Category Archives: Discourses (Bangla)

রেল স্টেশন

থানাভৌনে কোন রেল স্টেশন  ছিলনা। তিন মাইল দূর থেকে হেঁটে আসতে হতো। এতে খানকায় গমনাগমনকারীদের কষ্ট হতো। প্রফেসর হযরত বলেলন, ‘হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির মালফুযাতে আছে, হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি থানাভৌনে একটা রেল স্টেশনের জন্য ক্রমাগত বিশ বছর দু’আ করেছেন। তারপর সে দু’আ কবুল হয়েছে। তখন তার মুরীদরা কি দেখে নাই যে, তাদের শায়েখ বছরের পর বছর দু’আ করেছেন, অথচ তা কবুল হচ্ছে না। তারপরও থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি দু’আ করা বন্ধ করেননি। ক্রমাগত বিশ বছর দু’আ করেছেন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

বরফ

বরফ যে একটা অদ্ভুত জিনিস বোঝা যেত না। যখন জানা গেল যে সুপ্ততাপ বলে একটা জিনিস আছে, ৮০ ক্যালরি লাগবে বরফকে গলাতে, তখন বোঝা গেল বরফ কত বড় নেয়ামত। যদি ৮০ ক্যালরি লাগার ব্যাপারটা না থাকতো, তাহলে আপনি বরফ বহন করতে পারতেন? কোনদিন চিন্তা করেছেন, বরফের ক্যালরি কেন আশি? আর বাষ্পীয়ভবনের সময় সুপ্ততাপ কেন ৫৩৭ ক্যালরি? আমরা কোনদিন চিন্তা করিনা। পানি কেন চার ডিগ্রি সেলসিয়াস এ সবচেয়ে বেশি ভরের হল? যদি তা না হত, তাহলে কি হত? তাহলে এই হত যে, পৃথিবীর উত্তরাঞ্চলের কোন জায়গায় কোন মাছ বাঁচতে পারতো না। পানি সব বরফ হয়ে যেত। এখন কি হচ্ছে? পানি নীচে দিব্যি আছে, উপরে বরফ ভাসছে। কত নেয়ামত চোখে পড়ে। কিন্তু এর জন্য আমরা কোনদিন শোকর করিনা। আমরা কোনদিন বলিনা যে, যিনি এসব তৈরি করেছেন, আমরা তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আবার আল্লাহর নাম নিলে সাম্প্রদায়িক (Communal)। ভগবানের নাম নিলে কিন্তু সাম্প্রদায়িক নয়। ঈশ্বরের নাম নিলে সাম্প্রদায়িক না। কি মজার খেলা!

  • প্রফেসর হযরতের বয়ানের অংশ, পথের দিশা দ্বিতীয় খন্ড
Facebooktwitterpinterestmailby feather

কৃত্রিম বৃষ্টি

আমেরিকার কি এ টেকনোলজি রয়েছে যা দিয়ে সে এখনই বৃষ্টি হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মেঘ থেকে বৃষ্টি নামাতে পারবে? আমেরিকার কাছে অনেক টেকনোলজি আছে। কিন্তু দশ সেকেন্ড আগে বৃষ্টি হয়ে যাওয়া মেঘখন্ড থেক বৃষ্টি নামানোর টেকনোলজি নেই। ২০১২ সালে আমি আমেরিকা সফরে গিয়েছিলাম। সেখানে ডালাসে আমাদের মেজবানে বাড়ির সামনে বাগানে কিছি ঘাস হলুদ হয়ে আছে। আমি বললাম, এই ঘাসগুলো হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কারণ কি? তখন মেজবান জানালেন যে, অনেকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে না। পানি বাচানোর জন্য বাগানে পানি দিতে নিষেধ করা হয়েছে। আকাশের মেঘ থেকে আমরা পানি নামারে পারি না। চৌদ্দশ বছর আগে কুরআন প্রকাশ্য চ্যলেঞ্জ দিয়ে রেখেছে,

اِنَّ اللّٰهَ عِنۡدَهٗ عِلۡمُ السَّاعَةِ‌ ۚ وَيُنَزِّلُ الۡغَيۡثَ

‘কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছে রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন’ (সূরা ৩১:৩৪)

তিনি এখনো এটা তাঁর কাছে রেখেছেন। মানুষকে তিনি এ ক্ষমতা দেন নি।

-হযরতের বয়ানের অংশবিশেষ

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মালফুযাত সংকলন-৭

বিয়ের ইযিন

হযরত বলেন, ‘এক বিবাহের অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। সেখানে বিবাহের সময় ইযিন নেয়ার জন্য মেয়েপক্ষের সাথে ছেলেপক্ষের একজনকে পাঠানোর কথা বলল। অথচ এটা শরীয়ত সমর্থিত নয়। তাদের বলা হল, ছেলেপক্ষের কেউ কনেকে দেখতে পারবে না। কারণ, পর্দার মাসআলা। অথচ তারা বলে উঠল যে, ছেলে পক্ষের একজন থাকলে মেয়ের ভবিষ্যতটা কত ভাল হয়! অথচ এ কথার কোন ভিত্তি নেই।’

ইসালে সওয়াব

হযরত বলেন, হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, ‘তোমার যদি পিতামাতার জন্য ইসালে সওয়াব করতে মনে চায় বা দান করতে ইচ্ছে করে, তবে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে রাতের অন্ধকারে বের হয়ে গরীব দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দাও। তারপর মনে মনে বল- আল্লাহ! এর সওয়াব আমার আব্বা আম্মার কবরে পৌঁছে দিন। এটা সাথে সাথে পৌঁছে যাবে। দু’আর জন্য হাত উঠানো বা জায়নামাযে বসা জরুরী নয়। আল−াহ পাকের কাছে সরাসরি বলাই দু’আ।’

জবানের জিকির

হযরত বলেন, ‘হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বারবার বলতেন, কলবের যিকিরের চেয়ে জবানের যিকিরের দাম বেশি। তাই জবানকে জোরপূর্বক যিকিরে লাগিয়ে রাখতে হবে। কুরআনের যতটুকুই মুখস্থ আছে ততটুকুই বারবার পড়তে হবে।’

আদব

মাদরাসার একজন তালেবে ইলম লেখাপড়ার খাতার উপর একটা ব্যাগ রাখলে হযরত তাকে সতর্ক করে বলেন, ‘এটা আদবের খেলাফ। কাগজের সম্মান করা চাই।’

সূরা ইয়াসিন

গাড়িতে মাদরাসার এক ছাত্রকে সূরা ইয়াসীনের একটি আয়াত থেকে তিলাওয়াত করতে বললেন। ছাত্রটি বলল, ‘আমি হাফেয নই।’ হযরত বললেন, ‘সূরা ইয়াসীন প্রত্যেকের মুখস্থ থাকা চাই। প্রতিদিন পড়া চাই।’ অন্য একজন সূরা ইয়াসীন শোনালেন।

মক্কা বিজয়ের কৃতিত্ব

হযরত বলেন, ‘মক্কা বিজয়ের দিন। একুশ বছর কষ্ট-নির্যাতনের পর বিজয়ীর বেশে  আল্লাহর রাসূল (সাল্লা্ল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় প্রবেশ করছেন। কিন্তু নিজের কোন কৃতিত্ব জাহির করছেন না। বললেন,

لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَه‘ اَنْجَزَ وَعْدَه‘ وَنَصَرَ عَبْدَه‘وَهَزَمَ الْاَحْزَابَ وَحْدَه‘

‘আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। একই এক তিনি। তিনি তার ওয়াদা পূরণ করেছেন। তিনি তার দাসকে সাহায্য করেছেন। সকল বিরুদ্ধ শক্তিকে একাই পরাভূত করে দিয়েছেন তিনি।’ কি অপূর্ব শব্দচয়ন!’

সালাম-মুসাফা

একবার হযরতের সাথে মুসাফাহা করার জন্য মাদরাসার ছাত্ররা সারিবদ্ধ হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছে। হযরত বললেন, ‘মুসাফাহা করার আগে আস্সালামু আলাইকুম (اَسْلَامُ عَلَيْكُمْ) বলতে হবে। মুসাফাহা করার সময় দু’আ ইয়াগফিরুলাহু লানা ওয়া লাকুম (يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَلَكُمْ) পড়বে। আর মুসাফাহা শেষ করে যাবার সময় আস্সালামু আলাইকুম বলবে।’

অসুস্থ ব্যক্তির তিন আমল

হযরত বলেন, ‘কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তিনটি কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। এক. সুন্নাতের নিয়তে ডাক্তারের ঔষধ খাওয়া। দুই. কোন আল−াহওয়ালার দু’আ নেওয়া এবং তিন. নিজে কোন আমল করা।’

মুসলমান হবার নেয়ামতের শুকরিয়া

হযরত বলেন, খাবার খাওয়ার শেষে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শেখানো একটা দু’আ আছে,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ

‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে খাওয়ালেন, পান করালেন এবং মুসলমান করেছেন।’ এই দু’আর প্রথম অংশ, সকল প্রশংসা তার জন্য যিনি আমাদের খাওয়ালেন, পান করালেন, বোঝা গেল। কিন্তু তারপরে, ‘তিনি আমাদের মুসলমান বানিয়েছেন’ – এটা খাওয়ার দুআর মধ্যে কেন?

আমার সৌভাগ্য হয়েছে হরদুঈ যাবার। হরদুঈ হযরত কথায় কথায় বললেন, ‘আমার বয়স যখন এগার-বার, তখন আমার আব্বার সাথে আমি হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির দরবারে গিয়েছিলাম। আমার আব্বা প্রশ্ন করলেন, ‘হযরত, খাওয়ার দু’আর মধ্যে ‘আমাদের মুসলমান বানানো হয়েছে’ একথা ভরে দেয়া হল কেন?’ তখন হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, ‘যে নেয়ামত বোঝা যায় না, তা আল্লাহ তা’আলা সহজবোধ্য নেয়ামতের সাথে ভরে দিয়েছেন।’

যখন ক্ষুধা লাগে, তখন খাবার খেলে নেয়ামতটা সঙ্গে সঙ্গে বুঝা যায়। পানির পিপাসায় পানি খেলে মনে তৃপ্তি লাগে। তখন এমনিতেই শুকরিয়া আদায় করি আমরা। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা মুসলমান বানিয়ে যে কি নেয়ামতে আমাদেরকে ধন্য করেছেন, এটা সহজে বুঝে আসে না। এটা খাবার আর পানীয় থেকে অনেক বেশি মর্যাদার নেয়ামত। এজন্য তাকে ধন্যবাদ দেই না আমরা। আমরা তার শুকরিয়া আদায় করতে ভুলে যাই। আল্লাহ খাবারের দু’আর মধ্যে আমাদের অজান্তেই এ শুকরিয়া ভরে দিয়েছেন।

ঘুম থেকে উঠার দু’আ

হযরত বলেন, হুযুুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর শেখানো বিভিন্ন অবস্থার মাসনূন দু’আসমূহ শিখে নেয়া চাই। ঘুম থেকে উঠে পড়া-

اَلْحَمْدُ للهِ الّذِي أحْيَانَا بَعَدَ مَا أَمَاتَنَا وَإلَيْهِ النُّشُورُ

মুয়াশারাত। নারীদের সাথে উত্তম আচরণ

হযরত বলেন, কুরআন পাকে সূরা আলে ইমরানের বিখ্যাত আয়াত,

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ৩:৩১

‘বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে  আল্লাহও তোমাদেরকে ভালবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।’ আল্লাহ তা’আলা যেন শব্দ তুলে দিচ্ছেন রাসূলের মুখে। উলামায়ে কেরাম আমাদেরকে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে অনুসরণ করতে হবে পাঁচটি বিষয়ে। এক. আকীদা অর্থাৎ মৌলিক বিশ্বাস্য বিষয়। দুই. ইবাদত। তিন. ম্আুমালাত অর্থাৎ লেনদেন, কাজ-কারবার, হালাল রোজগার। চার. মুআশারাত অর্থাৎ মানুষের সাথে ব্যবহার। পাঁচ. আখলাক বা অভ্যন্তরীণ চরিত্র। সাধারণত সবাই দুই নম্বর শাখা ইবাদতের দিকে নজর দেয়। দাড়ি রাখে, টুপি পরে, পর্দা করে, নামায পড়ে, রোযা রাখে, হজ করে। কিন্তু কামাই- রোজগার হালাল আছে কিনা খেয়াল করে না। আর চার নম্বর শাখার প্রতি অবহেলা সবচেয়ে বেশি। স্ত্রীর সাথে ব্যবহার, সন্তানের সাথে ব্যবহার, পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে ব্যবহার। হযরত থানভী  রাহমাতুল্লাহি আলাইহি মুয়াশারাতের কথা বেশি বেশি বলতেন অর্থাৎ চারপাশের মানুষের সাথে আমাদের আচরণ কেমন? অন্তরের আমলের প্রধান উদাহরণ- নিয়ত। সব আমলের মগজ হচ্ছে পাঁচ নম্বর। আমি ভাল তুমি খারাপ, এটা অন্তরের রোগ।’

হযরত বলেন, কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা’আলা নারীদের সম্পর্কে অনেক কথা বলেছেন। সূরা নিসার আয়াত,

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا৪:১৯

‘নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন।’

হযরত বলেন, ‘এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আমি বললাম, এখানে  আল্লাহ যেন পুরুষদের সাথে মেয়েদের ভাল ব্যবহার করার জন্য সুপারিশ করেছেন। একজন আলেম বললেন, ‘আপনার ব্যাখ্যা আমার কাছে পছন্দ হয়নি। আল্লাহ  কেন মানুষকে সুপারিশ করতে যাবেন?’ তখন আমি করাচীর হযরত হাকীম আখতার সাহেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কথা নকল করলাম। জামাইকে শ্বশুর খুব ভাল মেহমানদারী করেন। উদ্দেশ্য, আমার মেয়েটা আপনার ঘরে। তার সাথে একটু ভাল ব্যবহার করবেন। সেই আলেম এবার আমার কথা শুনে বললেন, ‘এই ব্যাখ্যা এখন আমার কাছে ভাল লাগছে।’

শোকর আদায় কর যে, তুমি সুস্থ আছো     

একজন ডাক্তার সাহেবকে ফোন করা হল। তার বাসার সবাই অসুস্থ। হযরত বললেন, ‘আল−াহর শোকর আদায় কর যে, তুমি সুস্থ আছো। তুমিও যদি অসুস্থ হয়ে পড়তে তবে কেমন হত! হরদুঈ হযরত বলতেন, ‘সোচো! আওর বী বুরা হো সাকতা!’ কতবার যে হরদুঈ হযরতের মুখে এ কথা শুনেছি!’

বখশিশ

একদিন হোটেলের বিল পরিশোধ করার সময় ক্যাশিয়ার পঞ্চাশ টাকার নোট ফেরত দিল। হযরত বললেন, ‘না, ভাংতি দিন, হোটেল বয়কে বখশিশ দেবো।’ পরে হযরত আমাদের বললেন, ‘আমরা যারা টুপি পরি তারা সাধারণত হোটেল বয়দের বখশিশ দেই না। তারা মনে মনে ভাবে হুযুুররা কৃপণ।’

মাওলানাদের সাথে হাশর

একবার হযরত অসুস্থ ছিলেন। দেখতে গেলাম। বললাম, ‘রাজশাহী গিয়েছিলাম। পদ্মার পাড়ে আপনার মক্তব দেখে এসেছি।’ হযরত শুনে খুব খুশি হলেন। হেসে বললেন, ‘মক্তবের উস্তাদ ফোন দিয়েছিল। বলল, মাওলানা হেমায়েত সাহেব এসেছিলেন।’ হযরত আরও  বললেন, ‘আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে মাওলানাদের সাথে হাশর নসিব করুন।’ হযরতের কাছে সব সময়ই উলামায়ে কেরামের মর্যাদা সবার উপরে।

অসুস্থতার দু’আ

একবার হযরত অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তাকে দেখার জন্য গিয়েছি। হযরত এই দু’আটা পড়তে বললেন,

اَسْاَ لُ اللهَ الْعَظِيْمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ اَنْ يَّشْفِيَكَ

‘আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, যিনি আরশে আযীমের অধিপতি, যেন তিনি তোমাকে সুস্থতা দান করেন।’ হাদীস শরীফে এসেছে, এ দু’আর বরকতে দ্রুত সুস্থতা লাভ হয়।  মোবাইল ফোনে কেউ খোঁজখবর নিলে তাকেও এই দু’আ পড়ার জন্য বলতেন। একটু পর আযান হয়ে গেল। হাসপাতালে নামাযের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু হযরত আমাদেরকে কাছাকাছি কোন মসজিদের জামাতে হাজির হবার হুকুম দিলেন।

মক্তবের সাথে আছে আল্লাহ পাকের মদদ

একবার আমি (সংকলক) হযরতের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। কথা প্রসঙ্গে মক্তবের কথা উঠলো। বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় খ্রীষ্টান মিশনারীরা লোকজনদের ধর্মান্তরিত করছে। হযরত বললেন, ‘খ্রীষ্টানদের অপতৎপরতার বেলায় মক্তব হচ্ছে বুলেটের মত। খ্রীষ্টানদের আছে টাকার শক্তি। আর মক্তবের সাথে আছে কুরআন পাকের তালীম আর আল্লাহ পাকের মদদ।’

ওযু

হযরত বলেন, অযুর সময় কেউ যদি হাত পানিতে ভিজিয়ে চেহারা মুছতে থাকে, তবে তার অযুু হবে না। মাসআলা হচ্ছে, অযুর পানি চেহারায় গড়িয়ে পড়তে হবে। পানি একফোঁটা হলেও গড়িয়ে পড়তে হবে।

অপাত্রে খরচ

হযরত বলেন, ‘আমাদের বিক্রমপুরে এক এমপির ছোট ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এমপির ভাই গ্রামের একজন ব্যবসায়ী। বিয়েতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে। মানুষের কাছে টাকা আছে, অপাত্রে খরচ হচ্ছে। শুধুমাত্র যাদের উপর আল্লাহর খাস রহমত আছে, তারাই দ্বীনের কাজে খরচ করতে পারে।’

হজে যাবার দু’আ

এক ভাই এসে হযরতকে বললেন, ‘আমি হজে যেতে চাই।’ হযরত বললেন, এই দু’আ বেশি বেশি পড়বেন,

اللهم ارْزُقنِي حَجَّ بَيْتِكَ الْحَرام

‘হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার সম্মানিত ঘরের হজ করার করার তাওফীক দান করুন।’

সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত আর তিন কুল

সন্ধ্যার পর সূরা হাশরের শেষের তিন আয়াত পড়া হল। তিন কুল পড়া হল। হযরত বললেন, ‘সকাল সন্ধ্যায় এসব আমল করার জন্য হুযুুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন। এগুলো কুরআন শরীফের আয়াত। আর কুরআন পাক তিলাওয়াতের পর দু’আ কবুল হয়।’ এরপর সবাই মিলে দু’আ করা হল।

বিকৃত দরুদ

যারা সম্মিলিতভাবে মীলাদে দরূদ পড়ে, তারা সুর করে ‘মুহাম্মাদ’ পড়ে। ‘হা’ উচ্চারণে মদ করে। হযরত শাইখুল হাদীস আজীজুল হক রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে এটা শক্ত বেয়াদবী। কারণ এতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম বিকৃত হয়ে যায়।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মালফুযাত সংকলন-৬

মসজিদে আযান আর নামায

মসজিদে মাগরিবের পর হযরতের বয়ান শুরু হয়েছে। এশার আযানের কিছুক্ষণ পূর্বে বয়ান শেষ হল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন এসেছেন হযরতের বয়ান শোনার জন্য। হযরত বয়ান শেষ করেই বললেন, ‘যারা কাজে দূরে কোথাও যাবেন অথবা অন্য কোন মসজিদে নামায পড়বেন, তারা এখনই চলে যান। কেননা আযান হয়ে গেলে আদব হচ্ছে  সেই মসজিদেই নামায পড়ে নেয়া।’

পর্দা

একবার কনে দেখতে গিয়ে এক ছেলের বাবা হবু বউয়ের হাতে আংটি পরিয়েছেন। হযরত এই ঘটনায় বলেন, ‘যেহেতু এখনো বিয়ে হয়নি, ছেলের বাবা এই মেয়ের জন্য মাহরাম না। সুতরাং এটা কি করে জায়েয হতে পারে?’ অর্থাৎ ছেলের বাবার কাজটি ঠিক হয়নি। হবু বউয়ের সাথে এখনো পর্দা করতে হবে। বিয়ে হয়ে গেলে ভিন্ন কথা।

নেয়ামতের শোকর

একবার বিজলী চলে গেলে হযরত إِنَّا للهِ وَإنَّا إلَيهِ رَاجِعُونَ পড়লেন। তারপর বলেন, ‘এতক্ষণ বিজলী ছিল, তাই আল−াহ তা’আলার শোকর হিসাবে  الْحَمْدُ لِلَّهপড়া উচিত ছিল। আমরা নেয়ামত থাকতে শোকর আদায় করি না।’

জানাজার নামাযের সুন্নাত

হযরত বলেন, ‘আজ এক মসজিদে মাগরিবের নামায পড়েছি। ফরয নামাযের পর মাইকে জানাজার নামাযের ঘোষণা করা হল। বলা হল দু রাকাত সুন্নাত নামায পড়ে নেন। তারপর মসজিদের বাইরের খোলা চত্বরে জানাজার নামায পড়া হবে। আমরা জানাজার নামায পড়লাম। আজকাল হাজার হাজার মসজিদে জানাজার নামায হয় মসজিদের ভিতরে। আমি একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, কত বছর ধরে মসজিদের ভিতর জানাজার নামায পড়ছো, আজ কেন বাইরে পড়লে? বলা হল, ইমাম গাহেব বলেছেন, ‘আপনারা কি চান না, রাসূলের সুন্নাত জিন্দা হোক?

ঠেকায় মসজিদের ভিতর জানাজার নামায পড়া যায়। এটা জায়েয। কিন্তু উত্তম না।

অনেকে হয়তো বলবে মসজিদের ভিতর কাতারে দাঁড়িয়ে ছিলাম, এখন বাইরে যাও, জুতা নাও, আবার কাতার সোজা কর। কত সময় গেল! ঈদের জামাত ঈদগাহে পড়া সুন্নাত নাকি মসজিদে পড়া? বহু জায়গায় ঝগড়া হয়, মৌলবীরা খালি বাড়াবাড়ি করেন। আপনি কিসের জন্য জানাজার নামায পড়েন? যদি আল্লাহ’র সন্তুষ্টির জন্য পড়েন তবে তো রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী পড়তে হবে। ইসলামে এই বিষয়টা ঈষবধৎষু উবভরহবফ। নবী করীম  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

بَدَأَالْاِسْلَامُ غَرِيْبَا فَسَيَعُوْدُ كَمَابَدَأَ  فَطُوْبٰى لِلْغُرَ بَاءِ

هُمُ الَّذِيْنَ يُصْلِحُوْنَ مَااَفْسَدَ النَّاسَ مِنْ بَّعْدِ مِنْ سُنَّتِىْ

‘ইসলাম তার যাত্রা শুরু করেছে আগন্তুক হিসাবে। আবার শীঘ্রই আগের মত হয়ে যাবে। আগন্তুকদের জন্য খোশখবরী। এরা ঐ সকল লোক যারা আমার সুন্নাতগুলো মিটে যাবার পর আবার তা জিন্দা করে।’ এই মসজিদে কত হাই অফিসিয়াল নামায পড়ছে। কিন্তু জানাজার নামায মাঠে পড়তে হবে, এটা কেউ সংশোধন করতে আসে নাই।

কুরআন শুদ্ধ করে পড়া 

হযরত বলেন, ‘হরদুঈ হযরত রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বলতেন, ‘কুরআন শুদ্ধ করে পড়া সবচেয়ে বড় সুন্নাত’। অথচ আজ এই বিষয়ে আমাদের অবহেলার শেষ নেই। ‘মাকান বাড়হিয়া, পান বাড়হিয়া, নান বি বড়হিয়া, কুরআন ঘাটিয়া।’ অর্থাৎ, তোমার ঘর উত্তম, খাদ্য উত্তম, পানীয় উত্তম। কিন্তু কুরআন পড়া অনুত্তম।’

মসজিদে ঢোকার পাঁচটি সুন্নাত

হযরত বলেন, ‘মদীনা শরীফে একজন ছাত্র আমাকে দেখালেন মসজিদে নববীতে বাবুস সালাম দিয়ে ঢুকতে মসজিদে ঢোকার পাঁচটি সুন্নাত লেখা আছে। বিসমিল্লাহ পড়া, ডান পায়ে প্রবেশ করা, দরূদ শরীফ পড়া, মসজিদে ঢোকার দু’আ পড়া এবং ইতিকাফের নিয়ত করা।’

দুই চাকা

হযরত বলেন, ‘১৯৮০ সালে হজের সফরে একজন হাজী সাহেব (যিনি হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির খুব আর্থিক খেদমত করতেন) আর আমি মক্কা শরীফে হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির সাথে ছিলাম। হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি হরদুঈ হযরত এবং তার খলীফা হযরত হাকীম আখতার সাহেব দামাত বরাকাতুহুমকে বাংলাদেশে আসার দাওয়াত দিলেন। হরদুঈ হযরত তা কবুল করলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হাজী সাহেব মওকা পেয়ে নিজ থেকে বলে উঠলেন, ‘হুযুুর! আপনার এই মেহমানদের একজনকে ভারত, অন্যজনকে পাকিস্তান থেকে আনা নেয়ার সব খরচ আমি বহন করব।’ কাবা ঘর সামনে। কি অদ্ভুত খেদমতের সুযোগটা সেই হাজী গাহেব নিলেন। হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন- দ্বীনের গাড়ির দুইটি চাকা। এক. আলেমদের প্রচেষ্টা, অন্যটা পয়সাওয়ালাদের মাল।

সালাম

হযরত বলেন, ‘মক্কাশরীফে হরদুঈ হযরতের সাথে দেখা করতে গেলাম। সালাম আস্তে দিলাম। হরদুঈ হযরত বললেন, ‘নিকালিয়ে! দোবারা সালাম কারকে আইয়ে!’ সুতরাং ঘর থেকে বের হয়ে জোরে পরিষ্কারভাবে সালাম দিলাম। এবার হযরত ঘরে ঢোকার অনুমতি দিলেন।’

ছবি

হযরত বলেন, ‘সেদিন এক ছাত্র এসে বললেন, ‘হযরত! একটি দূর্লভ জিনিস সংগ্রহ করেছি। হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ছবি। আপনাকে দেখাতে চাই।’ আমি বললাম, এটাতো পুড়িয়ে ফেলা দরকার। ছবি তুলে সংরক্ষণ করা শরীয়ত অনুমোদিত নয়। তবে পাসপোর্ট বা অন্যান্য জরুরী প্রয়োজনে তোলা যেতে পারে।’

যুক্তি

হযরত বলেন, চামড়ার মোজা মাসেহ করতে পায়ের উপরের অংশে তিন আঙ্গুল দিয়ে মাসেহ করতে হবে। এটা শরীয়তের বিধান। কিন্তু যুক্তি দিয়ে বোঝানো যাবে না। বরং পায়ের নিচে মাসেহ করলে কিছু ধূলাবালি পরিষ্কার হত। ইসলামের সব হুকুম যুক্তির নিরিখে বিচার করা যাবে না।

তালিম

অফিসে কিভাবে তালিম করা যায় প্রশ্ন করাতে হযরত বললেন, এক মিনিটের মাদরাসা থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে পড়বে। বড়দের কথার মধ্যে নূর থাকে। এজন্য নিজ থেকে কথা না বলে, বড়দের কথা শুনিয়ে দেয়া ভাল।

কঙ্কর নিক্ষেপ

হযরত বলেন, ‘হজের সময় এক উচ্চ শিক্ষিত লোক তার স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন। নিজে কঙ্কর মারার পর ভীড়ের কারণে তার স্ত্রী কঙ্কর মারতে পারেননি। তাই তিনি স্ত্রীকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখে নিজে স্ত্রীর পক্ষ থেকে কঙ্কর মেরেছেন। আমাকে বলার পর আমি জবাব দিলাম, ‘আপনার কঙ্কর মারা হয়েছে, আপনার স্ত্রীরটা হয়নি।’ তিনি বললেন, ‘এটা কেমন কথা!’ আমার কথায় তিনি আশ্বস্ত হতে পারলেন না। তারপর আমি তাকে একজন বড় মুফতী সাহেবের কাছে নিয়ে গেলাম। মুফতী সাহেবও একই কথা বললেন। তখন তিনি বলে উঠলেন, ‘আপনারা মাওলানা সাহেবরা বেশি বাড়াবাড়ি করেন।’ দেখেন ইংরেজি শিক্ষিত দ্বীনদার লোকদের অন্তরে আলেমদের প্রতি কি প্রবল ঘৃণা! কচু পাতার পানি! একটু মনমত না হলেই আলেমদের প্রতি আমরা যারা ইংরেজি শিক্ষিত তাদের অবহেলা প্রকাশ পেয়ে যায়।’

নসিহত

সফরে যাওয়ার আগে হযরতের কাছে কিছু নসীহত চাইলাম। হযরত বললেন, সূরা আল আ’লা এর ১৬ ও ১৭ নম্বর আয়াতে আছে,

بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا    وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ

‘না, বরং তোমরা তো আখেরাতের জীবনের বদলে দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়েছো। অথচ আখেরাতই উৎকৃষ্টতর এবং স্থায়ী।’ আখেরাতের জীবন সামনে রাখলেই, আমাদের কি কি করা উচিত তা আমাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে। বেশি বেশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়বে।

বিয়ের উপহার

হযরত বলেন, মেহমানের উপর কোন আর্থিক বোঝা চাপানো ঠিক না। সুতরাং বিয়ের অনুষ্ঠানে উপহারের প্রত্যাশা করা ঠিক না।

ওসিয়ত

হযরত বলেন, লাশ গ্রামে নিয়ে দাফন করার অসিয়ত মানা জায়েয নেই। কারণ, যেখানে মৃত্যু হয়েছে সেখানেই দাফন করার কথা শরীয়তে বলা হয়েছে।

প্রচলিত মীলাদ

প্রচলিত মীলাদের ভুলসমূহ আলোচনা করতে গিয়ে হযরত বলেন, অনেকে মীলাদে রাসূলের আলোচনার সময় দাঁড়িয়ে যায় এবং আল্লাহ পাকের আলোচনার সময় বসে থাকে। সুতরাং, এটা তো আল্লাহ র সাথে বেয়াদবী।

ছবি 

হযরত বলেন, ‘আমরা এক ছেলের বিয়েতে শরীক হলাম। সেখানে ছবি তোলা হচ্ছিল। ছবি তোলার এক পর্যায়ে আমি বললাম, ছবি তোলা যাবে না। তারা খুব ক্ষেপে গেল। বলল, ‘কেন, আপনারা ‘পাসপোর্ট’-এর জন্য ছবি তোলেন না?’ আফসোস! সাধারণ লোক এটা বুঝতে অক্ষম যে, তীব্র প্রয়োজন ছাড়া শরীয়ত ছবি তোলার অনুমতি দেয় না।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

সফর এবংমাহফিলের সময়সূচি

২৪, ২৫শে জানুয়ারি – বগুড়া সফর

২৭শে জানুয়ারি – উত্তরা মাহফিল

২৯, ৩০শে জানুয়ারি – ধুবাউড়া সফর

১লা ফেব্রুয়ারি – শনিবার আজিমপুর মাহফিল

৩রা ফেব্রুয়ারি – সোমবার উত্তরা মাহফিল

৪ঠা ফেব্রুয়ারি – মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জ সফর

 

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মালফুযাত সংকলন-৫

 

রাহমানুর রাহীম

হযরত বলেন, আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ۗ وَكَانَ اللهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

২৫:৭০

‘কিন্তু যারা তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ  তাদের গোনাহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন এবং আল্লাহ  ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ এর উদাহরণ হল আমাদের মা। সন্তান যতই অন্যায় করুক, মায়ের সামনে গিয়ে মাফ চাইলেই মাফ। আর আল্লাহ  তা’আলা হচ্ছেন রাহমানুর রাহীম। মায়ের তুলনায় কোটি কোটি গুণ দয়ালু।

পুরনো কথা

হযরত বলেন, ‘আমি পুরোনো কথাই বারবার বলি। হরদুঈ হযরতও একই কথা বারবার বলতেন। আল্লাহ  তা’আলা কুরআনুল কারীমেও একই কথা বারবার আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ

৫১:৫৫

অর্থাৎ, ‘আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারকে উপকার করবে।’ ذَكِّرْ মানে হচ্ছে ‘Remind’। আর পুরোনো কথাকেই ‘Remind’ করানো হয়।’

আযানের জবাব

হযরত বলেন, ‘হরদুঈ হযরত বলতেন,  আযানের জবাব দেয়ার জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুব তাকীদ করতেন। মুয়াযযিন যখন আযান দেয়, তখন চুপ করে যত্নের সাথে শোন। আযানের জবাব দাও। জবাব দেওয়ার পর দরূদ শরীফ পড় । তারপর এই দু’আ পড়,

اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَاماً مَحْمُوداً الَّذِي وَعَدْتَهُ، إَنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ

তিনি এই প্রসঙ্গে বারবার একটা গল্প বলতেন। হাকীমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির গল্প। তিনি বলতেন যে, ঐ ব্যক্তি কি করবে, যে আযানের আগেই মসজিদে পৌঁছে গেছে, সামনের কাতারে বসে কুরআন পড়ছে? সে তো নামাযের জন্য এসেই পড়েছে। আবার ব্যস্ত হয়েছে সর্বোত্তম কাজে। আমি ফতোয়া দিচ্ছি না, আমার দিলে চায়, ঐ ব্যক্তি এখন কুরআন তিলাওয়াত বন্ধ করুক। আগে মুয়ায্যিনের আযানের জবাব দিক। আযানের জবাবের পর দরূদ এবং দু’আ পড়ুক। যদি সে পুনরায় কুরআন পড়া শুরু করে তবে তার এবারের পড়াটা নূরে ভরপুর হবে ইনশাআল্লাহ।

উলামারা নবীদের ওয়ারিশ

উলামায়ে কেরামের মর্যাদা সম্পর্কে হযরত বলেন, হুযুুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ألْعُلَمَاءُ وَرِثَةُ الاَنْبِيَاء – উলামারা সকল নবীর ওয়ারিশ। আমার ওয়ারিশ বলেন নাই। সকল নবীদের ওয়ারিশ বলেছেন। আলেমরা হচ্ছেন নবীদের ওয়ারিশ। তাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা যাবে না। ইংরেজি শিক্ষিত অনেক লোক নামায রোযা সকল ইবাদত করেন কিন্তু উলামাদের সাথে  মেশেন না। তাদেরকে ঘৃণা করেন। আল্লাহ  তা’আলা বলেন, وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِيْنَ – সাদেকীনদের সাথে থাক। সাদেকীন কারা? হক্কানী উলামায়ে কেরাম, যারা সুন্নাতের উপর আমল করেন, তারাই সাদেকীন।’

ক্রোধ

হযরত বলেন, ক্রোধে যে কাজ করা হয়, তা কখনোই ভাল হয় না। ক্রোধ হয়েছে অথচ আফসোস করা হয় নাই, এটা কখনোই হয় না।

গীবতের প্রতিকার

হযরত বলেন, গীবত হয়ে গেলে তার প্রতিকার হচ্ছে, যার গীবত করা হয়েছে তার কাছে মাফ চাওয়া। যদি মাফ চাওয়া সম্ভব না হয় তবে তার জন্য দু‘আ করা এবং সদকা করা।

অর্থই অনর্থ

হযরত বলেন, বড় লোকের অর্থ-ই অনেক ক্ষেত্রে অনর্থের মূল। ছেলেমেয়ের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে তারা অনেক গোনাহে লিপ্ত হয়ে যায়।

শোকরগুজারি

হযরত বলেন, ইসলামের প্রতিটি আমলই শোকরগুজারী শিক্ষা দেয়। যেমন- খানার শেষে দু’আ, টয়লেট থেকে বের হবার পর দু’আ।

ইকামতের জবাব

হযরত বলেন, আমরা অনেকেই আযানের জবাব দেই ইকামতের জবাব দেই না। ইকামতের জবাব দিতে হবে। ইকামতের জবাব আযানের জবাবের মতই। তবে قَدْ قَامَتِ الصَّلَاة এর জবাবে বলতে হবে اَقَامَهَا اللهُ وَأدَامَهَا।

মূল সমস্যা অন্তরের অহংকার

হযরত বলেন, ‘অনেক হাজী সাহেব ও নামাযীদের মেয়ে-বউ বেপর্দায় থাকে। তারা তাদেরকে কিছুই বলেন না। মূল দুর্বলতা মনের মধ্যে। ফেরেশতাদের পরিবেশে থেকেও শয়তান আল্লাহ হুকুমকে অমান্য করেছে। তার মূল সমস্যা ছিল অন্তরের অহঙ্কার। তাই মনের মধ্যে আলো জ্বালাতে হবে। ঈমানের কথা বারবার শোনার এবং বলার দ্বারা এটা আসবে। এজন্যই কুরআনে পাকে বলা হয়েছে,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ

৫১:৫৫

‘আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারকে উপকার করবে।

–হযরতের মালফুযাত  সংকলন   ‘আত্মশুদ্ধির পাথেয়  ‘  হতে সংগৃহীত

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মালফুযাত সংকলন-৪

অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখার সুন্নত

হযরত বলেন, ‘আমাদের আত্মীয়-স্বজন অসুস্থ হলে আমরা তাদেরকে দেখতে যাই। দল বেঁধে যাই। কিন্তু গিয়ে সুন্নাত অনুযায়ী আমল করি না। হরদুঈ হযরত বলতেন, রোগী দেখতে যাওয়া খুব ভাল। আল্লাহ আপনাকে ভাল করে দিন, এটা বলাও ভাল। কিন্তু পাশাপাশি দেখতে হবে রাসূল (সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাজটা কিভাবে করেছেন। তা হল রোগীকে দেখে  اَسْاَ لُ اللهَ الْعَظِيْمَ رَبَّ الْعَرْشِِ الْعَظِيْمِ اَنْ يَّشْفِيَكَ  (আমি মহান আল্লাহ  নিকট প্রার্থনা করছি যিনি আরশে আযীমের অধিপতি যেন তিনি তোমাকে সুস্থতা দান করেন) এই দু’আ সাতবার পড়া।’

আল্লাহর পথে আগে বাড়ার জন্য পাঁচটি কাজ

হযরত বলেন, ‘হরদুঈ হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, পাঁচটি কাজ করলে সে আল্লাহর পথে আগে বাড়তে পারবে ইনশাআল্লাহ । এক. সোহবতে উলামা। দুই. কম কথা বলা। তিন. কম মেলামেশা করা। চার.  মোরাকাবা মোহাসাবা। পাঁচ. ইস্তিগফার।

দ্বীনী মাহফিলে খাবারের আয়োজন

হযরত বলেন, হরদুঈ হযরত কোনো বাসায় মাহফিল হলে সাধারণত সেখানে খেতেন না। এই খাবারের আয়োজন করতে গিয়ে বাসায় বাসায় মাহফিল হয় না। অদ্ভুত আমল ছিল তার। বলতেন, ‘কেন খাবারের ব্যবস্থা করেছো? আমাকে আগে বলেছিলে? আমাকে দাওয়াত দিয়েছিলে?’

লোহার বুট

এক সালেক ইবাদতে আনন্দ অনুভূত হয় না বলাতে হযরত বলেন, ‘লোহার বুট চিবাতে হবে। কোথাও বলা নেই, ইবাদতে আনন্দ অনুভব হলে সওয়াব হবে।’

দস্তরখানে ভিখারীর মত বসা

হযরতের খেদমতে হাজির হলাম। কিছু কথাবার্তা হচ্ছিলো। নাস্তা খাওয়ার দস্তরখান বিছানো হল। লোকজন দস্তরখানের আশেপাশে   ইতস্তত বসে ছিল। হযরত বলেন, ‘তোমরা এভাবে বসে আছো কেন? দস্তরখানে ভিখারীর মত বস।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

আজ মগবাজারে বাদ ই’শা হযরতের মাহফিল

আজ ১লা নভেম্বর বাদ  ই’শা মগবাজার ওয়্যারলেস রেইলগেটের কাছে অবস্থিত বিটিসিএল অফিসার্স কোয়ার্টারে মাহফিল। প্রফেসর হযরত দামাত বারাকুতুহুম তশরিফ আনবেন ইনশাআল্লাহ্‌ । যোগাযোগ ঃ ইঞ্জিনিয়ার শাহনেওয়াজ ভাই (০১৫৫০১৫১৩৩১)।

Facebooktwitterpinterestmailby feather