Scholars of Islam

আমাদের বাংলাদেশের কবি গোলাম মোস্তফা সূরা ফাতিহার বাংলা তরজমা করেছেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছে স্কুল জীবনে একজন হেডমাস্টার পেয়েছিলাম। ঢাকার খুব গরীব স্কুল। ইসলামিয়া হাই স্কুল। হেডমাস্টার সাহেবের নাম ছিল আব্দুল বারী। ইংরেজি পড়াতেন। কিশোরগঞ্জে বাড়ি। তিনি পড়াতেন ইংরেজি, আর তাঁর পরনে পায়জামা ছিল হাঁটু আর টাকনুর মাঝখানে। তিনি হযরত মাওলানা আতহার আলী (রহঃ) সাহেবের মুরিদ ছিলেন। মাওলানা আতহার আলী (রহঃ) মাওলানা আবরারুল (রহঃ) সাহেবের মতো মাওলানা আশরাফ আলি থানভী (রহঃ) এর খলিফা ছিলেন। তার বাড়ি ছিলো সিলেটে। পরে রওজা হয়েছে ময়মনসিংহে। আমাদের মধ্যে স্কুলে দ্বীনের অনুভূতি বাড়ানোর জন্য আমাদের সেই হেডমাস্টার সাহেব খুব চেষ্টা করতেন। তিনি পড়াতেন ইংরেজি কিন্তু ক্লাসের মধ্যে কেবলই আওড়াতেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা।

আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে
সকল অহংকার হে আমার ডুবাও হে চোখের জলে

এ কথা যে কত ইংরেজি ক্লাসে শুনেছি তার সীমা নেই। তিনি আমাদেরকে খুবই গোলাম মোস্তফা সাহেবের সূরা ফাতিহার তরজমা শুনাতেন। কবি গোলাম মোস্তফার নাম বাংলা সাহিত্যে কম পাওয়া যায়। তাঁকে চিহ্নিত করা হয় সাম্প্রদায়িক কবি হিসেবে। কেন তিনি সাম্প্রদায়িক কবি? কারণ হিসেবে বলা হয়, কেন তিনি সূরা ফাতিহার তরজমা করলেন? কেন তিনি ‘বিশ্ব নবী’ লিখলেন? আল্লাহ, আল্লাহর রাসূলের কথা বললে আপনি সাম্প্রদায়িক। তাঁদের কথা না বলবেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলবেন, তাহলে আপনি বুদ্ধিজীবী। গোলাম মোস্তফা সাহেব সাম্প্রদায়িক কবি। যাক সেটি ভিন্ন জিনিস। তার লেখা সূরা ফাতিহার তরজমা আমাদের হেডমাস্টার সাহেব সুর দিয়ে আবৃত্তি করে শোনাতেন-
সরল সঠিক পূর্ণ পন্থা মোদের দাও গো বলি
চালাও সে পথে যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি

এখন আল্লাহর প্রিয়জন কারা? কুরআনের সূরা নিসার আয়াতে এটির ব্যাখ্যা রয়েছে। One verse of the Quran is explained by many other different verses of the Quran. এটির ব্যাখ্যা আল্লাহ সূরা নিসায় দিয়েছেন, আল্লাহ তাআলার নেয়ামত প্রাপ্ত কারা? তাদের কথা আল্লাহ বলছেন,

وَمَنۡ يُّطِعِ اللّٰهَ وَالرَّسُوۡلَ فَاُولٰٓـئِكَ مَعَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰهُ عَلَيۡهِمۡ مِّنَ النَّبِيّٖنَ وَالصِّدِّيۡقِيۡنَ وَالشُّهَدَآءِ وَالصّٰلِحِيۡنَ​ ۚ

‘আর যে কেউ আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তা হলে যাদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ।’

সুতরাং নবীদের পথ, সিদ্দিকীনের পথ, খাঁটি বিশ্বাসী এবং সাধারণ বিশ্বাসীদের মধ্যে যারা উচ্চ স্তরের এবং যারা শহীদ তারাই হলেন নেয়ামত প্রাপ্ত। এজন্য আল্লাহর পথে চলার ব্যাপারে আমাদেরকে বারবার তাকাতে হবে পিছনে। মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি করেছিলেন? তাঁর সাহাবীরা কি করেছিলেন? সাহাবীদের পরবর্তীতে যারা, তাঁদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ এর সার্টিফিকেট,

خير أمتي قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم
[বুখারী শরিফ – ৬১৫৯]

“সর্বোত্তম হচ্ছে আমার সঙ্গীরা। Then the pyramid is coming down. মানে He is at the pinnacle. তাঁর পরে যারা, তাঁদের পরে যারা। তাঁদের পরে যারা…। ” তাঁদেরকে অবজ্ঞা করে, তাঁদেরকে ডিঙ্গিয়ে আমাদের খুশিমতো ইসলামকে ব্যাখ্যা করবো, তাতে দুনিয়া আমাদের বাহবা দিতে পারে কিন্তু আল্লাহ তা’আলার কাছে তা গ্রাহ্য হবে না। এরকম স্কলার ইসলামে অনেক আছে, যাদেরকে সারা দুনিয়া বলে, most learned persons in Islam. কিন্তু আমাদের রক্ষণশীল উলামায়ে কেরাম বলেন, তারা ঐ পথে চলেনি। তারা রাসূলের পথ ধরেনি। সাহাবীদের পথ ধরেনি। সাহাবীদের পরবর্তী তাবেঈনদের পথ ধরেনি সেজন্য আমাদেরকে বারবার মনে রাখতে হবে সিরাতাল মুস্তাকিম এর মাপকাঠি কী? সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম – তাঁদের পথ যারা আল্লাহর প্রিয়জন। আল্লাহর সুচিহ্নিত প্রিয়জন। তাঁদেরকে ডিঙিয়ে তাঁদেরকে অবজ্ঞা করে চলবো, হতেই পারে না। এটি চলার নামে চেষ্টা হবে, প্রয়াস হবে কিন্তু ব্যর্থ প্রয়াস। এজন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ১৪০০ বছর আগে আল্লাহর এই দ্বীন সম্পর্কে পরিষ্কার কথা বলে দিয়েছেন, আমি চলে যাব। আর আমার উত্তরাধিকারী হচ্ছে ওলামায়ে কেরাম, The scholars of Islam.

[প্রফেসর হযরতের বয়ান সংকলন – ‘ইসলামের দাবি ও আমাদের বাস্তব জীবন’ থেকে সংগৃহিত]

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.