Category Archives: Uncategorized

মালফুযাত সংকলন-৭

বিয়ের ইযিন

হযরত বলেন, ‘এক বিবাহের অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। সেখানে বিবাহের সময় ইযিন নেয়ার জন্য মেয়েপক্ষের সাথে ছেলেপক্ষের একজনকে পাঠানোর কথা বলল। অথচ এটা শরীয়ত সমর্থিত নয়। তাদের বলা হল, ছেলেপক্ষের কেউ কনেকে দেখতে পারবে না। কারণ, পর্দার মাসআলা। অথচ তারা বলে উঠল যে, ছেলে পক্ষের একজন থাকলে মেয়ের ভবিষ্যতটা কত ভাল হয়! অথচ এ কথার কোন ভিত্তি নেই।’

ইসালে সওয়াব

হযরত বলেন, হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, ‘তোমার যদি পিতামাতার জন্য ইসালে সওয়াব করতে মনে চায় বা দান করতে ইচ্ছে করে, তবে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে রাতের অন্ধকারে বের হয়ে গরীব দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দাও। তারপর মনে মনে বল- আল্লাহ! এর সওয়াব আমার আব্বা আম্মার কবরে পৌঁছে দিন। এটা সাথে সাথে পৌঁছে যাবে। দু’আর জন্য হাত উঠানো বা জায়নামাযে বসা জরুরী নয়। আল−াহ পাকের কাছে সরাসরি বলাই দু’আ।’

জবানের জিকির

হযরত বলেন, ‘হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বারবার বলতেন, কলবের যিকিরের চেয়ে জবানের যিকিরের দাম বেশি। তাই জবানকে জোরপূর্বক যিকিরে লাগিয়ে রাখতে হবে। কুরআনের যতটুকুই মুখস্থ আছে ততটুকুই বারবার পড়তে হবে।’

আদব

মাদরাসার একজন তালেবে ইলম লেখাপড়ার খাতার উপর একটা ব্যাগ রাখলে হযরত তাকে সতর্ক করে বলেন, ‘এটা আদবের খেলাফ। কাগজের সম্মান করা চাই।’

সূরা ইয়াসিন

গাড়িতে মাদরাসার এক ছাত্রকে সূরা ইয়াসীনের একটি আয়াত থেকে তিলাওয়াত করতে বললেন। ছাত্রটি বলল, ‘আমি হাফেয নই।’ হযরত বললেন, ‘সূরা ইয়াসীন প্রত্যেকের মুখস্থ থাকা চাই। প্রতিদিন পড়া চাই।’ অন্য একজন সূরা ইয়াসীন শোনালেন।

মক্কা বিজয়ের কৃতিত্ব

হযরত বলেন, ‘মক্কা বিজয়ের দিন। একুশ বছর কষ্ট-নির্যাতনের পর বিজয়ীর বেশে  আল্লাহর রাসূল (সাল্লা্ল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় প্রবেশ করছেন। কিন্তু নিজের কোন কৃতিত্ব জাহির করছেন না। বললেন,

لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَه‘ اَنْجَزَ وَعْدَه‘ وَنَصَرَ عَبْدَه‘وَهَزَمَ الْاَحْزَابَ وَحْدَه‘

‘আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। একই এক তিনি। তিনি তার ওয়াদা পূরণ করেছেন। তিনি তার দাসকে সাহায্য করেছেন। সকল বিরুদ্ধ শক্তিকে একাই পরাভূত করে দিয়েছেন তিনি।’ কি অপূর্ব শব্দচয়ন!’

সালাম-মুসাফা

একবার হযরতের সাথে মুসাফাহা করার জন্য মাদরাসার ছাত্ররা সারিবদ্ধ হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছে। হযরত বললেন, ‘মুসাফাহা করার আগে আস্সালামু আলাইকুম (اَسْلَامُ عَلَيْكُمْ) বলতে হবে। মুসাফাহা করার সময় দু’আ ইয়াগফিরুলাহু লানা ওয়া লাকুম (يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَلَكُمْ) পড়বে। আর মুসাফাহা শেষ করে যাবার সময় আস্সালামু আলাইকুম বলবে।’

অসুস্থ ব্যক্তির তিন আমল

হযরত বলেন, ‘কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তিনটি কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। এক. সুন্নাতের নিয়তে ডাক্তারের ঔষধ খাওয়া। দুই. কোন আল−াহওয়ালার দু’আ নেওয়া এবং তিন. নিজে কোন আমল করা।’

মুসলমান হবার নেয়ামতের শুকরিয়া

হযরত বলেন, খাবার খাওয়ার শেষে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শেখানো একটা দু’আ আছে,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ

‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে খাওয়ালেন, পান করালেন এবং মুসলমান করেছেন।’ এই দু’আর প্রথম অংশ, সকল প্রশংসা তার জন্য যিনি আমাদের খাওয়ালেন, পান করালেন, বোঝা গেল। কিন্তু তারপরে, ‘তিনি আমাদের মুসলমান বানিয়েছেন’ – এটা খাওয়ার দুআর মধ্যে কেন?

আমার সৌভাগ্য হয়েছে হরদুঈ যাবার। হরদুঈ হযরত কথায় কথায় বললেন, ‘আমার বয়স যখন এগার-বার, তখন আমার আব্বার সাথে আমি হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির দরবারে গিয়েছিলাম। আমার আব্বা প্রশ্ন করলেন, ‘হযরত, খাওয়ার দু’আর মধ্যে ‘আমাদের মুসলমান বানানো হয়েছে’ একথা ভরে দেয়া হল কেন?’ তখন হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, ‘যে নেয়ামত বোঝা যায় না, তা আল্লাহ তা’আলা সহজবোধ্য নেয়ামতের সাথে ভরে দিয়েছেন।’

যখন ক্ষুধা লাগে, তখন খাবার খেলে নেয়ামতটা সঙ্গে সঙ্গে বুঝা যায়। পানির পিপাসায় পানি খেলে মনে তৃপ্তি লাগে। তখন এমনিতেই শুকরিয়া আদায় করি আমরা। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা মুসলমান বানিয়ে যে কি নেয়ামতে আমাদেরকে ধন্য করেছেন, এটা সহজে বুঝে আসে না। এটা খাবার আর পানীয় থেকে অনেক বেশি মর্যাদার নেয়ামত। এজন্য তাকে ধন্যবাদ দেই না আমরা। আমরা তার শুকরিয়া আদায় করতে ভুলে যাই। আল্লাহ খাবারের দু’আর মধ্যে আমাদের অজান্তেই এ শুকরিয়া ভরে দিয়েছেন।

ঘুম থেকে উঠার দু’আ

হযরত বলেন, হুযুুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর শেখানো বিভিন্ন অবস্থার মাসনূন দু’আসমূহ শিখে নেয়া চাই। ঘুম থেকে উঠে পড়া-

اَلْحَمْدُ للهِ الّذِي أحْيَانَا بَعَدَ مَا أَمَاتَنَا وَإلَيْهِ النُّشُورُ

মুয়াশারাত। নারীদের সাথে উত্তম আচরণ

হযরত বলেন, কুরআন পাকে সূরা আলে ইমরানের বিখ্যাত আয়াত,

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ৩:৩১

‘বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে  আল্লাহও তোমাদেরকে ভালবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।’ আল্লাহ তা’আলা যেন শব্দ তুলে দিচ্ছেন রাসূলের মুখে। উলামায়ে কেরাম আমাদেরকে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে অনুসরণ করতে হবে পাঁচটি বিষয়ে। এক. আকীদা অর্থাৎ মৌলিক বিশ্বাস্য বিষয়। দুই. ইবাদত। তিন. ম্আুমালাত অর্থাৎ লেনদেন, কাজ-কারবার, হালাল রোজগার। চার. মুআশারাত অর্থাৎ মানুষের সাথে ব্যবহার। পাঁচ. আখলাক বা অভ্যন্তরীণ চরিত্র। সাধারণত সবাই দুই নম্বর শাখা ইবাদতের দিকে নজর দেয়। দাড়ি রাখে, টুপি পরে, পর্দা করে, নামায পড়ে, রোযা রাখে, হজ করে। কিন্তু কামাই- রোজগার হালাল আছে কিনা খেয়াল করে না। আর চার নম্বর শাখার প্রতি অবহেলা সবচেয়ে বেশি। স্ত্রীর সাথে ব্যবহার, সন্তানের সাথে ব্যবহার, পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে ব্যবহার। হযরত থানভী  রাহমাতুল্লাহি আলাইহি মুয়াশারাতের কথা বেশি বেশি বলতেন অর্থাৎ চারপাশের মানুষের সাথে আমাদের আচরণ কেমন? অন্তরের আমলের প্রধান উদাহরণ- নিয়ত। সব আমলের মগজ হচ্ছে পাঁচ নম্বর। আমি ভাল তুমি খারাপ, এটা অন্তরের রোগ।’

হযরত বলেন, কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা’আলা নারীদের সম্পর্কে অনেক কথা বলেছেন। সূরা নিসার আয়াত,

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا৪:১৯

‘নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন।’

হযরত বলেন, ‘এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আমি বললাম, এখানে  আল্লাহ যেন পুরুষদের সাথে মেয়েদের ভাল ব্যবহার করার জন্য সুপারিশ করেছেন। একজন আলেম বললেন, ‘আপনার ব্যাখ্যা আমার কাছে পছন্দ হয়নি। আল্লাহ  কেন মানুষকে সুপারিশ করতে যাবেন?’ তখন আমি করাচীর হযরত হাকীম আখতার সাহেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কথা নকল করলাম। জামাইকে শ্বশুর খুব ভাল মেহমানদারী করেন। উদ্দেশ্য, আমার মেয়েটা আপনার ঘরে। তার সাথে একটু ভাল ব্যবহার করবেন। সেই আলেম এবার আমার কথা শুনে বললেন, ‘এই ব্যাখ্যা এখন আমার কাছে ভাল লাগছে।’

শোকর আদায় কর যে, তুমি সুস্থ আছো     

একজন ডাক্তার সাহেবকে ফোন করা হল। তার বাসার সবাই অসুস্থ। হযরত বললেন, ‘আল−াহর শোকর আদায় কর যে, তুমি সুস্থ আছো। তুমিও যদি অসুস্থ হয়ে পড়তে তবে কেমন হত! হরদুঈ হযরত বলতেন, ‘সোচো! আওর বী বুরা হো সাকতা!’ কতবার যে হরদুঈ হযরতের মুখে এ কথা শুনেছি!’

বখশিশ

একদিন হোটেলের বিল পরিশোধ করার সময় ক্যাশিয়ার পঞ্চাশ টাকার নোট ফেরত দিল। হযরত বললেন, ‘না, ভাংতি দিন, হোটেল বয়কে বখশিশ দেবো।’ পরে হযরত আমাদের বললেন, ‘আমরা যারা টুপি পরি তারা সাধারণত হোটেল বয়দের বখশিশ দেই না। তারা মনে মনে ভাবে হুযুুররা কৃপণ।’

মাওলানাদের সাথে হাশর

একবার হযরত অসুস্থ ছিলেন। দেখতে গেলাম। বললাম, ‘রাজশাহী গিয়েছিলাম। পদ্মার পাড়ে আপনার মক্তব দেখে এসেছি।’ হযরত শুনে খুব খুশি হলেন। হেসে বললেন, ‘মক্তবের উস্তাদ ফোন দিয়েছিল। বলল, মাওলানা হেমায়েত সাহেব এসেছিলেন।’ হযরত আরও  বললেন, ‘আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে মাওলানাদের সাথে হাশর নসিব করুন।’ হযরতের কাছে সব সময়ই উলামায়ে কেরামের মর্যাদা সবার উপরে।

অসুস্থতার দু’আ

একবার হযরত অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তাকে দেখার জন্য গিয়েছি। হযরত এই দু’আটা পড়তে বললেন,

اَسْاَ لُ اللهَ الْعَظِيْمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ اَنْ يَّشْفِيَكَ

‘আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, যিনি আরশে আযীমের অধিপতি, যেন তিনি তোমাকে সুস্থতা দান করেন।’ হাদীস শরীফে এসেছে, এ দু’আর বরকতে দ্রুত সুস্থতা লাভ হয়।  মোবাইল ফোনে কেউ খোঁজখবর নিলে তাকেও এই দু’আ পড়ার জন্য বলতেন। একটু পর আযান হয়ে গেল। হাসপাতালে নামাযের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু হযরত আমাদেরকে কাছাকাছি কোন মসজিদের জামাতে হাজির হবার হুকুম দিলেন।

মক্তবের সাথে আছে আল্লাহ পাকের মদদ

একবার আমি (সংকলক) হযরতের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। কথা প্রসঙ্গে মক্তবের কথা উঠলো। বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় খ্রীষ্টান মিশনারীরা লোকজনদের ধর্মান্তরিত করছে। হযরত বললেন, ‘খ্রীষ্টানদের অপতৎপরতার বেলায় মক্তব হচ্ছে বুলেটের মত। খ্রীষ্টানদের আছে টাকার শক্তি। আর মক্তবের সাথে আছে কুরআন পাকের তালীম আর আল্লাহ পাকের মদদ।’

ওযু

হযরত বলেন, অযুর সময় কেউ যদি হাত পানিতে ভিজিয়ে চেহারা মুছতে থাকে, তবে তার অযুু হবে না। মাসআলা হচ্ছে, অযুর পানি চেহারায় গড়িয়ে পড়তে হবে। পানি একফোঁটা হলেও গড়িয়ে পড়তে হবে।

অপাত্রে খরচ

হযরত বলেন, ‘আমাদের বিক্রমপুরে এক এমপির ছোট ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এমপির ভাই গ্রামের একজন ব্যবসায়ী। বিয়েতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে। মানুষের কাছে টাকা আছে, অপাত্রে খরচ হচ্ছে। শুধুমাত্র যাদের উপর আল্লাহর খাস রহমত আছে, তারাই দ্বীনের কাজে খরচ করতে পারে।’

হজে যাবার দু’আ

এক ভাই এসে হযরতকে বললেন, ‘আমি হজে যেতে চাই।’ হযরত বললেন, এই দু’আ বেশি বেশি পড়বেন,

اللهم ارْزُقنِي حَجَّ بَيْتِكَ الْحَرام

‘হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার সম্মানিত ঘরের হজ করার করার তাওফীক দান করুন।’

সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত আর তিন কুল

সন্ধ্যার পর সূরা হাশরের শেষের তিন আয়াত পড়া হল। তিন কুল পড়া হল। হযরত বললেন, ‘সকাল সন্ধ্যায় এসব আমল করার জন্য হুযুুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন। এগুলো কুরআন শরীফের আয়াত। আর কুরআন পাক তিলাওয়াতের পর দু’আ কবুল হয়।’ এরপর সবাই মিলে দু’আ করা হল।

বিকৃত দরুদ

যারা সম্মিলিতভাবে মীলাদে দরূদ পড়ে, তারা সুর করে ‘মুহাম্মাদ’ পড়ে। ‘হা’ উচ্চারণে মদ করে। হযরত শাইখুল হাদীস আজীজুল হক রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে এটা শক্ত বেয়াদবী। কারণ এতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম বিকৃত হয়ে যায়।

Facebooktwitterpinterestmailby feather

দ্বীনি মাহফিল

হযরত বলেন, দ্বীনি মাহফিল সম্পর্কে হাফেজ্জী হুযুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, আল্লাহর দিকে চেয়ে আল্লাহর বান্দাদের সামনে সাদাসিধা কিছু কথা বলেন। তারপর দু‘আ করে দেন। আলোচনা ভুল ত্রুটি হয়েছে, এজন্য আল্লাহ নিজেই দু‘আ শিখিয়েছেন :

رَبَّنَاتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের কাছ থেকে কবুল করুন। আমরা যে কাজ করলাম সেটাকে গ্রহণ করুন।

رَبَّنَالَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا

হে আমাদের প্রতিপালক, যদি ভুলে যাই, যদি ভুল হয়ে যায়, আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।

رَّبَّنَاإِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُّنَادِيْ لِلْإِيْمَانِ أَنْ اٰمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا

হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা একজন আহ্বানকারীকে বলতে শুনেছি তিনি আমাদের আহ্বান করে বলেছেন, তোমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আন। তাই আমরা ঈমান এনেছি।

কোন সাইন্স (ঝপরবহপব), কোন জ্ঞান (কহড়ষিবফমব), কোন ফিলোসফি (চযরষড়ংড়ঢ়যু)-এর উপর ভিত্তি করে না। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার উপর আমরা বিশ^াস করি। তারপর আছে,

رَبَّنَافَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ

আল্লাহ তা‘আলাই আমাদের মাফ করে দেন। আমাদের পূর্ববর্তী গোনাহগুলোকে ঢেকে দেন। নেককারদের সঙ্গে আমাদের মৃত্যু দেন।

Facebooktwitterpinterestmailby feather