Category Archives: Discourses (Bangla)

মালফুযাত সংকলন – ২

আমাদের আদর্শ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এবং তাঁর সাহাবিরা

হযরত বলেন, সৌদি আরবের অনেক লোক টাখনুর নীচে কাপড় পরে, কেউ কেউ দাড়ি ছোট করে ফেলে ইত্যাদি অনেক অভিযোগ হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহির কাছে বলা হত। জবাবে তিনি বলতেন, ‘আরবের লোকেরা আমাদের আদর্শ নন। আমাদের আদর্শ তো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরাম। সুতরাং আমরা তো সাহাবায়ে কেরামদের অনুসরণ করব।

গরিব আলেমের দরবারে

একজন বড় শিল্পপতি আসলেন হযরতের সাথে দেখা করতে। হযরত তাকে স্বাগত জানিয়ে বললেন, ‘আমি একবার বুয়েটের ভিসি সাহেবকে নিয়ে হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে গেলাম। তিনি একটি আরবী কবিতা বললেন, যার অর্থ হল-‘কতই না উত্তম সেই আমীর যে নিজের আমীরত্বকে মিটিয়ে গরীব আলেমের দরবারে আসে।’

‘পুলিশ নাইক্কা’

হযরত বলেন, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির দাওয়াতে হরদুঈ হযরত রহমাতুল্লাহি  আলাইহি ১৯৮১ সনে বাংলাদেশ সফরে আসলেন।  প্রথম দিন আমি হযরতকে নিয়ে প্রাইভেট কারে লালবাগ যাচ্ছিলাম। রাত সাড়ে নয়টা। আজিমপুর গোরস্থানের কাছে চৌরাস্তার ট্রাফিক সিগনালে লাল বাতি জ্বলে আছে। ড্রাইভার এদিক-ওদিক দেখে লাল সিগনালের মধ্যেই গাড়ি চালিয়ে দিল। হরদুঈ হযরত বলে উঠলেন, ‘আরে ভাই! লাল বাত্তি হায়, রোখতে নেহি।’ ড্রাইভার বলল, ‘পুলিশ নাইক্কা।’ ড্রাইভারের কথা হল, পুলিশ নেই, ধরবে কে? হযরত বাংলা জানতেন না। আমি উর্দূতে ব্যাখ্যা করলাম। হযরত নীরব হয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পর বলে উঠলেন, ‘হাঁ ভাই! ইসি লিয়ে কাহা জাতা হায়, ইলম কাফি নেহি, তাকওয়া চাহিয়ে।’ অর্থাৎ, হ্যাঁ ভাই, এজন্য বলা হয় যে, ইলম যথেষ্ট নয়, তাকওয়া চাই। এই কথাটা আলেমদের জন্য হাদিয়া দিলাম। বাংলাদেশে হযরতের প্রথম রাতের বিখ্যাত কথা। ইলম যথেষ্ট নয়, আল্লাহর ভয় চাই।’

সালাম

হযরত বলেন, ‘১৯৮০ থেকে ২০০৪ সাল এই চব্বিশ বছর পর্যন্ত হরদুঈ হযরতকে আমরা বাংলাদেশে পেয়েছি। সবসময় সালাম সম্পর্কে বলতেন। সালাম রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অতি প্রিয় একটি সুন্নাত। মদীনা শরীফে হিজরতের পরে প্রথম ভাষণে বললেন, أَفْشُوا السَّلَامْ , সালামের বহুল প্রচার কর। সমাজে প্রচলিত হয়ে গেছে- স্লামালাইকুম। বলতে হবে, আসসালামু আলাইকুম। এর প্রথম অক্ষর আলিফের উপর যবর। আমরা ছোট বেলায় পড়েছি আলিফ, বে, তে, ছে। উলামায়ে কেরাম বলেন, আলিফ, বা, তা, ছা। আলিফের উপর যবর, যের, পেশ হলে এটা হয়ে যায় হামযাহ। আলিফের উপর যবর দিলে পড়তে হবে হামযাহ যবর আ।’

সুন্নত তরিকায় নামায

হযরত বলেন, হরদুঈতে বছরের প্রত্যেক দিনই নামাযের পর রুকুতে যাওয়া শেখানো হয়। সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু মাটিতে লাগার পূর্ব পর্যন্ত কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত সোজা থাকবে। রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ওয়াজিব। দুই সেজদার মাঝে স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব।

‘গাড়ি লেকে জান্নাত মে নেহিঁ জাওগি’

হযরত বলেন, ধানমন্ডিতে হাজী হাবীব সাহেবের বাসায় একবার আমরা হরদুঈ হযরতের খেদমতে ছিলাম। নামাযের ওয়াক্ত হল। মসজিদ কিছুটা দূরে হওয়ায় ঘরেই জামাত করে নামায পড়বার প্রস্তুতি চলছিল। হযরত জিজ্ঞেস করলেন যে, গাড়ী নিয়ে মসজিদে যেতে কতক্ষণ লাগবে? বলা হল, দুই-তিন মিনিট। হরদুঈ হযরত বললেন, ‘গাড়ি লেকে জান্নাত মে নেহিঁ জাওগি?’ অর্থাৎ গাড়ি নিয়ে দুনিয়ার সবকাজে যেতে পারো। আর দুনিয়ায় জান্নাতের বাগিচা মসজিদে জামাতে যেতে চাও না!

হরদুই হযরতের সুন্নতের পাবন্দি

হযরত বলেন, হরদুঈ হযরত ছিলেন সুন্নাতের সাচ্চা আশেক। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে হযরতের শেষ সফরে তিনি এত দূর্বল ছিলেন যে, উঠে বসতেও পারতেন না। এজন্য গাড়ির পেছনে চৌকি রেখে হযরতকে শোয়ানো অবস্থায় সফর করানো হত। একবার একজন খাদেম ভুলে আগে ডান পা থেকে জুতা খুলে ফেলে। হযরত বললেন, ‘আহ্! কে সুন্নাতের খেলাফে ডান পায়ের জুতা আগে খুললো?’ হযরতের নির্দেশে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পুনরায় জুতা পরানো হল। আবার গাড়িতে উঠানো হল এবং সুন্নাত অনুযায়ী আগে বাম পা থেকে জুতা খোলা হল। একটি সুন্নাতের উপর আমল করার জন্য তিনি এই অকল্পনীয় তাকলীফ বরদাশত করলেন।

‘সালাম ঠিকসে দি জিয়ে। হামযা না ছোটে’

হযরত বলেন, আমরা একবার হযরতের সঙ্গে দেখা করার জন্য হরদুঈ গেলাম। হরদুঈ হযরত অসুস্থ ছিলেন। ঘরের বাইরে বার-তের বছরের একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। হযরতের সাথে যারাই দেখা করতে যাচ্ছে তাদেরকেই সে বলছে, ‘সালাম ঠিকসে দি জিয়ে। হামযা না ছোটে।’ রোগীর জন্য এই দু’আ পড়বেন,

اَسْاَ لُ اللهَ الْعَظِيْمَ رَبَّ الْعَرْشِِ الْعَظِيْمِ اَنْ يَّشْفِيَكَ

‘আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যিনি আরশে আযীমের অধিপতি যেন তিনি তোমাকে সুস্থতা দান করেন।’

  • ‘আত্মশুদ্ধির পাথেয়’  বইটি হতে সংগৃহীত
Facebooktwitterpinterestmailby feather

মালফুযাত সংকলন-১

১) হযরত নিজের কথা বলতে গিয়ে বলেন, একদিন হযরত মুমিনুল্লাহ সাহেব দামাত বারাকাতুহুম আমাকে বললেন, ‘আজ আপনি হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহির জুতা উঠাবেন।’ আমি জুতা উঠাতেই হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি মুমিনুল্লাহ সাহেবকে  বলে উঠলেন, ‘উনি আমার জুতা ধরলেন কেন?’ হযরত  মুমিনুল্লাহ  সাহেব দামাত বারাকাতুহুম বললেন ‘হুযুুর, উনি আপনাকে খুব মহব্বত করেন। দয়া করে খেদমতের অনুমতি দিন।’ এভাবেই হযরত মুমিনুল্লাহ  সাহেব দামাত বারাকাতুহুম আমাকে হযরত হাফেজ্জী হুযুুর  রহমাতুল্লাহি  আলাইহির সাথে জুড়ে দিলেন।

২) একজন ইংরেজি শিক্ষিত ভদ্রলোক ইমাম গাযালী রহমাতুল্লাহি  আলাইহির কিতাবাদি পড়ে দ্বীনের পথে অগ্রসর হয়েছেন। তিনি হযরতকে বিষয়টি জানালেন। হযরত বললেন, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বলতেন, দ্বীনের তলব সৃষ্টি করা এবং দ্বীন সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য ইমাম গায্যালী রহমাতুল্লাহি  আলাইহি এর কিতাব পড়া ঠিক আছে। কিন্তু তা দেখে আমল করা যাবে না। আমল করতে হবে একজন সমসাময়িক আল্লাহওয়ালাকে দেখে, তার পরামর্শ অনুযায়ী।’

৩)  হযরতকে জিজ্ঞেস কর হলো, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি কোন দরূদ শরীফ পড়তেন?’ হযরত বললেন, ‘বড় দরূদের মধ্যে দরূদে ইবরাহীম পড়তেন। ছোট দরূদের মধ্যে পড়তেন,

اللهم صَلِّ عَلي سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَ عَلَي اَلِ سَيِّدِ نَا مُحَمَّدٍ وَ بَارِكْ وَ سَلِّمْ

৪) হযরত বলেন, মাওলানা ফজলুল হক আমিনী রহমাতুল্লাহি  আলাইহি ছিলেন হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহির এক হাত। শাইখুল হাদীস মাওলানা আবদুল আজিজুল হক সাহেব ছিলেন হযরতের অন্য হাত। একবার এ দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে গেল। শাইখুল হাদীস রহমাতুল্লাহি আলাইহি লালবাগ থেকে চলে আসলেন। মোহাম্মদপুর এসে মুহাম্মাদিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করলেন। হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, ‘শয়তান বেশি সুবিধা করতে পারে নাই। আরেকটা মাদরাসা হয়ে গেল।’

৫) হযরতকে কেউ একজন জিজ্ঞেস করল, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি   আলাইহি তার অবিরাম যিকিরের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি কী যিকির করতেন?’ হযরত বললেন, ‘হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বেশিরভাগ সময় কুরআন পড়তেন।’

৬) হযরত বলেন, বিদআত থেকে বাঁচার একটিই উপায় হক্কানী উলামায়ে কেরামের সাথে সম্পর্ক রেখে চলা। এটা সব রোগের ঔষধ। হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি  আলাইহি এবং হরদুঈ রহমাতুল্লাহি  আলাইহি বারবার একই কথা বলতেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

৯:১১৯

‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সাদেকীনদের সাথে থাক।’ এই সাদেকীন কারা?  আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে যারা গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন, তারাই সাদেকীন। আমাদের সৌভাগ্যের প্রবেশ দ্বার খাঁটি আলেমের সাথে সম্পর্ক রেখে চলা। যে আজাদীর সাথে চলতে চাইবে, অপরিপক্ক জ্ঞান নিয়ে সে বিপদে পড়বে।

*’আত্মশুদ্ধির পাথেয়’ – বইটি থেকে সংকলিত

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হায়াতুল মুসলিমীন

হযরত বলেন, আমি হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির খাদেম ছিলাম তের বছর। হযরতের কাছে হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ‘হায়াতুল মুসলিমীন’ কিতাবের কথা বহুবার শুনেছি। হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির মৃত্যুর পর হরদুঈ হযরত আবরারুল হক সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে গেলাম। সেখানেও দেখলাম নিয়মিত এই কিতাবের তালীম হচ্ছে। কিতাবটা আপনাদের সবার বাড়িতে রাখবেন। একথা বলবেন না যে, পড়েছি বা পড়ে রেখে দিয়েছি। বরং বারবার দেখেন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিকতর সুন্দর হতে পারে, যে কিনা আল্লাহর দিকে ডাকে।

এক মজলিসে হযরত বলেন, ‘এখন দ্বীনের কিছু কথা আলোচনা হবে। এটা অত্যন্ত দামী কাজ। বাহ্যিক কোনো আমল করা হচ্ছে না। কথা বলা হচ্ছে এবং শোনা হচ্ছে। এসময় কোনো নফল ইবাদত, নফল তিলাওয়াত এই আমলের চেয়ে বড় না। আমাদের আমলসমূহ কেমন করে ভাল হবে? এজন্য এই আলোচনাগুলো অত্যন্ত দামী। এটা দিলের খোরাক।

এখানে কথা বলা ও শোনাই আসল। পয়সা খরচের জায়গা এটা না। এটাই মূল। কুরআন মজিদের বিখ্যাত আয়াত,

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا

وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ৪১:৩৩

‘ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিকতর সুন্দর হতে পারে, যে কিনা আল্লাহর দিকে ডাকে।’

অর্থাৎ কুরআন মাজীদে আল্লাহ্‌র দিকে ডাকার জন্য যে কথা বলা হয়, সেকথা মুখের সবচাইতে বড় কথা, সবচাইতে বড় কাজ বলে অভিহিত করেছেন। কথা বিভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে। যেমন আযান। হযরত যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি, যিনি এই জামানায় অনেক বড় আলেম, আল্লাহ্‌র ওলী ছিলেন। তিনি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহর দিকে ডাকে মুয়াযযিন। একই কথা প্রতিদিন। মূল কথা حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ – নামাযের জন্য আস। আগে পরে অনেক ভুমিকা আছে। মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর কোনো শরীক নেই। মনে করিয়ে দেয়, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। তারপর বলে, حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ। এরপর উপসংহার, সত্যিকারের কামিয়াবী চাইলে মসজিদে আস। নামায হচ্ছে সবচেয়ে বড় কামিয়াবীর কাজ। উভয় জাহানের কামিয়াবী। সর্বাঙ্গীন সফলতা। কোনো নতুনত্ব নেই। প্রতিদিন একই কথা।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

শায়খে কাবীর

হযরত বলেন, মক্কা শরীফে হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি এশরাকের নামাযের পরও দেড়-দুই ঘণ্টা নফল নামায পড়তেন। সালাম ফিরিয়ে বলতেন, ‘আমার পিয়াস লাগছে।’ হযরত পিপাসা শব্দটি জানতেন না। আমি পেছনে বসে থাকতাম। ফল, সেভেনআপ এগিয়ে দিতাম। একবার চিন্তা করলাম, হযরতের এক রুকুই যখন পনেরো মিনিট;এর মধ্যে ফল কিনে ফিরে আসা যাবে। ফল কিনে যখন মসজিদে ঢুকতে গেলাম, দারওয়ান বাধা দিল। আমি বললাম, هَذَا لِشَيْخٍ كَبِيْرٍ جِدًا। দারোয়ান বলে উঠলো, رُحْৃ. اللهُ كَبِيْرٌ। অর্থাৎ, তুমি একজন শায়েখকে কাবীর (كَبِيْرٌ, বড়) বলছো কেন? আল্লাহ সবচেয়ে বড়। দেখেন! শিরকের বিষয়ে আরবরা কত আপোষহীন। এই লোকের জানা ছিল না যে, মানুষের সাথে কাবীর শব্দটি ব্যবহার করা যায়। কুরআনে এর ব্যবহার রয়েছে।

قَالُوا يَا أَيُّهَا الْعَزِيزُ إِنَّ لَهُ أَبًا شَيْخًا كَبِيرًا

‘তারা বলতে লাগল, হে আযীয, তার পিতা আছেন, যিনি খুবই বৃদ্ধ বয়স্ক।’

১২:৭৭

Facebooktwitterpinterestmailby feather

সন্তানের দ্বীনি শিক্ষা

এক কলেজের প্রিন্সিপাল হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতল্লাহি আলাইহির কাছে বাইআত ছিলেন। প্রিন্সিপাল গাহেবর ছেলে এবং ছেলের বউ দু’জনই চাকুরী করতেন। ছেলের বউ লন্ডনে দেড় বছরের একটি স্কলারশীপ পেলে তিনি আমাকে বললেন, ‘আমার পুত্রবধূ মাহরাম সাথে না নিয়ে একাকী লন্ডনে থাকবে, এটা আমি কখনোই মেনে নেব না। তাকে আমি হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে নিয়ে গেলাম। হযরত জিজ্ঞেস করলেন, ‘নাতি-নাতনী ক’জন?’ বলা হল, দুই ছেলে এক মেয়ে। হযরত বললেন, ‘সবর করেন। ছেলেকে দ্বীনি শিক্ষা দেন নাই কেন? এখন ভোগেন।’ আমার শোনা হযরতের মুখে এটাই সবচেয়ে কঠিন কথা। হযরত বললেন, ‘নাতি নাতনীদের দ্বীনি শিক্ষা দেন।’ আলহামদুলিল্লাহ পরবর্তী পর্যায়ে সেই ছেলের বউ দ্বীনদার হয়েছে। একই কথা আমি তাকে বলেছিলাম কিন্তু ফল হয় নাই। বড়দের মুখের কথার তাছীর আলাদা।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুুর আর আবরারুল হক হুজুরের নসিহত

হযরত বলেন, হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বারবার এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন,

وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ

مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ২:২৮১

‘ঐ দিনকে ভয় কর যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোনরূপ অবিচার করা হবে না।’ আখেরাতের অর্জন হচ্ছে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি কাজ যেভাবে করেছেন, হুবহু সেটা অনুসরণ করা।

হরদুঈ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই আয়াতটি বেশি বেশি পড়তেন,

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ ৫১:৫৫

‘আপনি মনে করিয়ে দিন। মনে করিয়ে দেয়া অবশ্যই ঈমানদারকে উপকার করবে।’ আল্লাহ তা’আলা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেন, মনে করিয়ে দিলে বান্দার উপকার হবেই। কি মনে করিয়ে দিবে? হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তরীকার কথা মনে করিয়ে দিন। পুরোনো কথাই আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিন।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির বিনয়

হযরত বলেন, হযরত হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির বিনয় ছিল অকল্পনীয়। খুব কম কথা বলতেন। বেশিরভাগ সময় হয় নামায, তিলাওয়াত অথবা যিকির করতেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছে হাফেজ্জী হুযুুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির খাদেম হয়ে তার জুতা নিয়ে ঘোরার। একটু সময় পেলেই হযরত নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নামায পড়তে চাইলে বলতেন, ‘জায়নামাযটা আছে নি?’ খাদেমের কাছে জায়নামায সবসময়ই থাকত। তবুও এটা বলতেন না ‘জায়নামাযটা দেন!’ কখনোই সরাসরি নির্দেশ দিতেন না। তাবলীগের ভাইয়েরা যেমন বলেন, যার যার ডাইনে চলি ভাই। কথাটা সরাসরি না বলে একটু ঘুরিয়ে বলেন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather