All posts by tousif

Scholars of Islam

আমাদের বাংলাদেশের কবি গোলাম মোস্তফা সূরা ফাতিহার বাংলা তরজমা করেছেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছে স্কুল জীবনে একজন হেডমাস্টার পেয়েছিলাম। ঢাকার খুব গরীব স্কুল। ইসলামিয়া হাই স্কুল। হেডমাস্টার সাহেবের নাম ছিল আব্দুল বারী। ইংরেজি পড়াতেন। কিশোরগঞ্জে বাড়ি। তিনি পড়াতেন ইংরেজি, আর তাঁর পরনে পায়জামা ছিল হাঁটু আর টাকনুর মাঝখানে। তিনি হযরত মাওলানা আতহার আলী (রহঃ) সাহেবের মুরিদ ছিলেন। মাওলানা আতহার আলী (রহঃ) মাওলানা আবরারুল (রহঃ) সাহেবের মতো মাওলানা আশরাফ আলি থানভী (রহঃ) এর খলিফা ছিলেন। তার বাড়ি ছিলো সিলেটে। পরে রওজা হয়েছে ময়মনসিংহে। আমাদের মধ্যে স্কুলে দ্বীনের অনুভূতি বাড়ানোর জন্য আমাদের সেই হেডমাস্টার সাহেব খুব চেষ্টা করতেন। তিনি পড়াতেন ইংরেজি কিন্তু ক্লাসের মধ্যে কেবলই আওড়াতেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা।

আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে
সকল অহংকার হে আমার ডুবাও হে চোখের জলে

এ কথা যে কত ইংরেজি ক্লাসে শুনেছি তার সীমা নেই। তিনি আমাদেরকে খুবই গোলাম মোস্তফা সাহেবের সূরা ফাতিহার তরজমা শুনাতেন। কবি গোলাম মোস্তফার নাম বাংলা সাহিত্যে কম পাওয়া যায়। তাঁকে চিহ্নিত করা হয় সাম্প্রদায়িক কবি হিসেবে। কেন তিনি সাম্প্রদায়িক কবি? কারণ হিসেবে বলা হয়, কেন তিনি সূরা ফাতিহার তরজমা করলেন? কেন তিনি ‘বিশ্ব নবী’ লিখলেন? আল্লাহ, আল্লাহর রাসূলের কথা বললে আপনি সাম্প্রদায়িক। তাঁদের কথা না বলবেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলবেন, তাহলে আপনি বুদ্ধিজীবী। গোলাম মোস্তফা সাহেব সাম্প্রদায়িক কবি। যাক সেটি ভিন্ন জিনিস। তার লেখা সূরা ফাতিহার তরজমা আমাদের হেডমাস্টার সাহেব সুর দিয়ে আবৃত্তি করে শোনাতেন-
সরল সঠিক পূর্ণ পন্থা মোদের দাও গো বলি
চালাও সে পথে যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি

এখন আল্লাহর প্রিয়জন কারা? কুরআনের সূরা নিসার আয়াতে এটির ব্যাখ্যা রয়েছে। One verse of the Quran is explained by many other different verses of the Quran. এটির ব্যাখ্যা আল্লাহ সূরা নিসায় দিয়েছেন, আল্লাহ তাআলার নেয়ামত প্রাপ্ত কারা? তাদের কথা আল্লাহ বলছেন,

وَمَنۡ يُّطِعِ اللّٰهَ وَالرَّسُوۡلَ فَاُولٰٓـئِكَ مَعَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰهُ عَلَيۡهِمۡ مِّنَ النَّبِيّٖنَ وَالصِّدِّيۡقِيۡنَ وَالشُّهَدَآءِ وَالصّٰلِحِيۡنَ​ ۚ

‘আর যে কেউ আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তা হলে যাদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ।’

সুতরাং নবীদের পথ, সিদ্দিকীনের পথ, খাঁটি বিশ্বাসী এবং সাধারণ বিশ্বাসীদের মধ্যে যারা উচ্চ স্তরের এবং যারা শহীদ তারাই হলেন নেয়ামত প্রাপ্ত। এজন্য আল্লাহর পথে চলার ব্যাপারে আমাদেরকে বারবার তাকাতে হবে পিছনে। মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি করেছিলেন? তাঁর সাহাবীরা কি করেছিলেন? সাহাবীদের পরবর্তীতে যারা, তাঁদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ এর সার্টিফিকেট,

خير أمتي قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم
[বুখারী শরিফ – ৬১৫৯]

“সর্বোত্তম হচ্ছে আমার সঙ্গীরা। Then the pyramid is coming down. মানে He is at the pinnacle. তাঁর পরে যারা, তাঁদের পরে যারা। তাঁদের পরে যারা…। ” তাঁদেরকে অবজ্ঞা করে, তাঁদেরকে ডিঙ্গিয়ে আমাদের খুশিমতো ইসলামকে ব্যাখ্যা করবো, তাতে দুনিয়া আমাদের বাহবা দিতে পারে কিন্তু আল্লাহ তা’আলার কাছে তা গ্রাহ্য হবে না। এরকম স্কলার ইসলামে অনেক আছে, যাদেরকে সারা দুনিয়া বলে, most learned persons in Islam. কিন্তু আমাদের রক্ষণশীল উলামায়ে কেরাম বলেন, তারা ঐ পথে চলেনি। তারা রাসূলের পথ ধরেনি। সাহাবীদের পথ ধরেনি। সাহাবীদের পরবর্তী তাবেঈনদের পথ ধরেনি সেজন্য আমাদেরকে বারবার মনে রাখতে হবে সিরাতাল মুস্তাকিম এর মাপকাঠি কী? সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম – তাঁদের পথ যারা আল্লাহর প্রিয়জন। আল্লাহর সুচিহ্নিত প্রিয়জন। তাঁদেরকে ডিঙিয়ে তাঁদেরকে অবজ্ঞা করে চলবো, হতেই পারে না। এটি চলার নামে চেষ্টা হবে, প্রয়াস হবে কিন্তু ব্যর্থ প্রয়াস। এজন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ১৪০০ বছর আগে আল্লাহর এই দ্বীন সম্পর্কে পরিষ্কার কথা বলে দিয়েছেন, আমি চলে যাব। আর আমার উত্তরাধিকারী হচ্ছে ওলামায়ে কেরাম, The scholars of Islam.

[প্রফেসর হযরতের বয়ান সংকলন – ‘ইসলামের দাবি ও আমাদের বাস্তব জীবন’ থেকে সংগৃহিত]

A function for life is the marriage ceremony of my daughter

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিশেষ করে হুকুম করেছেন, সাতটি জিনিসের। আমি তার সবগুলিতে গেলাম না। দুটো কথা বললাম। একটি হচ্ছে জানাযায় যাওয়া। আর একটি হচ্ছে রোগীকে দেখতে যাওয়া। একটি খুশির কথাও আছে। সেটি হলো দাওয়াত কবুল করা। মুসলমান দাওয়াত দিলে সে দাওয়াত কবুল করা, সেই সাতটি কাজের মধ্যে একটি। আজকাল তো বিয়ের দাওয়াত ছাড়া দাওয়াতই নেই। সারা জীবনের একটি ফাংশন। ছেলের বিয়ে না হলে মেয়ের বিয়ে অথবা নিজের বিয়ে। সারা দুনিয়ায় একটিই ফাংশন মুসলমানদের। অথচ এই দাওয়াতের সঙ্গে বিয়ের কোন সম্পর্কই নেই। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিখ্যাত উক্তি, ঐ বিয়েতে কল্যাণ সর্বাধিক, যে বিয়েতে খরচ সর্বনিম্ন।

এখন আমাদের জীবনে A function for life is the marriage ceremony of my daughter. সন্তান জন্ম হলো। আর শুরু হল টাকা জমানো। মেয়েটির বিয়ে দিতে হবে। ব্যাংকওয়ালারা একটি ফান্ড এর কথা বলে। এভাবে টাকা জমান। এখন থেকে শুরু করলে বিশ বছর পরে আপনার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য আপনার একাউন্টে এত টাকা জমবে। টাকা বাড়ে। money growth, কত রকমের প্রলোভন। আর ঐ টাকাটা কোথায় খরচ করে? আজকাল কমিউনিটি সেন্টারের ভাড়াই লাগে অনেক টাকা। ঢাকায় সেনাকুঞ্জের ভাড়া এক লাখ টাকা। তাতে লাইটিং অন্তর্ভুক্ত কিনা আমি জানিনা। অথচ ইসলামের সঙ্গে সম্পু্র্ণ সম্পর্কহীন কাজ। বরং ইসলাম এটিকে একটি গর্হিত কাজ বলে। পুরো সমাজে সবচেয়ে দামি যে অনুষ্ঠান, সেটিকে ইসলাম গর্হিত বলে। আপনাদের কাছে মনে হবে, ‘বলেন কী? এত শক্ত কথা বললেন?’ এটি আমি বলি না। আমাদের রক্ষণশীল উলামারাই বলেন।

  • ইসলামের দাবী ও আমাদের বাস্তব জীবন, প্রফেসর হযরতের বয়ান সংকলন

‘তাদের মুখ থেকে যে কথা বের হয়েছে তা অতি জঘণ্য’

কুরআন মাজিদের বিখ্যাত সূরা, আপনাদের অনেকেরই ভালো রকমের জানা আছে, সূরাতুল কাহফ। এটিকে বলা হয় শুক্রবারের সূরা। শুক্রবার এ সূরা তিলাওয়াতের খাস ফযীলতের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এ সূরায় আল্লাহ তা’আলা বলেন, প্রথম আয়াত,
ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ عَلَىٰ عَبۡدِهِ ٱلۡكِتَـٰبَ وَلَمۡ يَجۡعَل لَّهُ ۥ عِوَجَاۜ

‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তার দাসের উপর এই কিতাব নাযিল করেছেন, যার মধ্যে কোন রকমের প্যাঁচ নেই (Simple and distinctly clear)।’ Beginning of the sura is with Alhamdulillah। দ্বিতীয় আয়াত,
قَيِّمً۬ا لِّيُنذِرَ بَأۡسً۬ا شَدِيدً۬ا مِّن لَّدُنۡهُ وَيُبَشِّرَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أَنَّ لَهُمۡ أَجۡرًا حَسَنً۬ا
‘এটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করার জন্য এবং মুমিনদেরকে, যারা সৎকর্ম করে, তাদেরকে সুসংবাদ দান করার জন্য যে, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে। তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।’ এ পর্যন্ত প্রথম তিন আয়াতে বলা হয়েছে, কেন এই কুরআন এসেছে? এই কুরআন অবিশ্বাসীদের সতর্ক করার জন্য এবং বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দেয়ার জন্য নাযিল হয়েছে। চতুর্থ নম্বর আয়াতে গিয়েই আল্লাহ যে কথা বলেন, তাতে বুশ সাহেবদের মাথা অনেক খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা। চার নম্বর আয়াত,
وَيُنذِرَ ٱلَّذِينَ قَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدً۬ا
‘যারা বলে আল্লাহ পূত্র গ্রহণ করেছেন, this Quran has come to warn them.’ পরিষ্কার আয়াত। সূরা কাহফের চার নম্বর আয়াত। আগে বলেছেন, খোশখবরি দেয়ার জন্য ঈমানদারদের, সতর্ক করার জন্য যারা বিশ্বাস করে না তাদের, তার পরে এসেছে, যারা বলে আল্লাহ পূত্র গ্রহণ করেছেন, তাদের সতর্ক করার জন্য এসেছে এই কুরআন। এখন আল্লাহ বলেন,
مَّا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٍ۬ وَلَا لِأَبَآٮِٕهِمۡ‌ۚ
‘এ সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই, তাদের বাপেদেরও জ্ঞান নেই।’
They don’t have any knowledge concerning this nor do their fathers! অদ্ভুত আয়াত। আপনার অপছন্দ লাগুক, আমি কুরআন মাজীদের আয়াতের সাদামাটা অনুবাদ করেছি।
كَبُرَتۡ ڪَلِمَةً۬ تَخۡرُجُ مِنۡ أَفۡوَٲهِهِمۡ‌ۚ
‘তাদের মুখ থেকে যে কথা বের হয়েছে এটি অতি জঘণ্য।’ আরবীতে كَبُرَتۡ মানে হল বড়। এ জন্য অনেকে ইংরেজি ভাষায় তরজমা করেনঃ
Monstrous is the uttering that they have made! আগে বলেছেন, এ কুরআন কেন এসেছে? তাদেরকে Warning দেওয়ার জন্য যারা বলে, আল্লাহর ছেলে আছে। দুনম্বরে বলেছেন, তাদের কোন জ্ঞান নেই, তাদের বাপেদেরও জ্ঞান নেই। তিন নম্বরে বলেছেন, তাদের মুখ থেকে যে কথা বের হয়েছে তা অতি জঘন্য। এর জঘন্যতা এত বিরাট যে আরবিতে শব্দ كَبُرَتۡ । এর পরে,
إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبً۬ا
‘তারা কেবলই মিথ্যা বলে।’
আপনি আজকে Christianity এর Dogma এর দিকে দেখুন। কুরআন শরীফে এরকম সুস্পষ্ট ভাষায় Christianity এর ত্রিত্ববাদের বিরুদ্ধে এত মারাত্মক কথা। বুশ সাহেবরা কী বলবেন? শীঘ্রই কুরআনকে সরাও। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তো ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বলেই রেখেছেন, তিনি এটাকে সুপ্রকাশিত করবেনই। আসলে তো সত্যকে প্রকাশিত করা। আসল সত্য কী?
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ‏
আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আল্লাহ একই এক। তার কোন শরীক নেই। তার জন্যই সকল রাজত্ব। তার জন্যই সব প্রশংসা। তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। এটিকে বলে তাওহীদ। অবিশ্বাসীদের যতই অপছন্দ লাগুক, কুরআনের স্ট্যান্ড ক্লিয়ার।

  • পাশ্চাত্য শিক্ষায় দ্বীনি অনুভুতি, মাকতাবাতুল ফুরকান

মুখের যিকির

যিকির খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার শায়েখ হাফেজ্জী হুজুর রহঃ বলতেন, ‘একটা সেকেন্ডও যেন যিকির থেকে খালি না যায়।’ এ কথার বাস্তব প্রতিবিম্ব ছিলেন তিনি। তার ঠোঁট সবসময় নড়ত। কুরআন বলে,

يٰۤـاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوا اذۡكُرُوۡا اللّٰهَ ذِكۡرًا كَثِيۡرًا
(৩৩:৪১)

আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করুন। কিভাবে তাকে স্মরণ করবেন? অন্তরে না মুখে? আমার শায়েখ হাফেজ্জী হুজুর রহঃ বলতেন, জিহ্বার যিকির গুরুত্বপূর্ণ। অন্তরের যিকির একস্থানে স্থির থাকে না। এখন আপনি হয়তো চিন্তা করছেন, আপনি কবরে। আপনার অন্তর ভয়ে অস্থির। কিন্তু পরের মুহুর্তে আপনি ম্যানহাটনে চলে যাবেন। অন্তর স্থির থাকে না। এজন্য মুখে যিকির গুরুত্ব বেশি রাখে। যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি সবচেয়ে সহজও। দুনিয়ায় আমাদের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে জরুরি জিনিস কি? বাতাস। এজন্য আমরা কত টাকা খরচ করি? তারপরের জিনিস কি? পানি। তারপরের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কি? ভাত। অন্যান্য লাক্সারি আইটেমের তুলনায় এজন্য আপনি কত টাকা খরচ করেন? খুবই সামান্য। এরকম ইবাদাতের ব্যপারেও। সুবহানাল্লাহ । এটা মুখে বলা অনেক নেকির কাজ। সবাই জানে এটা। কিন্তু এটাকে খুব সাধারণ মনে করা হয়। এটা সাধারণ কোন কথা নয়।

গায়েবে বিশ্বাস

মানুষের আবিষ্কার, সৃষ্টি ও উন্নতি সবকিছুই তার পঞ্চেন্দ্রিয়’র সাথে সম্পর্কিত। এগুলো দিয়ে আল্লাহর অস্তিত্ব, নবুয়ত, হাশরের দিন, ফেরেশতা, ঐশী গ্রন্থ প্রমাণ করা যাবেনা। এসব বিষয়কে গায়েবের বিষয়বস্তু করা হয়েছে। এ বিষয়ে কুরআনের শুরুতেই বলা হয়েছে,
ٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِٱلْغَيْبِ
‘ যারা বিশ্বাস করে গায়েব’

গায়েবের তরজমা অনেকে অদৃশ্য করে থাকেন। এটা ঠিক নয়। গায়েব মানে এমন কিছু যা স্পর্শ করা যাবে না, দেখা যাবে না, যা (ত্বক দিয়ে) অনুভব করা যাবে না, যার স্বাদ নেওয়া যাবে না । সুতরাং আমাদের পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে এগুলো আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। সকল বৈজ্ঞানিক গেজেট এই পঞ্চেন্দ্রিয়কে সাহায্য করে। আল্লাহর নিকট ফিরে যাওয়ার বিষয়টি পঞ্চেন্দ্রিয়ের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বিজ্ঞান দিয়ে এটি আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। এজন্য পাশ্চাত্যে খুব কম মানুষই এটা বিশ্বাস করে। কিন্তু মুসলমানদের জন্য এটি খুবই পরিচিত একটি বিষয়। প্রতি মুহুর্তে সে এটি তার অন্তরে ধারণ করে; তাকে আল্লাহর নিকট ফিরে যেতে হবে। এমনকি সামান্যতম কোনো অসুবিধা হলেও ইসলাম তাকে বলতে বলে, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন – আমরা আল্লাহর, এবং তার দিকেই আমরা ফিরে যাব।

  • ‘পরিবর্তন ও প্রত্যাবর্তন’, মাক্তাবাতুল ফুরকান – থেকে সংগৃহীত

উচ্চারণ সহজ, দাড়িপাল্লায় ভারী

হযরত বলেন,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বুখারী শরীফের শেষ হাদিস,

كَلِمَتَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ، خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ، ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

দুটি কালিমা আছে যেগুলো দয়াময়ের কাছে অতি প্রিয় । মুখে উচ্চারণ করা খুবই সহজ, দাঁড়িপাল্লায় অত্যন্ত ভারী। (বাণী দুটি হচ্ছে) সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবাহানাল্লাহিল আযিম (আমরা আল্লাহর প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, মহান আল্লাহ (যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে) অতি পবিত্র ) /
[বুখারি শরিফ, হাদিস নং ৭৫৬৩]

আমরা যেখানে থাকি সহজেই এ শব্দগুলো বলতে পারি কিন্তু আমরা বলি না। উলামায়ে কেরাম আমাদের সকাল-সন্ধ্যায় এটি ১00 বার করে পড়তে বলেন; সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম। ফাতেমা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ্, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার এটা কেন শিখিয়েছিলেন? এখন আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, মুখে সুবাহানাল্লাহ যিকির করছেন। কারো দিকে তাকাচ্ছেন না। পাশে অনেক মুসলমান হেঁটে চলে যাচ্ছে। এ সময় উত্তম হলো যিকির থামিয়ে তাকে আসসালামু আলাইকুম বলা। সুতরাং আসসালামু আলাইকুম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ যখন আপনি রাস্তায় কারো সঙ্গে দেখা করেন।

  • পরিবর্তন ও প্রত্যাবর্তন, মাকতাবাতুল ফুরকান থেকে প্রকাশিত

Publish or Perish

দুনিয়ার পথে এগুনোর শেষ নেই। আজকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, কালকে এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, পরশু পিএইচডি। তারপর পোস্ট ডক্টরেট। একটার পর একটা চলছে। তারপর ইন্টারন্যাশনাল কোন ম্যাগাজিনে পেপার পাবলিশ করো। Publish or Perish, পেপার পাবলিশ করো না হয় ধ্বংস হয়ে যাও। নতুন নতুন তত্ত্ব আহরণ করো। নতুন নতুন তত্ত্ব আহরণ না করে পুরনো জিনিস নিয়ে বসে থাকলে হবে না। নিত্য নতুন সবকিছু জানতে হবে। শিখতে হবে। আর আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে আমরা একেবারে সামান্যতেই খুশি হয়ে যাই। আমাদের এই যে অবহেলা তার একটাই কারণ যে, আখেরাত সম্পর্কে অনুভূতি দুর্বল। সে অনুভূতি যত বেশি সজাগ হবে ততো বেশি আখেরাতের জন্য আগ্রহ বাড়বে, আর মজলিস গুলোর মূল উদ্দেশ্য এটাই আমাদের অন্তরে আখেরাতের ব্যাপারে আরও বাস্তব অনুভূতি সৃষ্টি করে দেওয়া। আমরা যেন আখিরাতের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি। আল্লাহ নিজেও বলেন,

  كَلَّا بَلۡ تُحِبُّوۡنَ الۡعَاجِلَةَ ۙ‏ ﴿۲۰﴾  وَتَذَرُوۡنَ الۡاٰخِرَةَ ؕ‏ ﴿۲۱

‘না না তুমি তো দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছ। আখেরাত অনেক মঙ্গলজনক, চিরদিনের।‘

[সূরা-৮৭, আয়াত ১৬-১৭]

দুনিয়া কয় দিনের? কিন্তু আমাদের মন মানেনা। মন এখন যেটাকে দেখে, সেটাকে ভালো মনে করে। জিভে স্বাদ লাগে। খেতে ভালো লাগে। কানে ভালো লাগে। শুনতে ভালো লাগে। চোখে ভালো লাগে, দেখতে ভালো লাগে। এখান থেকে ফেরানোর জন্য কুরআন মাজিদের পাতায় পাতায় বিভিন্ন ভঙ্গিতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

اَلۡهٰٮكُمُ التَّكَاثُرُۙ‏ ﴿۱﴾  حَتّٰى زُرۡتُمُ الۡمَقَابِرَؕ‏ ﴿۲

‘আধিক্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে পর্যন্ত না তোমরা কবরে পৌঁছাও।’ [সূরা ১০২, আয়াত ১-২]

কবরে পৌঁছানোর আগে কেবলই দুনিয়া বাড়ানোর চিন্তা আমাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখে। আরো চাই, আরো চাই।

পাশ্চাত্য শিক্ষায় দ্বীনি অনুভূতি, মাকতাবাতুল ফুরকান, পৃঃ১৪০

আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক

 মাওলানা আশরাফ আলী থানভি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আরেকটা কথা বলতেন যে, আল্লাহ্‌র সঙ্গে আগে যামানার আল্লাহ্‌র ওলীদের সম্পর্ক ছিল গভীর। তারা আর কিছুই ভালবাসতেননা। আমি আর আমার মা’বুদ। লোকজন তাদের পেছনে বুজুর্গ মনে করে ঘুরবে, এটা তারা ভালবাসতেন না। লোকের কাছ থেকে বাঁচতে চাইতেন। কুরআন শরীফে আয়াতও আছে,

فَاِذَا فَرَغۡتَ فَانۡصَبۡۙ‏ ﴿۷﴾  وَاِلٰى رَبِّكَ فَارۡغَب
(৯৪ঃ ৭-৮)

‘তুমি যখন দুনিয়ার মানুষের সঙ্গে তাবলীগের কাজ-কর্ম করে একটু অবসর পেয়েছ এখন কেবলই তোমার মাবুদের সঙ্গে থাক।’ মানে আসল কাজ হচ্ছে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা। আসল প্রেমাস্পদ, সুফিয়ায়ে কেরামের ভাষায়, তিনি।

وَاذۡكُرِ اسۡمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلۡ اِلَيۡهِ تَبۡتِيۡلً
(৭৩ঃ৮)

সূরা মুযযাম্মিলের মধ্যে আছে, ‘পরিপূর্ণভাবে তারই দিকে নিবিষ্ট হও।’ আলাহ তুমি-আমি। কবরের মধ্যে আর কে থাকবে সঙ্গে? কেউ যাবে সঙ্গে? এটাও কুরআন শরীফে আছে,

وَلَقَدۡ جِئۡتُمُوۡنَا فُرَادٰى كَمَا خَلَقۡنٰكُمۡ اَوَّلَ مَرَّةٍ
(৬ঃ৯৪)

‘Now you have come to me alone as I created you alone’ (আজ তুমি আমার কাছে এসেছ একা, যেমন একা প্রথমবার আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছিলাম )