনে পাকে বলা হয়েছে,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ

৫১:৫৫

‘আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারকে উপকার করবে।

–হযরতের মালফুযাত  সংকলন   ‘আত্মশুদ্ধির পাথেয়  ‘  হতে সংগৃহীত

Facebooktwitterpinterestmailby feather