Category Archives: Discourses (Bangla)

আরবি উচ্চারণ

হযরত বলেন, ‘আমাদের বেশীর ভাগ ইংরেজি শিক্ষিত লোকের আযীম (اَلْعَظِيْمُ) উচ্চারণ সহীহ হয় না। বিসমিল্লাহীর রাহমানীর রাহীম বলার সময় বিসমিল্লাহ-এর লাম-এর উচ্চারণ বারিক বা (পাতলা) হবে।  অন্যদিকে আল্লাহ শব্দ উচ্চারণ করার সময় লাম-এর উচ্চারণ পুর (মোটা) করে পড়তে হবে।’

Facebooktwitterpinterestmailby feather

গলদ আকিদা আর তার প্রতিকার

হযরত বলেন, হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং হরদুই হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি দুজনই বার বার বলতেন, খাঁটি হক্কানী উলামায়ে কেরামের সাথে থাক। তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করো। গলদ আকিদা সর্বনাশের জিনিস। আমলের কমি অত নিন্দনীয় না। গলদ আকিদা সর্বনাশের মূল কারণ। এখন জায়গায় জায়গায় মকতব প্রতিষ্ঠা করে খাটি আল্লাহ্‌ ওয়ালা ওস্তাদ দিয়ে সেগুলো চালানো খুব প্রয়োজন। যে শিশু ছোটবেলায় আকীদার মৌলিক জিনিসগুলো শিখবে, সে ইনশাআল্লাহ গলদ আকিদার পাল্লায় পড়বে না।

অজ্ঞতার রোগ বাহ্যিক পিটাপিটি করলে যাবে না। কাকরাইলের মুরুব্বি হাজি আব্দুল মুকিত সাহেব বার বার বলতেন, ‘অন্ধকার ঘরে লাঠি পেটালে অন্ধকার দূর হবে না। একটা ছোট মোমবাতি জ্বালাও।’ আল্লাহ্‌র দ্বিনের মৌলিক কাজঃ এক নম্বরে ফুরকানিয়া মকতব প্রতিষ্ঠা করা। আর দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে, জায়গায় জায়গায় দ্বীনি কথাবার্তার মজলিস চালু করা। ক্লাবে, মাঠে, স্কুলে, মাদরাসায়, ছোট ছোট মজলিসে খাঁটি উলামায়ে কেরামের নসিহত মানুষকে শোনানো দরকার।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

আহবান শুনেছি, ঈমান এনেছি

হযরত বলেন, আজকে ক্কারী সাহেব ফজরের নামাযে কুরআন মাজীদের এক অপূর্ব জায়গা তিলাওয়াত করেছেনঃ

رَبَّنَاۤ اِنَّنَا سَمِعۡنَا مُنَادِيًا يُّنَادِىۡ لِلۡاِيۡمَانِ اَنۡ اٰمِنُوۡا بِرَبِّكُمۡ فَاٰمَنَّا

হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা এক আহবায়ককে ঈমানের দিকে আহবান করতে শুনেছি, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন।’ সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি।

অদ্ভুত কথা! আমরা এটাকে যাচাই বাছাই করতে যাইনি। আহবান শুনেই ঈমান এনেছি। সবাই স্বীকার করে যে, একজন প্রতিপালক আছেন। যারা আল্লাহ্‌কে বিশ্বাস করে না, তারাও স্বীকার করতে বাধ্য।

তুমি বাতাস থেকে যে অক্সিজেন নিচ্ছ, তা এই বাতাসের মধ্যে কে ভরে দিলেন? বিজ্ঞানীরা বলেন যে, আমাদের চারদিকে যে বাতাস, এটা একটা মিশ্রণ। বাতাস কোনো যৌগিক পদার্থ নয়। এই মিশ্রণের শতকরা ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন গ্যাস, ২১ ভাগ অক্সিজেন, ০.৯ ভাগ আর্গন। ১০০ ভাগের মধ্যে ৯৯.৯ ভাগ গেল, বাকি  থাকে ০.১ ভাগ। তার মধ্যে রয়েছে অন্যান্য গ্যাস। সারা দুনিয়া জুড়ে বাতাসে অক্সিজেন আছে। যদি এমন হতো –  বাংলাদেশ অক্সিজেনের পরিমাণ শতকরা ১৭ ভাগ,  আর আমেরিকাতে ২১ ভাগ। ডাক্তারগণ বলেন যে, তাহলে শ্বাস নিতে কষ্ট হতো। বাতাস একটা মিশ্রণ হলেও সারা দুনিয়ায় এই মিশ্রণের অনুপাত একই রকম। যদি আপনাদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনির সরবত বানাতে দেওয়া হয়, তাহলে সরবতে চিনির পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য হবে কি হবে না? বাতাসের মিশ্রণ সারা দুনিয়া জুড়ে এক। এটা কোনো মানুষের কাজ নয়, মহান প্রতিপালকের অনুগ্রহ।

'প্রফেসর হযরতের মালফুযাত '- হতে সংগৃহীত
Photo credit:  Ali Arif Soydaş on Unsplash
Facebooktwitterpinterestmailby feather

আমি কিভাবে আল্লাহর শোকর আদায় করব

হযরত বলেন, শাইখুল হাদিস আল্লামা হযরত আযিযুল হক সাহেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, ‘আমি কিভাবে আল্লাহ্‌র শোকর আদায় করব যে, আমার মেয়েগুলো সবাই আল্লাহ্‌ পাকের কালামের সাথে এত মহব্বত রাখে! আমার আটজন মেয়ে, সবাই কুরআনের পাগল।’ শাইখুল হাদিস রাহমাতুল্লাহি আলাইহির পরিবারের মেয়েরা, নাতি নাতনি সবাই হাফেজ-হাফেজা। পুরো পরিবারে এক অদ্ভুত ফুল বাগানের দৃশ্য।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

পুরনো মানুষদের নিয়েই মাহফিল করো

হযরত বলেন, ঘরোয়া মাহফিলে আমরা একই চেহারা বার বার দেখি। সচরাচর যারা পরিচিত, তারাই আসে। আমরা বলি, ‘মাহফিলে নতুন লোক আসেনা।’ অসুবিধা নেই। সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ বলেন

إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ

‘আপনি কেবল তাদের সতর্ক করুন যারা নসিহত অনুসরণ করে।’

নসিহত অনুসরণ করে কারা? পুরনো মানুষেরাই তো। তাদের নিয়েই মাহফিল করো।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

কুরআন হেফয-১

হযরত বলেন, ‘হেফয ছাড়া কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের মজা পাওয়া কঠিন। আমি বলি, হেফয না করলে কুরআন স্বাভাবিকভাবে তিলাওয়াতও করা যায়না। আমরা যখন কুরআন পড়ি, তখন নাতিরা বলে উঠে, ‘নানা! এখানে ভুল হয়েছে।’ হেফযের পর তাকে আলেমও হতে হবে। তবেই সে কুরআনের আসল স্বাদ পাবে। একদিন একটা কাজে ব্যাংকে গিয়েছি। ব্যাংকের ম্যানেজার সাহেবের সাথে কথা হচ্ছে। যখন তিনি জানলেন যে, আমি আমার সন্তানদের হাফেজ বানিয়েছি, তখন বলে উঠলেন, ‘কেন আপনি ছেলেমেয়েদের সময় নষ্ট করলেন?’ অথচ কুরআন মুখস্থ না থাকলে কুরআনের আয়াত পরম্পরায় সম্পর্ক ও অর্থ বুঝে আসবে না।’

  • ‘প্রফেসর হযরতের মালফুযাত’ – বই থেকে সংগৃহিত
Facebooktwitterpinterestmailby feather

বিশ্বাস ও প্রত্যয়

وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُوۡقِنُوۡنَؕ‏
‘আখিরাতের উপর তাদের বিশ্বাস মজবুত।‘। হযরত মুফতী শফী (রহঃ) বলেন, এটি কুরআন শরীফের প্রথম পাতার আয়াত। ডান দিকে সূরা ফাতিহা, বাম দিকে সূরা বাকারা। আল্লাহ্‌ তাআলা বলছেন,
الَّذِيۡنَ يُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡغَيۡبِ وَ يُقِيۡمُوۡنَ الصَّلٰوةَ وَمِمَّا رَزَقۡنٰهُمۡ يُنۡفِقُوۡنَۙ‏ ﴿﴾ وَالَّذِيۡنَ يُؤۡمِنُوۡنَ بِمَۤا اُنۡزِلَ اِلَيۡكَ وَمَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِكَۚ وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُوۡقِنُوۡنَؕ‏
‘যারা ঈমান আনে গায়ীবের উপরে, যারা নামায কায়েম করে, আর আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি সেখান থেকে যারা তাদের মাল খরচ করে। যারা ঈমান আনে তাতে, যা আপনার উপর নাযিল হয়েছে এবং আপনার আগে যা নাযিল হয়েছে। আর আখিরাতকে যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে।‘

মানে পূর্ববর্তী সব নবীদের উপরে আমাদের ঈমান। এখানে শেষ কথা হলো, আখিরাতের উপর তাদের বিশ্বাস মজবুত। হযরত মুফতি শফি (রহঃ) বলেন, এখানে আল্লাহ্‌ বলেননি, وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُؤۡمِنُوۡنَ । তিনি বলেছেন, وَبِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُوۡقِنُوۡنَ । এখন এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য কী? يُؤۡمِنُوۡنَ শব্দ ব্যবহার করলে অর্থ হতো, আখিরাতের উপর বিশ্বাস করে আর يُوۡقِنُوۡنَ মানে দৃঢ়ভাবে মজবুত ভাবে, চরমভাবে বিশ্বাস করে। যেন এটি একটি প্রত্যয়। আমি যেন চোখে দেখছি। এরকম ভাবে আখিরাতে উপর বিশ্বাস করা তাঁরা। এই বিশ্বাস সাহাবীদের ছিলো। হযরত আলী(রাযিয়াল্লাহুতাআলা আনহু) বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূলের কাছে শুনে শুনে আখিরাতের উপর বিশ্বাস আলহামদুলিল্লাহ আমার এমন হয়েছে যে, দোযখ কেমন, জান্নাত্ কেমন- আজকে যদি স্বচক্ষে জান্নাত দেখি আর জাহান্নাম দেখি তা হলে আমার প্রত্যয়ে বিন্দুমাত্র বৃদ্ধি ঘটবেনা। আমাদের কি সে রকম ঈমান? আখিরাতে উপর তাঁদের বিশ্বাস অত্যন্ত মজবুত, ইয়াক্বীন করে তাঁরা। সুদৃড়ভাবে বিশ্বাসী তাঁরা।
একটি কথা হল, তাওহীদ। এক আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস। কোন রকমে কোন কিছুর সঙ্গে তাঁর কোন শরীক করা যাবেনা। দুই, রাসুলদের উপর বিশ্বাস। যদি কেউ বলে, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ মানি কিন্ত তাঁর আগের নবীদের মানি না – তা হলে হবে না তার ঈমান।
كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓٮِٕكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ
‘সকল ঐশী কিতাবের উপর ঈমান, সকল পূর্ববর্তী নবী তাঁদের সবার উপর বিশ্বাস।‘ কেন? তাঁরা একই ইসলাম নিয়ে এসেছেন। যুগে যুগে আল্লাহ্‌ তাআলা একই ইসলাম পাঠিয়েছেন। সেই ইসলামেরই সর্বশেষ ধাপ হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আর এর মূল কথা, তোমার প্রতিপালক তোমাকে অহেতুক তৈরী করেননি। তোমাকে তাঁর সামনে দাঁড়াতে হবে, এ কথাটি যদি প্রত্যয় হয়, তাহলে আচরণ হবে ভিন্ন। একটি হচ্ছে বিশ্বাস আর একটি হচ্ছে প্রত্যয়। প্রত্যয় শব্দটি বাংলায় ব্যবহার হয় অনেক বেশী মজবুত বিশ্বাস বুঝানোর জন্য। যেমন দেখলে মনে হয় যে, এই দেখলাম। এই পর্যায়ের বিশ্বাস। সাহাবীকেরামগণ এই বিশ্বাসের পর্যায়ে গিয়েছিলেন। যার জন্য আলী(রাযিয়াল্লাহু আনহু) ঐ কথা বলতেন।

-হযরতের বয়ান সংকলন ‘ইসলামের দাবী ও আমাদের বাস্তব জীবন’ থেকে সংগৃহীত

Facebooktwitterpinterestmailby feather

আল্লাহ্‌র উপর এক্বীন

আল্লাহ্‌র উপর এক্বীন

হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) –এর বিখ্যাত গল্প। তিনি বলেন যে, আমি তখন সাহরানপুরে পড়তাম। তুর্কিদের খুব দুরবস্থা। প্রথম মহাযুদ্ধের কথা। তখন সাহরানপুরে খুব বড় একটা মিটিং হলো। ঐ মিটিঙে খুব দোয়া হলো তুর্কিদের জন্য। সবাই মিলে সম্মিলিত দোয়া হলো। সবাই চলে যাওয়ার পরে আমিও আল্লাহর কাছে মাঠের কোণার মধ্যে কান্নাকাটি করে একলা দোয়া করলাম। অনেকক্ষণ দোয়া করলাম। তিন দিন পর খবর এল যে, তুর্কিদের জয় হয়েছে। আমার মনে হলো আল্লাহ পাক আমার দোয়া  কবুল করেছেন। হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) – এর কথা এরকম শিশুর মত সরল; ‘আমার দিলে কয় আমার দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন। সবার সঙ্গে দোয়া করার পরে আমি যে আবার একলা আল্লাহ্‌র কাছে কেঁদেছি।‘ আল্লাহ্‌র উপর কী রকম তাঁর এক্বীন! কী রকম সহজ-সরল কথা!

-প্রফেসর হযরতের বয়ান সংকলন ‘ইসলামের দাবী ও আমাদের বাস্তব জীবন হতে সংগৃহীত

Facebooktwitterpinterestmailby feather

সময়

সময়

(৭৬ঃ১) هَلۡ اَتٰى عَلَى الۡاِنۡسَانِ حِيۡنٌ مِّنَ الدَّهۡرِ لَمۡ يَكُنۡ شَيۡـٴً۬ـا مَّذۡكُوۡرًا‏

‘এসেছিল কি মানুষের জীবনে এমন একটা সময়, যখন সে কোন আলোচ্য বস্তই ছিলনা?’ প্রশ্ন দিয়ে শুরু, আসেনি কি মানুষের জীবনে এমন একটা মুহুর্ত, when he was not an object of even discussion? তার সম্পর্কে আলোচনার কোন প্রশ্নই আসতনা। আজ থেকে সত্তর-আশি বছর আগে কেমন ছিল আমাদের অবস্থা? আমরা কোন আলোচ্য বস্তই ছিলাম না!

আল্লাহ বলেন,

(৭৬ঃ২)  اِنَّا خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ نُّطۡفَةٍ اَمۡشَاجٍۖ نَّبۡتَلِيۡهِ فَجَعَلۡنٰهُ سَمِيۡعًۢا بَصِيۡرًا‏

‘আমি মানুষকে তৈরী করেছি  from mixed drops’. এখানে mixed drops মানে কি? এই নিয়ে তাফসিরকারকরা অনেক আলোচনা-চর্চা করেন। আমি এর মধ্যে যাচ্ছিনা। কুরআনের শাব্দিক তরজমা এরকম। তারপর তিন নম্বর আয়াত,

نَّبۡتَلِيۡهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيۡعًۢا بَصِيۡرًا‏

‘আমি তাকে পরীক্ষা করি। আমি তাকে দিয়েছি শোনার শক্তি, দেখার শক্তি।’ এটি হলো সূরা দাহর। The name of the sura is ‘Time’ because it starts with the word, দাহর  । O the readers of A Brief History Of Time!  look at the word, Allah has chosen! সূরার নাম কি? দাহর। অর্থ কি? কাল (Time)। দেয়ালে দেয়ালে লেখা নেই, সময়ের সাহসি সন্তানেরা-এখন যৌবন  যার, যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার। আর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এখন যৌবন যার, আল্লাহকে খুশী করার শ্রেষ্ঠ সময় তার। যিনি এ সত্তা দিয়েছেন, যিনি এ অস্তিত্ব দিয়েছেন, তাকে চেনা, তাকে জানা, তাকে অনুভব করা। সুতরাং সূরা দাহরে দাহর শব্দের মানে Time. কিন্ত একই Time শব্দ দ্বারা আল্লাহ সূরা জাসিয়ার মধ্যে অবিশ্বাসীদের কথা নকল করছেন,

مَا هِىَ اِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنۡيَا نَمُوۡتُ وَنَحۡيَا وَمَا يُهۡلِكُنَاۤ اِلَّا الدَّهۡرُ‌ؕ

‘এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কোন জীবন নেই। আমরা এখানেই মরি, এখানেই বাঁচি। কাল ছাড়া আর কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করে না।’ মানে ঐখানে time was ordinary time, আর এখানে time means my killer. সময় ছাড়া আর কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করে না। nothing but time destroys us। সময়ের সংগেই আমাদের আগমন, সময়ের সংগেই আমাদের যাত্রা, শেষ। খালাস। কিন্ত সে একদম ভুলে যায়- আল্লাহ বলেন,

(৩৯ঃ৭৭-৭৮)اَوَلَمۡ يَرَ الۡاِنۡسَانُ اَنَّا خَلَقۡنٰهُ مِنۡ نُّطۡفَةٍ فَاِذَا هُوَ خَصِيۡمٌ مُّبِيۡنٌ‏ ﴿﴾ وَضَرَبَ لَـنَا مَثَلًا وَّ نَسِىَ خَلۡقَهٗ‌

‘মানুষ কি দেখে না যে, নিশ্চই আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী। সে আমার সম্পর্কে এক অদভুত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে ভুলে যায় তার সৃষ্টিকে।’ He forgets his creation. তাকে আমি এক ফোঁটা বীর্য থেকে তৈরী করেছিলাম। মায়ের পেটের অন্ধকারে আমি তাকে তৈরী করেছিলাম।

(৩৯ঃ৬)خَلۡقًا مِّنۡۢ بَعۡدِ خَلۡقٍ فِىۡ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ‌

Creation after creation in the midst of three darkness, এই রকম অবস্থায় তাকে আমি তৈরী করেছিলাম। তার চোখ, তার কান, তার নাক – যেগুলো নিয়ে সে দুনিয়াতে ঘুরে বেড়ায়, গর্ব করে, সেই faculty গুলো আমি তৈরী করেছি কোথায়? কিন্ত সে আমারই সামনে প্রকাশ্যে ঝগড়া করে।

(৩৬ঃ৭৮)قَالَ مَنۡ يُّحۡىِ الۡعِظَامَ وَهِىَ رَمِيۡمٌ‏

সে বলে, এসব হাড়গোড় মাটিতে মিশে গেলে আবার কে এগুলোকে সৃষ্টি করবে?’

-হযরতের বয়ান সংকলন ‘তাযকিরাতুল আখিরাহ’ থেকে সংগৃহীত

Facebooktwitterpinterestmailby feather

মসজিদে মহিলাদের গমন

হযরত বলেন, এক মহিলা সাহাবা বলেন, ‘মসজিদে নববীর বেড়া খেজুর পাতার বেড়া। আমার বাড়ির বেড়া ছিল মসজিদের বেড়ার পর। আমি দুপুর বেলার রুটি বানানোর জন্য আটা গুলতাম। এই সময় জুমার জামাত দাঁড়াত। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার বয়ানের মধ্যে বলতে গেলে পুরো সূরা ক্বাফ আবৃত্তি করতেন। তাঁর মুখে শুনে শুনে আমার সূরা ক্বাফ মুখস্থ হয়েছে।’ এখান থেকে একটা বিষয় বের হয়। মসজিদের পাশেই মহিলা সাহাবি। তিনি কেন পুরুষের সাথে নামাযে আসলেন না। আমরা মসজিদে মহিলাদের জন্য পৃথক ঘর বানাই। এজন্য যদি নামাযের ঘর বানানো হয় যে পথিক মহিলারা নামাযের জন্য জায়গা পান না, তাহলে ঠিক আছে। কিন্ত আমরা যেভাবে ঢালাও ভাবে Encourage করি, এটা নাই।

Facebooktwitterpinterestmailby feather