Tag Archives: দু’আ

রেল স্টেশন

থানাভৌনে কোন রেল স্টেশন  ছিলনা। তিন মাইল দূর থেকে হেঁটে আসতে হতো। এতে খানকায় গমনাগমনকারীদের কষ্ট হতো। প্রফেসর হযরত বলেলন, ‘হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির মালফুযাতে আছে, হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি থানাভৌনে একটা রেল স্টেশনের জন্য ক্রমাগত বিশ বছর দু’আ করেছেন। তারপর সে দু’আ কবুল হয়েছে। তখন তার মুরীদরা কি দেখে নাই যে, তাদের শায়েখ বছরের পর বছর দু’আ করেছেন, অথচ তা কবুল হচ্ছে না। তারপরও থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি দু’আ করা বন্ধ করেননি। ক্রমাগত বিশ বছর দু’আ করেছেন।

আল্লাহ্‌র উপর এক্বীন

আল্লাহ্‌র উপর এক্বীন

হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) –এর বিখ্যাত গল্প। তিনি বলেন যে, আমি তখন সাহরানপুরে পড়তাম। তুর্কিদের খুব দুরবস্থা। প্রথম মহাযুদ্ধের কথা। তখন সাহরানপুরে খুব বড় একটা মিটিং হলো। ঐ মিটিঙে খুব দোয়া হলো তুর্কিদের জন্য। সবাই মিলে সম্মিলিত দোয়া হলো। সবাই চলে যাওয়ার পরে আমিও আল্লাহর কাছে মাঠের কোণার মধ্যে কান্নাকাটি করে একলা দোয়া করলাম। অনেকক্ষণ দোয়া করলাম। তিন দিন পর খবর এল যে, তুর্কিদের জয় হয়েছে। আমার মনে হলো আল্লাহ পাক আমার দোয়া  কবুল করেছেন। হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) – এর কথা এরকম শিশুর মত সরল; ‘আমার দিলে কয় আমার দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন। সবার সঙ্গে দোয়া করার পরে আমি যে আবার একলা আল্লাহ্‌র কাছে কেঁদেছি।‘ আল্লাহ্‌র উপর কী রকম তাঁর এক্বীন! কী রকম সহজ-সরল কথা!

-প্রফেসর হযরতের বয়ান সংকলন ‘ইসলামের দাবী ও আমাদের বাস্তব জীবন হতে সংগৃহীত

ইসালে সওয়াব

হযরত বলেন, হযরত থানভী (রাঃ) বলতেন, ‘তোমার যদি পিতামাতার জন্য ইসালে সওয়াব করতে মনে চায় বা দান করতে ইচ্ছে করে, তবে পাচঁ হাজার টাকা নিয়ে রাতের অন্ধকারে বের হয়ে গরিব দুঃখিদের মাঝে বিলিয়ে দাও। তারপর মনে মনে বল- আল্লাহ! এর সওয়াব আমার আব্বা আম্মার কবরে পৌঁছে দিন। এটা সাথে সাথে পৌঁছে যাবে। দু’আর জন্য হাত উঠানো বা জায়নামাজে বসা জরুরি নয়। আল্লাহ পাকের কাছে সরাসরি বলাই দু’আ**।’

– হযরতের বাণী সংকলন ‘আত্মশুদ্ধির পাথেয়’ হতে সংগৃহীত

** মৌলিকভাবে হাত উঠানো জরুরি না হলেও দু’আর সুন্নাত ও আদবসমূহের মধ্যে হাত উঠানোর কথাও এসেছে। দু’আর সুন্নাত ও আদবসমূহ বিস্তারিত  জানতে নির্ভরযোগ্য উলামায়ে কেরামের পরামর্শ নিন।